মৌলভীবাজারের খাসিয়া পুঞ্জিগুলোতে এবার পানের উৎপাদন প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। চাষিরা বলছেন, চলতি বছর সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে বৃষ্টি কম হওয়ায় পানের গাছ স্বাভাবিকভাবে বাড়ছে না, পাতার আকারও ছোট হয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে শ্রমিকের মজুরি ও উপকরণের দাম বেড়েছে, ফলে বিক্রি করে খরচ উঠছে না।
জেলার শ্রীমঙ্গল, কমলগঞ্জ, কুলাউড়া, জুড়ী, বড়লেখা ও রাজনগর উপজেলার পাহাড়ি এলাকায় ছোট-বড় ৬৫টি খাসিয়া পুঞ্জি আছে। বন-পাহাড়ের টিলায় অন্য গাছের সঙ্গে অর্থকরী ফসল হিসেবে পান চাষ করে আসছেন খাসিয়ারা, তাঁদের জীবিকার মূল ভিত্তিও এই পান। খাসিয়া ভাষায় পানকে বলা হয় ‘টেম্পেউ’।
চাষিরা জানান, বর্ষা খাসিয়া পানের ভরা মৌসুম; এ সময় একটি গাছ থেকে অন্য সময়ের দেড় থেকে দুই গুণ পান মেলে। সাধারণত এক থেকে দেড় মাস পরপর একটি গাছ থেকে পান তোলা যায়, কিন্তু এবার দুই থেকে আড়াই মাস অপেক্ষা করতে হচ্ছে। বাজারে বড় পাতার চাহিদা বেশি, ছোট পাতায় সেই দাম মিলছে না।
পুরুষেরা গাছের যত্ন ও পাতা তোলার কাজ করেন, নারীরা বারান্দায় বসে পান গুছিয়ে বাজারের জন্য তৈরি করেন। ১২টি পাতায় এক গুছি, ১২ গুছিতে এক কান্তা বা বিড়া এবং ২০ কান্তায় এক কুড়ি। বর্ষায় প্রতি কুড়ি পান ৫০০-৬০০ টাকা এবং শুকনো মৌসুমে ২-৩ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়; একটি পরিবার সপ্তাহে দুই-তিন কুড়ি পান বিক্রি করে।
অনেক চাষি বর্ষার শুরুতে পানজুম পরিচর্যার জন্য পাইকারদের কাছ থেকে অগ্রিম টাকা নেন, বিনিময়ে কম দামে পান দিতে হয়। এনজিও ঋণের সাপ্তাহিক কিস্তি আর শ্রমিকের মজুরি দেওয়ার পর হাতে কিছু থাকছে না বলে জানান তাঁরা। লাউয়াছড়া খাসিয়া পুঞ্জির মন্ত্রী ফিলা পতমী বলেন, রোগবালাই কাটিয়ে যে উৎপাদন হয়েছে, তারও ন্যায্য দাম মিলছে না; অনেকে ঋণে জড়িয়ে পড়ছেন। চাষিরা সরকারি সহায়তা চেয়েছেন।
মৌলভীবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. জালাল উদ্দিন বলেন, চাষিদের বিভিন্ন সমস্যায় কৃষি বিভাগ পরামর্শ দিচ্ছে, অন্য কোনো সমস্যা থাকলে তা-ও দেখা হবে। খাসিয়া পান দেশের চাহিদা মিটিয়ে রপ্তানিও হয়, তাই উৎপাদন কমলে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর আয়ের সঙ্গে রপ্তানিও চাপে পড়ে। প্রতিবেদনটি কৃষি সময়ের মৌলভীবাজার সংবাদদাতার।
ছবি: Md. Shahnoor Habib / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.5)
সূত্র: কৃষি সময়





মন্তব্য
(০)