নিয়ন্ত্রক ও অর্থায়নের বাধায় কোম্পানিগুলো বিদেশে বাণিজ্যিক যাত্রা শুরু করায় কৃষি-খাদ্য উদ্ভাবনে নেদারল্যান্ডসের বৈশ্বিক নেতৃত্ব ঝুঁকিতে পড়েছে। ইনভেস্ট-এনএলের (Invest-NL) নতুন এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে।
প্রতিবেদন বলছে, ইউরোপে জৈব ফসল সুরক্ষা পণ্যের অনুমোদনে আট থেকে দশ বছর লাগতে পারে। তাই উদ্ভাবনী কোম্পানিগুলো আগে ব্রাজিল ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো বাজারে যাচ্ছে। বর্তমান কাঠামো মূলত রাসায়নিক পণ্যের জন্য তৈরি, জৈব বিকল্পের বৈশিষ্ট্য তাতে সব সময় প্রতিফলিত হয় না।
সংস্থাটির হিসাবে, পণ্য দ্রুত বাজারে নিতে ও বড় পরিসরে উৎপাদন করতে পারলে ডাচ কৃষি-খাদ্য জৈবপ্রযুক্তি কোম্পানিগুলো ২০৪০ সালের মধ্যে বছরে বাড়তি ১৭০০ কোটি ইউরো আয় করতে পারত।
একটি উদাহরণ আইন্ডহোভেনের ভাইটালফ্লুইড (VitalFluid)। বালাইনাশক ছাড়াই ছত্রাকজনিত রোগ দমনের প্রযুক্তি এনেছে কোম্পানিটি, যা যুক্তরাজ্যের স্ট্রবেরি চাষিদের কাছে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার শুরু হয়েছে। প্রধান নির্বাহী এরিক হার্টেল (Erik Hertel) বলেন, ডাচ কৃষকেরাও এটি চান, কিন্তু ব্রাসেলসের অনুমোদন এখনো মেলেনি। ইনভেস্ট-এনএল জানায়, কোম্পানির সংগ্রহ করা ১ কোটি ৭০ লাখ ইউরোর মাত্র প্রায় ২০ লাখ নেদারল্যান্ডসে খরচ হচ্ছে।
আরেকটি উদাহরণ প্রিসিশন ফারমেন্টেশন কোম্পানি ভিভিচি (Vivici), যারা ইউরোপের অনুমোদনের অপেক্ষায় থেকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রোটিন বিক্রি করছে। প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা মার্সেল ভুবোল্টস (Marcel Wubbolts) বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে প্রক্রিয়াটি বড়জোর এক বছরের; ইউরোপে আইনি ন্যূনতম সময় ১৭ মাস, আর তিন বছরের মধ্যে বাজারে পৌঁছেছে এমন কাউকে তিনি চেনেন না। ভিভিচি ভারতে বড় পরিসরে উৎপাদন করছে, ২০২৫ সালে তোলা ৩ কোটি ২৫ লাখ ইউরোর প্রায় এক-চতুর্থাংশ সেখানে বিনিয়োগ হচ্ছে।
প্রতিবেদন বলছে, সমস্যার আরেক দিক অর্থায়ন। প্রথম বাণিজ্যিক ফারমেন্টেশন কারখানা গড়তে কয়েক কোটি থেকে কয়েকশ কোটি ইউরো লাগতে পারে। ইনভেস্ট-এনএল জৈব পণ্যের জন্য দ্রুত ও উপযুক্ত নিয়ন্ত্রক পথ, পরীক্ষার সুবিধায় বেশি প্রবেশাধিকার এবং প্রথম ধরনের কারখানার ঝুঁকি কমাতে বেশি সরকারি সহায়তা চেয়েছে।
ছবি: Philip Halling / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.0)
সূত্র: AgNavigator





মন্তব্য
(০)