সন্ধ্যা নামলে ঢাকার পান্থপথের সড়ক বিভাজকের বকুল গাছে ঝাঁকে ঝাঁকে চড়ুই জড়ো হয়। সায়েন্সল্যাব থেকে শাহবাগ, উত্তরার সড়ক কিংবা যমুনা ফিউচার পার্কের আশপাশেও একই দৃশ্য। দিনের বেলা ফাঁকা গাছগুলোই রাতে হয়ে ওঠে পাখির আশ্রয়, ভোরে আবার খালি হয়ে যায়।
গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও পাখি বিশেষজ্ঞ আ ন ম আমিনুর রহমান ডেইলি স্টারকে বলেন, প্রজনন মৌসুমের বাইরে দল বেঁধে গাছে রাত কাটানো চড়ুইয়ের অভ্যাস, পাখিবিজ্ঞানে একে ‘রুস্টিং’ বলা হয়। অনেক ক্ষেত্রে তারা একই গাছে ফেরে, ফলে কোনো গাছ দীর্ঘদিন তাদের রাতের ঠিকানা হয়ে ওঠে।
তাঁর মতে, এর পেছনে বড় কারণ নিরাপত্তা। ঘন পাতার ডাল বাতাস, বৃষ্টি ও শিকারির চোখ থেকে আড়াল দেয়। দলে থাকলে বিড়াল বা পেঁচার উপস্থিতি দ্রুত টের পাওয়া যায়, একটি পাখি বিপদ বুঝলে অন্যদের সতর্ক করতে পারে। রাতে কাছাকাছি থাকলে শরীরের তাপ ধরে রাখাও সহজ হতে পারে।
প্রজনন মৌসুমে আচরণ বদলায়, তখন চড়ুই জোড়া বাঁধে, বড় দলে রাত কাটানোর প্রবণতা দেখা যায় না। ঢাকার বাইরে সিরাজগঞ্জ, কুমিল্লা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক, কিশোরগঞ্জ ও সিলেট সড়কের গাছেও এমন দৃশ্য দেখেছেন তিনি।
উদ্ভিদ ও পরিবেশবিষয়ক লেখক এবং তরুপল্লবের সাধারণ সম্পাদক মোকারম হোসেন বলেন, পাখিরা এমন জায়গা খোঁজে, যেখানে ধরা পড়া বা বিরক্ত হওয়ার আশঙ্কা কম এবং খাবারের সংস্থান আছে। প্রতিবেদক ফাহিমা কানিজ লাভা।
সূত্র: দ্য ডেইলি স্টার


মন্তব্য
(০)