আমেরিকা, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নে জিন সম্পাদনার নিয়ম শিথিল হওয়ায় ফসলের জেনেটিক গবেষণায় নতুন করে বিনিয়োগ আসছে। লন্ডনে ওয়ার্ল্ড অ্যাগ্রি-টেক ইনোভেশন সামিটে অ্যাগনেভিগেটরকে এ কথা বলেছেন রিসারেক্ট বায়োর (Resurrect Bio) সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী ড. কিয়ান ডুগান (Cian Duggan)।
প্রতিষ্ঠানটি জিন সম্পাদনা দিয়ে ফসলের জার্মপ্লাজমে আগে থেকেই থাকা রোগ প্রতিরোধী জিন আবার কার্যকর করার প্রযুক্তি তৈরি করছে। ডুগান ব্যাখ্যা করেন, উদ্ভিদের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থায় এমন গ্রাহক থাকে যা রোগজীবাণু ও পোকা চিনতে পারে, কিন্তু রোগ বিবর্তিত হয়ে এর কিছু প্রতিরোধ ভেঙে ফেলে। তাঁর ভাষায়, "আমরা সেই পরাজিত প্রতিরোধী জিন খুঁজে বের করি এবং সম্পাদনা করে সেগুলো ফিরিয়ে আনি।"
লক্ষ্যে আছে সয়াবিনের এশীয় মরিচা রোগ, সয়াবিনের সিস্ট নেমাটোড, আলুর ধসা রোগ এবং ভুট্টার কয়েকটি রোগ। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, এই পদ্ধতির পক্ষে তাদের গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে, পেটেন্টের আবেদনও করা হয়েছে, আর আলু ও টমেটোতে প্রাথমিক সাফল্য মিলেছে।
ডুগানের মতে, ভেঞ্চার তহবিল পাওয়া কঠিন থাকায় বড় কৃষি কোম্পানির বিনিয়োগই এখন কৃষিপ্রযুক্তির মূল ভরসা। তিনি বলেন, "কর্পোরেট ভেঞ্চার ক্যাপিটালই এখন কৃষিপ্রযুক্তি বিনিয়োগের মূল খুঁটি। এটা না থাকলে আমরা খুব খারাপ অবস্থায় থাকতাম।" উদ্যোক্তাদের তিনি কর্পোরেট বিনিয়োগের পাশাপাশি অনুদান ও সরকারি তহবিলও খোঁজার পরামর্শ দেন।
বাইরের জিন না ঢুকিয়ে ফসলের নিজের প্রতিরোধ ফিরিয়ে আনা, এমন সম্পাদনাকে নতুন নিয়মে তুলনামূলক হালকাভাবে দেখা হয়। সে কারণেই নিয়মের এই পরিবর্তন এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
ছবি: Сарапулов / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 4.0)
সূত্র: AgNavigator



মন্তব্য
(০)