গাইবান্ধার চরাঞ্চলে ভুট্টা আবাদের ভরা মৌসুমে চাহিদামতো সার পাচ্ছেন না কৃষকেরা। ডিলার ও খুচরা বিক্রেতার কাছে প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম সার মিলছে বলে তাঁদের অভিযোগ। তাই খোলাবাজারে সার বিক্রির দাবি তুলেছেন তাঁরা।
কৃষি বিভাগ এবার জেলার ছোট-বড় ১৬৫টি চরে ১৮ হাজার হেক্টর জমিতে ভুট্টা আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছে, যা আগের কয়েক বছরের চেয়ে প্রায় ১ হাজার হেক্টর বেশি। চরে দ্রুত সার পৌঁছাতে প্রতিটি চরে সাব-ডিলারও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবু কেউ জমি তৈরি করে সারের অপেক্ষায় বসে আছেন, কেউ বন্যার পানি নামার পরপরই ভুট্টা লাগিয়েছেন।
কৃষকেরা জানান, চর থেকে ডিলার পয়েন্টে গিয়ে সার আনতে সময়ের পাশাপাশি যাতায়াত ভাড়ায় তিন-চার শ টাকা বাড়তি খরচ হচ্ছে। ফুলছড়ির উজলডাঙা গ্রামের কৃষক আল আমিন বলেন, ডিলার সামান্য ইউরিয়া দিচ্ছেন; বাকিটা অন্য জায়গা থেকে বস্তাপ্রতি ৪০০-৫০০ টাকা বেশি দিয়ে কিনতে হচ্ছে। এরেন্ডাবাড়ির কৃষক আবুল হাসনাত ৩৫ বিঘায় ভুট্টা করছেন; ডিলার তাঁকে দুই বস্তা সার দিয়েছেন, যা দিয়ে কিছুই হবে না বলে জানান তিনি।
কৃষক সামাদ মিয়ার অভিযোগ, ডিলারের কাছে গেলে বলা হয় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার (বিএএস) কাছে যেতে, আবার সেখান থেকে পাঠানো হয় কৃষি কর্মকর্তার কাছে। সুন্দরগঞ্জের লাল চামার চরের কৃষক আইজার আলী বলেন, খোলাবাজারে সার ছাড়লে কৃষকদের এত হয়রানি হতো না।
পুরাতন ফুলছড়ির সার ডিলার মো. মিজানুর রহমান বলেন, সরকারিভাবে মাসে যে বরাদ্দ পান, তা-ই বিক্রি করেন; সবার একই সময়ে চাহিদা থাকায় সংকট দেখা দিচ্ছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক মো. আসাদুজ্জামান জানান, প্রতিবছর নভেম্বরে চরে ভুট্টা চাষ শুরু হয়, কিন্তু এবার আগাম বন্যার কারণে অক্টোবরের শুরুতেই রোপণ শুরু হয়েছে এবং কৃষকেরা আগাম কয়েক গুণ সার সংগ্রহে ব্যস্ত; তবে গুদামে সারের পর্যাপ্ত মজুত আছে।
চরের বেলে-দোআঁশ মাটিতে ভুট্টার ফলন অনেকটা নির্ভর করে সময়মতো ইউরিয়া দেওয়ার ওপর। মজুত থাকলেও তা দুর্গম চরের কৃষকের হাতে কখন পৌঁছায়, সেটিই এবারের আবাদের বড় প্রশ্ন। প্রতিবেদনটি আজকের পত্রিকার গাইবান্ধা প্রতিনিধি আনোয়ার হোসেন শামীমের।
ছবি: Khairuzzaman / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: আজকের পত্রিকা





মন্তব্য
(০)