ফসল কাটার পর মাঠে পড়ে থাকা নাড়া ও অবশিষ্টাংশ পচিয়ে তার ভেতরের পুষ্টি পরের ফসলের কাছে পৌঁছে দেওয়ার অণুজীব প্রযুক্তি বানায় যুক্তরাষ্ট্রের স্টার্টআপ আইমিও (IMIO)। প্রতিষ্ঠানটি এবার ১ কোটি ২০ লাখ ডলারের সিড তহবিল পেয়েছে, এতে তাদের মোট তহবিল দাঁড়াল ১ কোটি ৬৫ লাখ ডলারে। নেতৃত্ব দিয়েছে সোফিনোভা পার্টনার্স (Sofinnova Partners); সঙ্গে আছে খাদ্য প্রতিষ্ঠান চিপোটলের কাল্টিভেট নেক্সট তহবিলসহ আরও কয়েকটি বিনিয়োগকারী। এই অর্থে দল বড় হবে, উৎপাদন বাড়বে, আর শিকাগোতে নতুন জৈব উৎপাদন ও গবেষণাকেন্দ্র হবে।
সমস্যাটা মাঠের নাড়া নিয়েই। প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী চার্লস স্মিথ (Charles Smith) জানান, এক একর জমির ভুট্টার নাড়ায় প্রায় ১৩৪ ডলারের নাইট্রোজেন, ফসফরাস ও পটাশ থাকে; ব্রকলির মতো কিছু ফসলের অবশিষ্টাংশে আরও বেশি। নাড়া নিজে থেকেই পচে, কিন্তু ধীরে। স্মিথের ভাষায়, এখনকার ভুট্টার জাতে লিগনিন বেশি, আর প্রচলিত চাষাবাদে মাটির ছত্রাক কমে যায়, তাই নাড়া ভাঙা আরও কঠিন হচ্ছে।
আইমিওর পণ্য রি-জেন (Re-Gen) মাটিতে নতুন অণুজীব বসানোর চেষ্টা করে না, কারণ সেখানে আগে থেকে থাকা অণুজীবের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে হয়। বরং প্রাকৃতিক, জিন পরিবর্তনহীন অণুজীব ঘন মাত্রায় সরাসরি নাড়ার ওপর দেওয়া হয়। প্রতিটি জাত আলাদা করে জন্মিয়ে হিমশুষ্ক (ফ্রিজ-ড্রাই) করা হয়, নির্দিষ্ট অনুপাতে মিশিয়ে গুঁড়া করে পাঠানো হয়; এক বছরের বেশি টেকে। কৃষক পানিতে গুলে সাধারণত বসন্তে বোনার সময় ছিটান।
স্মিথ বলেন, তাপ দিয়ে শুকালে অনেক অণুজীব মরে যায়; হিমশুষ্ক পদ্ধতি নরম, আর লিগনিন ভাঙা কিছু ছত্রাক তাপে টিকতই না। শিকাগোর নিজস্ব কারখানার পাশাপাশি সাউথ ডাকোটায় একটি অংশীদার প্রতিষ্ঠান তাদের প্রক্রিয়া চালায়, খুঁটিনাটি না দেখেই।
প্রতিষ্ঠানের দাবি, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে মার্কিন মিডওয়েস্টে ১০ হাজার একরের বেশি জমিতে বিশ্ববিদ্যালয় ও খামারের পরীক্ষায় একরপ্রতি ভুট্টার ফলন গড়ে ১১.৯ বুশেল বেড়েছে; নাড়ার পরিমাণ ও ব্যবস্থাপনাভেদে বৃদ্ধি ৫ থেকে ২০ বুশেলের বেশি। চাষও কম লাগে বলে তাদের দাবি। মিনেসোটা ও উইসকনসিনের কৃষক কার্ক স্টুভ (Kirk Stueve) জানান, তাঁর ১৪০ একরের টানা ভুট্টার জমিতে ফলন আগের রেকর্ডের চেয়ে একরে ৩৬ বুশেল বেশি হয়েছে, অথচ নাইট্রোজেনের খরচ একরে ৪৫-৫০ ডলার কমেছে।
২০১৯ সালে ভারমন্টে কম্পোস্ট দ্রুত করার লক্ষ্যে আইমিওর যাত্রা। কয়েক বছর ধরে ছোট পরিসরে বিক্রি করছে, গ্রাহক এখন ১০০; সরাসরি বিক্রি থেকে পরিবেশকের দিকে যাচ্ছে। চিপোটলের মাধ্যমে ব্রকলি, ব্রাসেলস স্প্রাউট ও লেটুসচাষিদের সঙ্গেও কাজ শুরু হয়েছে। স্মিথের মতে, জৈব উপকরণে কৃষকের আস্থার প্রধান বাধা ফলাফলের ধারাবাহিকতা। পরীক্ষার ফলাফলগুলো প্রতিষ্ঠানের নিজের দেওয়া।
প্রতিবেদনটি এজিফান্ডনিউজের জন্য লিখেছেন এলেইন ওয়াটসন।
সূত্র: এজিফান্ডনিউজ



মন্তব্য
(০)