যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি উপকরণ বিক্রেতাদের খরচ বাড়ছে, গ্রাহকের প্রত্যাশা বদলাচ্ছে, আর প্রযুক্তিনির্ভর সেবার সংখ্যাও বাড়ছে। এতে মৌলিক একটি প্রশ্ন সামনে এসেছে: কোন সেবার দাম কৃষক দিতে থাকবেন? ক্রপলাইফ রিটেইল উইকের সাম্প্রতিক পর্বে এ নিয়ে কথা বলেছেন অ্যাসমাস ফার্ম সাপ্লাইয়ের সহ-মালিক অ্যামি অ্যাসমাস (Amy Asmus)। প্রতিবেদনটি লিখেছেন ক্রপলাইফের ম্যাট হপকিন্স (Matt Hopkins)।
অ্যাসমাসের প্রশ্ন, পণ্য, পরামর্শ আর তথ্য যখন প্রযুক্তির মাধ্যমে আরও সহজে মিলছে, তখন কৃষক কোন মূল্যের জন্য টাকা দেবেন, সেটা সবারই ভাবা উচিত। তিনি জানান, কিছু সমবায় ও স্বাধীন বিক্রেতা ইতিমধ্যে নিজেদের ব্যবসার পরিধি নতুন করে ভাবছে; কেউ কেউ সব সেবা দেওয়ার চেষ্টা না করে নির্দিষ্ট কাজে মনোযোগ দিতে পারে।
তাঁর নিজের প্রতিষ্ঠানই উদাহরণ। অ্যাসমাস ফার্ম সাপ্লাই মূলত ফসল সুরক্ষা পণ্য বিক্রি করে, সঙ্গে কিছু তরল উদ্ভিদ পুষ্টি, বীজ ও বীজ শোধন; অনেক সমবায়ের মতো শস্য, জ্বালানি বা পশুখাদ্যের ব্যবসা তাদের নেই। কোথায় ব্যবসা মূল্য তৈরি করে, তা বোঝাই এই সিদ্ধান্তের অংশ, বলেন তিনি।
তাঁর মতে প্রযুক্তি বিক্রেতার প্রয়োজন শেষ করে দেয় না, তবে কোথায় বিক্রেতার জায়গা, তা বদলে দেয়। কিছু সেবা নিরাপদ, কারণ প্রযুক্তি তো শস্য সংগ্রহ করে, গুঁড়া করে পশুর খাবার পৌঁছে দেবে না। কিন্তু ফসলনির্ভর বিক্রেতাদের জন্য কাজটা কঠিন, কারণ পণ্যের তথ্য, প্রয়োগের পরামর্শ, আবহাওয়া আর মাঠের অবস্থা এখন ডিজিটাল টুল থেকেই পাওয়া যায়। অ্যাসমাসের প্রশ্ন, কৃষক যেন প্রযুক্তিকে নয়, বিক্রেতাকেই বিশ্বস্ত উৎস মনে করেন, সেটা কীভাবে নিশ্চিত করা যায়।
কয়েক দশক ধরে অনেক বিক্রেতা ফসলের উপকরণ থেকে শস্য, জ্বালানি ও পশুখাদ্য পর্যন্ত সব এক জায়গায় দিতে চেয়েছে। অ্যাসমাসের ধারণা, আগামী কয়েক বছরে আরও প্রতিষ্ঠান এই মডেল নিয়ে প্রশ্ন তুলবে; কেউ নির্দিষ্ট কাজে মন দেবে, কেউ পরিধি বাড়াবে। জরুরি হলো আগের মতো চালিয়ে না গিয়ে ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নেওয়া।
ছবি: Joe Mabel / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: CropLife





মন্তব্য
(০)