জ্বালানির দাম আকাশছোঁয়া হওয়ায় মানুষ কম ডিজেল কিনছেন আর বাড়িতে কম গ্যাস পোড়াচ্ছেন; এতে ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে ফ্রান্সের গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ ৪.১% কমেছে বলে জানিয়েছে দেশটির বায়ুদূষণ ও গ্রিনহাউস গ্যাস পরিমাপক সংস্থা সিতেপা (Citepa)। খবরটি দিয়েছে ইউরোনিউজ। তবু জলবায়ু লক্ষ্য পূরণে যে গতি দরকার, তা থেকে ফ্রান্স এখনো পিছিয়ে।
ইরান যুদ্ধে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলের সরবরাহ আটকে যাওয়ার পর বছরের শুরু থেকে ডিজেলের দাম ৪৫% বেড়েছে। প্রথম ছয় মাসে ডিজেল বিক্রি কমেছে ৭.৩%, পরিবহন খাতের নিঃসরণ ৪.৫%। বসতবাড়ি ও বাণিজ্যিক ভবনের নিঃসরণ কমেছে ১২%, মূলত ঘর গরম, গরম পানি ও রান্নায় প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যবহার কমায়।
সিতেপার হিসাবে পুরো ২০২৬ সালে নিঃসরণ কমবে ২.৮%, যা ২০২৫ সালে ছিল ২.১%; অর্থাৎ প্রায় ১ কোটি টন কম। কিন্তু ১৯৯০ সালের তুলনায় ২০৩০ সালের মধ্যে নিঃসরণ অর্ধেকে নামানোর লক্ষ্য পূরণে বছরে প্রায় ৫% কমাতে হবে। বছরের দ্বিতীয়ার্ধে মাত্র ১.৩% কমবে বলে ধারণা, কারণ প্রতিবেশী দেশে বিদ্যুৎ রপ্তানিতে ফ্রান্স গ্যাসচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র বেশি চালাচ্ছে; সারা বছরে জ্বালানি খাতের নিঃসরণ ৩.৬% বাড়বে বলে অনুমান। এএফপির বরাতে ইউরোনিউজ জানিয়েছে, পরিবেশ রূপান্তরমন্ত্রী মনিক বারবু (Monique Barbut) এই হ্রাসকে উৎসাহজনক বললেও জলবায়ু লক্ষ্যের জন্য এখনো যথেষ্ট নয় বলে স্বীকার করেছেন।
অন্যত্র, প্রথম ছয় মাসে জার্মানির নিঃসরণ প্রায় ২% কমেছে, যদিও গবেষণা প্রতিষ্ঠান আগোরা এনার্গিভেন্ডে সতর্ক করেছে, দেশটি বার্ষিক সীমা প্রায় ১ কোটি টন ছাড়িয়ে যেতে পারে। ২০২৬ সালের শুরুতে ফ্রান্স, জার্মানি ও পোল্যান্ডে হিট পাম্প বিক্রি বেড়েছে ২৫%, আর ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরুর পর সৌরবিদ্যুৎ ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রায় ৩,৭৪০ কোটি ইউরোর গ্যাস আমদানি বাঁচিয়েছে। আইইএর পূর্বাভাসভিত্তিক কার্বন ব্রিফের বিশ্লেষণ বলছে, এ বছর বিশ্বে জীবাশ্ম জ্বালানির কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ প্রায় ০.৫% কমতে পারে, যা ২০২০ সালের পর প্রথম বার্ষিক হ্রাস।
কৃষকের কাছে জ্বালানি ও সারের একই দামের ধাক্কা জলবায়ুর সাফল্য নয়, খরচের বোঝা; এই হিসাব দেখায়, এ বছরের হ্রাসের কতটা স্থায়ী পরিবর্তন নয়, বরং দামি জ্বালানির ফল।
ছবি: Cahtls / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: ইউরোনিউজ





মন্তব্য
(০)