তাপপ্রবাহ ও খরা কৃষকদের এমন প্রযুক্তির দিকে ঠেলে দিচ্ছে, যা কম পানিতে ফলন ধরে রাখে। লন্ডনে ওয়ার্ল্ড এগ্রি-টেক ইনোভেশন সামিটে এগনেভিগেটরকে এ কথা বলেন ফরাসি স্টার্টআপ এলিসিট প্ল্যান্টের (Elicit Plant) সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী জঁ-ফ্রাঁসোয়া দেশঁ (Jean-François Déchant)।
এলিসিট প্ল্যান্টের প্রযুক্তির ভিত্তি ফাইটোস্টেরল, যা উদ্ভিদে প্রাকৃতিকভাবে থাকা যৌগ এবং গাছকে পানির চাপ সামলাতে সাহায্য করে। পানির চাপ আসার আগেই প্রতিরোধমূলক স্প্রে হিসেবে এটি ভুট্টা, সয়াবিন, সূর্যমুখী ও গমের মতো মাঠফসলে দেওয়া হয়। দেশঁর ভাষায়, এতে কৃষকের দুই সমস্যার সমাধান হয়: পানির ভালো ব্যবহার, আর ফলন রক্ষা বা বৃদ্ধি।
প্রতিষ্ঠানটি জানায়, পাঁচ বছরে তারা এক হাজারের বেশি মাঠ পরীক্ষা করেছে। এ মৌসুমে ফ্রান্স ও মধ্য ইউরোপের পরীক্ষায় হেক্টরপ্রতি এক টনের বেশি ফলন বেড়েছে, আর পানি ব্যবহারের দক্ষতা বেড়েছে ১৭ থেকে ৩০ শতাংশ। দেশঁ বলেন, বাস্তবে একজন কৃষক সেচ প্রায় ৩০০ মিলিমিটার থেকে ২২০ মিলিমিটারে নামিয়েও ফসলের ফলন ধরে রাখতে পারেন। পরিসংখ্যানগুলো প্রতিষ্ঠানের নিজের।
২০২৪ সালের নভেম্বরে এলিসিট প্ল্যান্ট ৪ কোটি ৫০ লাখ ইউরো (৪ কোটি ৮০ লাখ ডলার) তহবিল তোলে। এখন ইউরোপ, ব্রাজিল ও উত্তর আমেরিকার ১৬টি দেশে কাজ করছে; ইউরোপের কয়েকটি দেশে ভুট্টা নিয়ে বায়ারের সঙ্গে, আলু নিয়ে সার্টিস বেলকিমের সঙ্গে এবং উত্তর আমেরিকায় ক্যানোলা নিয়ে মোজাইকের সঙ্গে চুক্তি আছে। ২০২৬ সালের এগটেক ব্রেকথ্রু অ্যাওয়ার্ডসে প্রতিষ্ঠানটি বছরের সেরা জলবায়ু অভিযোজন সমাধান নির্বাচিত হয়েছে।
দেশঁর ধারণা, আবহাওয়া যত অস্থির হবে, সহনশীলতার প্রযুক্তির চাহিদা তত বাড়বে। তাপমাত্রা বাড়ায় একই ধরনের আবহাওয়া সপ্তাহ বা মাস ধরে থেকে যায়, ফলে দীর্ঘ বৃষ্টির পর আসে দীর্ঘ শুষ্ক সময়।
প্রতিবেদনটি এগনেভিগেটরের জন্য লিখেছেন অলিভার মরিসন।
ছবি: Tangopaso (ফ্রান্সের লঁদে খরায় ভুট্টাখেত) / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: AgNavigator




মন্তব্য
(০)