বিশ্বে এত উষ্ণ অক্টোবর আর দেখা যায়নি। কোপার্নিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিস (C3S) তাদের সর্বশেষ হালনাগাদে জানিয়েছে, ২০২৬ সালের অক্টোবরে ভূপৃষ্ঠের বাতাসের বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা ছিল ১৫.৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এটি ১৯৯১-২০২০ সময়ের গড়ের চেয়ে ০.৯ ডিগ্রি এবং ১৮৫০-১৯০০ সালের প্রাক্-শিল্প গড়ের চেয়ে ১.৭৫ ডিগ্রি বেশি।
আগস্ট ও সেপ্টেম্বরের পর টানা তৃতীয় মাসে তাপমাত্রা ১.৫ ডিগ্রির সীমা ছাড়াল। এর আগে টানা তিন মাস এই সীমা পেরিয়েছিল ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিলে।
অক্টোবর পর্যন্ত তথ্যের ভিত্তিতে সি৩এসের অনুমান, ২০২৬ সাল প্রাক্-শিল্প যুগের চেয়ে ১.৫৬ থেকে ১.৬১ ডিগ্রি বেশি উষ্ণ হয়ে শেষ হবে। তাহলে ২০২৪-এর পর এটি হবে ১.৫ ডিগ্রি ছাড়ানো দ্বিতীয় বছর। ২০২৬ সালের দ্বিতীয় উষ্ণতম বছর হওয়ার সম্ভাবনা ৮০ শতাংশ, ২০২৪-কে ছোঁয়া বা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা ২০ শতাংশ। ২০২৩-২০২৬ সময়ের চার বছরের গড়ও ১.৫ ডিগ্রি ছাড়াবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মেরু অঞ্চলের বাইরে সাগরপৃষ্ঠের গড় তাপমাত্রা উঠেছিল ২০.৯৫ ডিগ্রিতে, অক্টোবর মাসের সর্বোচ্চ, যা ২০২৩ সালের অক্টোবরের রেকর্ড ভেঙেছে। এল নিনো মাপার জন্য ব্যবহৃত প্রশান্ত মহাসাগরের নিনো ৩.৪ অঞ্চলে মাসিক গড় ২৯.৯৪ ডিগ্রি ছুঁয়েছে, যা স্বাভাবিকের চেয়ে ৩.২১ ডিগ্রি বেশি। দুটি মানই ১৯৮২-৮৩, ১৯৯৭-৯৮ ও ২০১৫-১৬ সালের অতি শক্তিশালী এল নিনোর চূড়াকে ছাড়িয়ে গেছে।
ফসলের জন্য তাপের মতোই গুরুত্বপূর্ণ বৃষ্টি, আর অক্টোবরে তার বণ্টন ছিল অসম। পূর্ব উত্তর আমেরিকা, যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চল, পশ্চিম ও মধ্য-পূর্ব ইউরোপের কিছু অংশ, পশ্চিম রাশিয়া, সাইবেরিয়া, মধ্য এশিয়া, দক্ষিণ চীন, দক্ষিণ আমেরিকা ও আফ্রিকার দক্ষিণাঞ্চল ছিল স্বাভাবিকের চেয়ে শুষ্ক। অন্যদিকে আলাস্কা, উত্তর মেক্সিকো, মধ্য এশিয়া, চীন ও কোরিয়ার কিছু অংশ, চিলি, দক্ষিণ আর্জেন্টিনা, দক্ষিণ-পূর্ব ব্রাজিল, মাদাগাস্কার এবং অস্ট্রেলিয়ার পশ্চিম ও মধ্যাঞ্চলে বৃষ্টি হয়েছে বেশি।
ইউরোপিয়ান সেন্টার ফর মিডিয়াম-রেঞ্জ ওয়েদার ফোরকাস্টসের জলবায়ু বিষয়ক কৌশলগত প্রধান সামান্থা বার্জেস (Samantha Burgess) বলেন, মানুষের কর্মকাণ্ডে আগে থেকেই উষ্ণ জলবায়ুতে অস্বাভাবিক শক্তিশালী এল নিনো আরও তাপ যোগ করছে।
ছবি: ১৯৯৭ সালের এল নিনোর টোপেক্স উপগ্রহচিত্র / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: ডাউন টু আর্থ


মন্তব্য
(০)