ভারতের ফসল সুরক্ষা শিল্পের সংগঠন অ্যাগ্রো কেম ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া (Agro Chem Federation of India, এসিএফআই) কৃষি রাসায়নিকের টেকনিক্যাল ও মধ্যবর্তী উপাদানে স্বনির্ভরতা গড়তে এবং চীনের তুলনায় শিল্পের কাঠামোগত খরচের অসুবিধা কমাতে সরকারের কাছে ৫,০০০ থেকে ৭,০০০ কোটি রুপির একটি বিশেষ সহায়তা কর্মসূচি চেয়েছে। কর্মসূচির মেয়াদ সাত থেকে আট বছর, যার মধ্যে দুই-তিন বছর কারখানা চালুর জন্য। পরামর্শক প্রতিষ্ঠান কেপিএমজি (KPMG)-র সঙ্গে তৈরি প্রস্তাবটি নয়াদিল্লিতে সংগঠনের বার্ষিক সাধারণ সভায় প্রকাশিত একটি নলেজ পেপারে তুলে ধরা হয়েছে।
এসিএফআইয়ের চেয়ারম্যান রাহুল ধানুকা (Rahul Dhanuka) বলেছেন, ফসল সুরক্ষায় ভারতের পরবর্তী প্রবৃদ্ধির ভিত্তি হওয়া উচিত শিল্প-পরিমণ্ডলের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা জোরদার করা, উদ্ভাবনের বাণিজ্যিকীকরণ ত্বরান্বিত করা, সরবরাহ শৃঙ্খলের সহনশীলতা বাড়ানো ও কাঠামোগত খরচের অসুবিধা কমানো। প্রতিবেদনের যুক্তি, এই ব্যবধান ঘোচাতে স্থায়ী ভর্তুকি নয়, লক্ষ্যভিত্তিক সরকারি সহায়তা দরকার; আর গবেষণা ও বাণিজ্যিক প্রয়োগ ভালোভাবে যুক্ত করা গেলে জৈব বালাইনাশক বড় প্রবৃদ্ধির সুযোগ।
প্রস্তাবের সুনির্দিষ্ট দাবিগুলোর মধ্যে আছে দেশীয় টেকনিক্যাল ও মধ্যবর্তী উপাদান উৎপাদকদের বাড়তি বিক্রিতে ৫ থেকে ৮ শতাংশ প্রণোদনা, শিল্প বিদ্যুতের খরচে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ ভর্তুকি এবং যৌথ বর্জ্য শোধনাগার—চীনা উৎপাদকদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় রাসায়নিক কারখানার সবচেয়ে বড় দুটি আবর্তক খরচ। পাশাপাশি বিশেষায়িত গবেষণা ও উন্নয়নে মূলধনি অনুদান, বড় ও ছোট কোম্পানির জন্য আলাদা বিনিয়োগসীমা, যৌথ পরিষেবা ও ক্লাস্টারভিত্তিক অবকাঠামোসহ কৃষি রাসায়নিক পার্ক এবং কেন্দ্রীয় ও রাজ্য পর্যায়ের অনুমোদনের জন্য একটি একক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চাওয়া হয়েছে। জৈব বালাইনাশকের জন্য চাওয়া হয়েছে পাইলট কারখানা ও জিএলপি-সনদপ্রাপ্ত পরীক্ষাগার—যে অবকাঠামো ভারতে বড় পরিসরে এখনো নেই।
পরিমাণের হিসাবে ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ফসল সুরক্ষা পণ্য উৎপাদক ও রপ্তানিকারক, কিন্তু সেই উৎপাদনের বড় অংশ নির্ভর করে চীন থেকে আনা টেকনিক্যাল-গ্রেড সক্রিয় উপাদান ও রাসায়নিক মধ্যবর্তী উপাদানের ওপর; চীনা উৎপাদকেরা বড় পরিসর, সস্তা বিদ্যুৎ ও প্রতিষ্ঠিত রাসায়নিক পার্কের সুবিধা পায়। বাজেট আলোচনার আগে ফেডারেশনের এই প্রস্তাব দীর্ঘদিনের নীতিগত অভিযোগকে একটি সুনির্দিষ্ট বিনিয়োগ-দাবিতে রূপ দিয়েছে।
প্রস্তাবটি এখনো সরকারি নীতি নয়; বিবেচনার জন্য জমা দেওয়া শিল্পের সুপারিশ মাত্র। এটি প্রকল্পে রূপ নেবে কি না, তা নির্ভর করবে বাজেট বরাদ্দ এবং রাসায়নিক ও সার মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয় ও প্রস্তাবিত পার্ক যেসব রাজ্যে হবে, সেই রাজ্য সরকারগুলোর সমন্বয়ের ওপর। সরকারের সাড়ার কোনো সময়সীমা ঘোষিত হয়নি।
ভারত এরই মধ্যে আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাজারে টেকনিক্যাল উপাদান ও ফর্মুলেটেড পণ্য সরবরাহ করে; মধ্যবর্তী উপাদানের উৎপাদন দেশে আনা গেলে চীনা সরবরাহে বিঘ্ন বা দামের ওঠানামায়—যেমনটা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গ্লাইফোসেটসহ আগাছানাশকের বাজারকে নাড়া দিয়েছিল—ভারতের ঝুঁকি কমবে। জৈবভিত্তিক ফসল সুরক্ষার বৈশ্বিক চাহিদা বাড়ার এই সময়ে পর্যাপ্ত অর্থায়নের প্রকল্প জৈব বালাইনাশক উৎপাদনে ভারতের অগ্রযাত্রাও ত্বরান্বিত করতে পারে।
সূত্র: Global Agriculture




মন্তব্য
(০)