সারা দেশে সার নিয়ে অস্থিরতার পেছনে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) নিয়োজিত ডিলারদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে বলে অভিযোগ করেছে সার আমদানিকারক ও ডিলারদের সংগঠন বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশন (বিএফএ)। দেশ রূপান্তরের নিজস্ব প্রতিবেদক জানাচ্ছেন, সোমবার রাজধানীর বিজয়নগরে সংগঠনের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে চেয়ারম্যান মো. মোশারফ হোসেন লিখিত বক্তব্যে বলেন, ২০০৯ সালের পর নিয়ম-নীতি না মেনে ৫ হাজার ২০০ বীজ ডিলারকে সার ডিলার করা হয়, যাঁরা বিএডিসির আমদানি করা নন-ইউরিয়া সার বাজারে দেন এবং বেশি দামে বিক্রি ও সংকট তৈরিতে ভূমিকা রেখেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ১৯৯৫ সালে বিসিআইসি ডিলার নিয়োগে জামানত ছিল ২ লাখ টাকা, অথচ ২০০৯ সালে বিএডিসির বীজ ডিলারদের সার ডিলার করার সময় নেওয়া হয় মাত্র ২৫ হাজার টাকা, কোনো বিচার-বিবেচনা ছাড়াই; এখন অস্থিরতার সময়ে নজরদারিতে যাঁরা অনিয়মে ধরা পড়ছেন, তাঁদের অধিকাংশই বিএডিসির ডিলার। সিনিয়র সহসভাপতি মামুনুর রশিদসহ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সরকার ডিলারদের কমিশন কেজিপ্রতি ১ টাকা বাড়ানোর ঘোষণা দিলেও মোশারফ হোসেন বলেন, ‘বিদ্যুৎ, তেল, শ্রমিকসহ সব খরচ বাড়ছে, তখন আমাদের ৪ টাকার দাবির প্রেক্ষিতে বাড়াল মাত্র একটা। এটাও মূলা ঝোলানোর মতো। কারণ বাস্তবায়ন করা হবে আগামী বছরের জুলাই থেকে।’ এই এক টাকাও এখন কার্যকর হলে অস্থিরতা নিরসনে কাজ করত বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি বলেন, অস্থিরতা যখন চরমে, কৃষি মন্ত্রণালয় তাঁদের পরামর্শ আমলে নেয়নি এবং বাড়তি বরাদ্দ দেয়নি, অথচ চাষাবাদের বাইরেও সার ব্যবহৃত হচ্ছে; এখন বাড়তি বরাদ্দ দেওয়ায় ব্যবস্থাপনা ভালো হয়েছে এবং সমস্যা কমছে।
এর মধ্যেই প্রতিটি ইউনিয়ন ও পৌর ওয়ার্ডে ডিলার নিয়োগের নতুন নীতিমালা বাস্তবায়ন করছে সরকার, যা আপাতত স্থগিত রাখার দাবি বিএফএর। কমিশন কাঠামো ও ‘সার ডিলার নিয়োগ নীতিমালা-২০২৬’-এর অসংলগ্নতা, অসাংবিধানিকতা ও স্ববিরোধিতার অভিযোগে সংগঠনটি ২ সেপ্টেম্বর রিট করলে হাইকোর্ট ৬০ দিনের রুল জারি করে; তবু জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির মাধ্যমে নিয়োগ চলছে বলে অভিযোগ। নিয়োগ কমিটিতে বর্তমান ডিলারদের প্রতিনিধি রাখার দাবি জানিয়ে নেতারা বলেন, ঢালাও রাজনৈতিক নিয়োগ সরকারের ক্ষতির কারণ হতে পারে—দক্ষ ও ব্যবসায়ী মানসিকতার লোক দরকার।
সূত্র: দেশ রূপান্তর — প্রতিবেদন: নিজস্ব প্রতিবেদক





মন্তব্য
(০)