গম ও ভুট্টার উৎপাদন বাড়িয়ে আমদানিনির্ভরতা কমাতে বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিডব্লিউএমআরআই) গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রম জোরদারে ২৫ কোটি ৯১ লাখ টাকার একটি নতুন প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে। পুরো সরকারি অর্থায়নে জুলাই ২০২৬ থেকে জুন ২০৩১ মেয়াদে আট বিভাগের নির্বাচিত উপজেলায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কথা। পরিকল্পনা কমিশন সূত্রের বরাতে খবরটি দিয়েছে শেয়ার বিজ।
প্রকল্পের মূল লক্ষ্য জলবায়ুসহিষ্ণু উচ্চফলনশীল জাত উদ্ভাবন, আধুনিক গবেষণা অবকাঠামো এবং সিড ভিলেজ স্থাপনের মাধ্যমে গমের উৎপাদন বাড়ানো এবং ভুট্টাবীজের চাহিদার আট শতাংশ দেশে উৎপাদন নিশ্চিত করা। তাপ, খরা, রোগবালাই প্রতিরোধী ও লবণাক্ততাসহিষ্ণু, বায়োফর্টিফাইড গম ও ভুট্টার জাত উদ্ভাবন এর অংশ।
পাঁচ বছরে আট বিভাগের ৩৭ জেলার ৫৮ উপজেলায় নতুন জাতের উপযোগিতা যাচাইয়ে ১ হাজার ৮০০টি জাত প্রদর্শনী এবং ফলনের পার্থক্য মাপতে ১ হাজার ৩০০টি প্রদর্শনী হবে। লক্ষ্য পাঁচটি নতুন জাত (গম তিনটি, ভুট্টা দুটি) এবং জাতের বাইরে ১২টি প্রযুক্তি উদ্ভাবন। ভুট্টাবীজ রাখার কুল রুম, গবেষণাগার ভবনের সম্প্রসারণ এবং গবেষণা মাঠের সীমানাপ্রাচীরও প্রকল্পে আছে।
বীজের দিকে, বিএডিসিসহ বীজ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে ১০০ টন গমের প্রজনন বীজ ও ১৫ টন ভুট্টার ইনব্রিড বীজ দিয়ে ৪০ হাজার টন প্রত্যয়িত বা মানঘোষিত গমবীজ এবং ১ হাজার ৩৩৫ টন হাইব্রিড ভুট্টাবীজ উৎপাদনে সহায়তার কথা বলা হয়েছে। সিড ভিলেজে ৪০০ কৃষকের জমিতে (প্রত্যেকের এক বিঘা) ১৬০ টন গমবীজ এবং ৭৫ কৃষকের জমিতে (প্রত্যেকের এক একর) ৪০ টন হাইব্রিড ভুট্টাবীজ উৎপাদন হবে।
প্রকল্প প্রস্তাবে বলা হয়েছে, পোলট্রি, মৎস্য ও ডেইরি খাত বাড়ায় ভুট্টার চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, আর গমের চাহিদার বড় অংশ এখনো আমদানিনির্ভর। ২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে ইনস্টিটিউটটি জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন, বীজ বিতরণ ও কৃষক প্রশিক্ষণে কাজ করছে; তবে খরা, লবণাক্ততা, জলাবদ্ধতা, মানসম্পন্ন বীজের ঘাটতি আর অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতা চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। পরিকল্পনা কমিশনের পর্যালোচনায় অবশ্য নিয়মিত গবেষণা কাজ উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে করার যৌক্তিকতা এবং ভ্রমণ, মাঠ দিবস, যানবাহন ও জ্বালানি খাতের ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
কৃষকের জন্য প্রকল্পটির মূল্য নির্ভর করবে নতুন জাত আর মানসম্পন্ন বীজ কত দ্রুত মাঠে পৌঁছায় তার ওপর; সিড ভিলেজে নিজের জমিতে বীজ উৎপাদন বাড়তি আয়েরও সুযোগ। প্রতিবেদনটি শেয়ার বিজের শেখ সাদী খানের।
ছবি: মিলন / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: শেয়ার বিজ





মন্তব্য
(০)