কৃষিজমি রক্ষা, পতিত জমির সঠিক ব্যবহার এবং কৃষকের কাছে সরাসরি সহায়তা পৌঁছানো গেলে দেশে টেকসই কৃষি উন্নয়ন সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও শিল্প মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা (মন্ত্রী পদমর্যাদা) মো. রুহুল কবির রিজভী। সোমবার (২ নভেম্বর) সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিকৃবি) ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
‘সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়: প্রতিষ্ঠা, অর্জন ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় দিবস উদযাপন কমিটি-২০২৬-এর সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহবুব ইকবাল। প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সফি উল্যাহ মজুমদার।
রিজভী বলেন, উৎপাদন, বাজারব্যবস্থা, আধুনিক প্রযুক্তি ও কৃষকের জীবনমান, এই চারটি বিষয় একসঙ্গে বিবেচনা করে কৃষিনীতি করা গেলে দেশের সমৃদ্ধি আরও দ্রুত ও টেকসই হবে। দেশের নানা অঞ্চলে দীর্ঘদিন অনেক জমি পতিত পড়ে আছে; সেগুলো চিহ্নিত করে চাষের আওতায় আনলে উৎপাদন বাড়বে এবং খাদ্য আমদানির ওপর নির্ভরতা কমবে। এ জন্য জমির সঠিক জরিপ, মালিকানার স্বচ্ছতা, সেচ এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা লাগবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
উর্বর কৃষিজমি একবার নষ্ট হলে তা ফিরিয়ে আনা কঠিন উল্লেখ করে তিনি বলেন, আবাসনসহ উন্নয়ন প্রকল্পে কৃষিজমির বদলে পতিত ও কম উৎপাদনশীল জমি ব্যবহারের পরিকল্পনা নিতে হবে। হতদরিদ্র কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড চালুকে তিনি ইতিবাচক উদ্যোগ বলেন; তবে প্রকৃত উপকারভোগীরা সুবিধা পাচ্ছেন কি না, তা নিয়মিত তদারকির ওপর জোর দেন।
প্রধান বক্তা জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার বলেন, খাদ্যনিরাপত্তা, কৃষির আধুনিকায়ন ও কৃষকের জীবনমান উন্নয়নে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা, নতুন কৃষিপ্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং গবেষণার ফল মাঠে পৌঁছে দিতে সিকৃবিকে আরও অগ্রণী ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
সভায় সিলেট-২ ও সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য এবং সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক উপস্থিত ছিলেন। দিনটি উপলক্ষে পতাকা উত্তোলন, বৃক্ষরোপণ, র্যালি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। পতিত জমি, কৃষিজমি সুরক্ষা আর কৃষক কার্ডের তদারকি, এই তিনটি প্রসঙ্গই কৃষকের আয় ও উৎপাদনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।
ছবি: NahidSultan / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: এগ্রিকেয়ার২৪





মন্তব্য
(০)