যুক্তরাজ্য ও ইউরোপে কিছু বালাইনাশকের ওপর নিষেধাজ্ঞা বাড়ছে, জলবায়ু পরিবর্তনে পোকার চাপও বদলাচ্ছে। তাই বীজ কোম্পানিগুলো ফসলের জিনেই বেশি সুরক্ষা গড়ে দিচ্ছে, লন্ডনে ওয়ার্ল্ড অ্যাগ্রি-টেক ইনোভেশন সামিটে এগনেভিগেটরকে বলেছেন জিন সম্পাদনা প্রতিষ্ঠান সিবাসের (Cibus) উৎপাদন বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড্রু ওয়াকার (Andrew Walker)।
পোকা দমন বড় চালিকাশক্তি। ওয়াকার উদাহরণ দেন যুক্তরাজ্যে নিওনিকোটিনয়েড বীজ শোধন বন্ধ হওয়ার, যা চাষিদের ওপর চাপ বাড়িয়েছে। তাঁর ভাষায়, অনেক বীজ কোম্পানি সেই উন্নতিগুলো জিনের মধ্যেই আনার চেষ্টা করছে, যাতে রাসায়নিকের নিষেধাজ্ঞার ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া যায়। রোগের ক্ষেত্রেও প্রজননবিদেরা এমন বৈশিষ্ট্য খুঁজছেন, যাতে ছত্রাকনাশক কম লাগে; লক্ষ্য রাসায়নিক পুরো বাদ দেওয়া নয়, সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনায় জিন আর রাসায়নিক একসঙ্গে কাজ করা।
একটি উদাহরণ যুক্তরাজ্যের পরিবেশ মন্ত্রণালয় ডেফ্রার সহায়তায় চলা এক প্রকল্প। সরিষাজাতীয় তেলবীজ অয়েলসিড রেপের সবচেয়ে ক্ষতিকর রোগগুলোর একটি লাইট লিফ স্পট। সিবাস তার জিন সম্পাদনা প্রযুক্তি দিয়ে এ রোগ প্রতিরোধের জিনগত ভিত্তি খুঁজে বের করছে, সঙ্গে আছে জন ইনস সেন্টার, ইউনিভার্সিটি অব হার্টফোর্ডশায়ার আর কৃষকদের সংগঠন ব্রিটিশ অন-ফার্ম ইনোভেশন নেটওয়ার্ক (বোফিন)। লক্ষ্য রোগের ক্ষতি কমানো এবং ফসলচক্রে অয়েলসিড রেপকে লাভজনক রাখা।
ওয়াকার বলেন, অগ্রাধিকারও বদলাচ্ছে। ফলন এখনো জরুরি, তবে পোকা, রোগ, তাপ, খরা ও জলবায়ুর অন্যান্য চাপ সহ্য করার বৈশিষ্ট্যে আগ্রহ বাড়ছে, সঙ্গে ভোক্তার জন্য ভালো পুষ্টি আর অয়েলসিড রেপ ও সূর্যমুখীতে উন্নত তেলের গুণমান।
এগনেভিগেটরের পর্যবেক্ষণ, রোগের চাপ ও উপকরণের কড়াকড়ির মুখে বীজের ভেতরে গড়া বৈশিষ্ট্য ফলন রক্ষার টেকসই পথ হতে পারে, আর প্রকল্পটি সফল হলে অন্য রোগ মোকাবিলায়ও জিন সম্পাদনার নমুনা হয়ে উঠতে পারে।
ছবি: Oast House Archive / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.0)
সূত্র: AgNavigator





মন্তব্য
(০)