শক্তিশালী এল নিনো, সার ও জ্বালানির চড়া দাম আর কম দামের চাপে দক্ষিণ আফ্রিকার বাণিজ্যিক শস্যচাষিরা এ মৌসুমে অনেক কম ভুট্টা বোনার পরিকল্পনা করছেন, জানিয়েছে ফার্মিংপোর্টাল। দেশটির ফসল প্রাক্কলন কমিটির প্রথম জরিপে দেখা গেছে, ভুট্টার জমি গত মৌসুমের ২৭ লাখ ২৪ হাজার হেক্টর থেকে ১২.৩৭ শতাংশ কমে ২৩ লাখ ৮৭ হাজার হেক্টরে নামতে পারে, যা আট বছরে সবচেয়ে কম।
নিম্ন আয়ের পরিবারের প্রধান খাদ্য সাদা ভুট্টার জমি কমতে পারে ১৮ শতাংশের বেশি। গ্রীষ্মের প্রধান ফসলগুলোর মোট জমি কমছে ২ শতাংশ। ব্যতিক্রম সূর্যমুখী: ভালো দাম, কম উপকরণ খরচ আর কম সময়ে পাকে বলে খরার ঝুঁকি কম, তাই এর পরিকল্পিত জমি বেড়েছে প্রায় ৪৫ শতাংশ। শস্যচাষিদের সংগঠন গ্রেইন এসএ জানায়, পশ্চিমাঞ্চলে মাটির আর্দ্রতা কাজে লাগাতে কোথাও কোথাও দুই মাস আগে, আগস্টেই সূর্যমুখী বোনা শুরু হয়েছে।
গ্রেইন এসএর প্রধান নির্বাহী টোবিয়াস ডয়ার বলেন, এক-দুই মৌসুম আগে সাদা ভুট্টার দাম খুব ভালো ছিল। কয়েক বছর আগে দক্ষিণ আফ্রিকা অঞ্চলের খরার পরও দাম উঁচু থাকায় কৃষকেরা সাদা ভুট্টাই বুনে গেছেন, আর এখন দেশজুড়ে গুদামের উদ্বৃত্তের বড় অংশই সাদা ভুট্টা। গত মৌসুমের বড় ফলনের পর দেশটিতে সাদা ভুট্টার রেকর্ড ৪৩ লাখ টন মজুত আছে।
জুনে তৈরি হওয়া এবারের এল নিনোকে জলবায়ুবিজ্ঞানীরা রেকর্ড শক্তিশালী মনে করছেন, ফেব্রুয়ারি-মার্চের আগে এটি দুর্বল হওয়ার সম্ভাবনা কম, অর্থাৎ গ্রীষ্মের ফসল মৌসুমের প্রায় শেষ পর্যন্ত থাকবে। সেপ্টেম্বরের বৃষ্টির পর অক্টোবরে শস্য অঞ্চলের বড় অংশ গরম ও শুকনো ছিল। ডয়ার বলেন, এল নিনোতে সাধারণত শুরুতে আর শেষে অনেক বৃষ্টি, মাঝখানে খরা হয়; মৌসুম ছোট হয়, তাই কৃষকেরা দ্রুত পাকে এমন ফসল চান। সূর্যমুখীর দিকে ঝোঁকার এটিও একটি কারণ।
কম জমির সঙ্গে খরা যোগ হলে আগামী বছরের ফলন অনেক কমে সরবরাহ টান পড়তে পারে, খাদ্যের দাম দ্রুত বাড়তে পারে। দেশটির আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাসে উত্তর-পূর্বাঞ্চল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বৃষ্টিনির্ভর চাষের বৃহত্তর অঞ্চলে খাদ্যসংকট দেখা দিতে পারে, অথচ সাহায্যের বাজেট কমে গেছে।
ছবি: Ossewa / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: ফার্মিংপোর্টাল





মন্তব্য
(০)