ভারতের চিনি প্রস্তুতকারক ধামপুর বায়ো অর্গানিকস (Dhampur Bio Organics, ডিবিও) সুইজারল্যান্ডের ফার্মেন্টেশন স্টার্টআপ প্ল্যানেটারির (Planetary) সঙ্গে ১০ বছরের চুক্তি করেছে। চিনি ও চিটাগুড় থেকে মাইকোপ্রোটিন (ছত্রাকজাত প্রোটিন) এবং অন্যান্য প্রোটিন ও আঁশজাতীয় উপাদান তৈরি করা হবে বলে জানিয়েছে গ্রিন কুইন। জানুয়ারি থেকেই দুই প্রতিষ্ঠান প্রযুক্তি-লাইসেন্স নিয়ে আলোচনা করছিল।
প্ল্যানেটারির বায়োব্লকস প্ল্যাটফর্মের বায়োমাস ও প্রিসিশন ফার্মেন্টেশন প্রযুক্তি দিয়ে উৎপাদন কারখানা বানিয়ে চালাবে ধামপুর। প্রযুক্তি দেবে প্ল্যানেটারি, তৈরি পণ্যও কিনবে তারাই; আরও বিক্রি ও ক্রয়চুক্তির জন্য দুই পক্ষ একটি যৌথ উদ্যোগ গড়ার পরিকল্পনা করছে। বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জে ধামপুরের দাখিল করা নথি অনুযায়ী, প্রতি প্রান্তিকে করপরবর্তী আয়ের ১০ শতাংশ রয়্যালটি এবং প্রকৌশল, স্থাপন, চালু করা, প্রশিক্ষণ ও ডেটা প্ল্যাটফর্ম বসানোর এককালীন ফি দেবে ধামপুর। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, চিনি ও চিটাগুড়কে কাঁচামাল করে এই প্রযুক্তি তাদের বিদ্যমান ব্যবসারই সম্প্রসারণ।
প্ল্যানেটারির প্রথম লক্ষ্য বায়োমাস-ফার্মেন্টেড মাইকোপ্রোটিন। চিনি-সমৃদ্ধ কিন্তু প্রোটিন-ঘাটতির দেশগুলোর শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারত্বে উৎপাদন খরচ কেজিপ্রতি ১ ডলারের নিচে নামাতে চায় তারা; চিনিকলের কম দামের উপজাতকে বেশি দামের প্রোটিন, আঁশ ও এনজাইমে রূপ দেওয়াই তাদের মডেল। তাদের অন্য চিনি-অংশীদারদের মধ্যে আছে সুইজারল্যান্ডের শোয়াইৎসার ৎসুকার ও নেদারল্যান্ডসের সমবায় রয়্যাল কোসান। এ বছর প্রতিষ্ঠানটি ২ কোটি ৮০ লাখ ডলার তহবিল তুলেছে।
প্ল্যানেটারির প্রধান নির্বাহী ডেভিড ব্র্যান্ডেস লিংকডইনে লিখেছেন, এই চুক্তি এমন দেশে পুষ্টির সুযোগ বাড়াবে যেখানে ৭৩ শতাংশ মানুষের প্রোটিন ঘাটতি, যেখানে ৯৮ শতাংশ হোয়ে ও উদ্ভিজ্জ প্রোটিন আমদানি করা হয়, আর পশ্চিমা বাজারে রপ্তানিতে খরচ ৩০ শতাংশ কমাবে। এগুলো প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব হিসাব।
চুক্তিটি ভারতের বায়োই৩ কৌশলের সঙ্গে মেলে, যার লক্ষ্য দেশজুড়ে জৈব-উৎপাদন কেন্দ্র ও বায়োফাউন্ড্রি গড়া; সরকারের রূপরেখায় ২০৪৭ সালের মধ্যে জৈব-অর্থনীতিকে ২ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন ডলারে নেওয়ার লক্ষ্য আছে। গ্রিন কুইন জানিয়েছে, উত্তর প্রদেশে মাইক্রোঅ্যালজিভিত্তিক উপাদানের কারখানা গড়তে ইসরায়েলের ব্রেভেল ও দ্য ওয়েভ গ্রুপও যৌথ উদ্যোগ নিয়েছে। প্রতিবেদনটি লিখেছেন অনয় মৃদুল।
ছবি: Jan Ainali / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)
সূত্র: Green Queen




মন্তব্য
(০)