কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার মেঘনা বিলে তিন ফসলি জমি কেটে মাছের ঘের তৈরি করা হচ্ছে, আর কাটা মাটি বিক্রি হচ্ছে ইটভাটায়। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, এতে একদিকে আবাদি জমি কমছে, অন্যদিকে ঘেরের উঁচু বাঁধে বিলের পানি নামার পথ বন্ধ হয়ে জলাবদ্ধতা তৈরি হতে পারে।
সদর উপজেলার বৌলাই, দক্ষিণ ভরাটি ও গোয়ালাপাড়া গ্রামজুড়ে মেঘনা বিল। এই বিলের জমিতে বংশপরম্পরায় আমন ও বোরো ধানসহ নানা মৌসুমি ফসল ফলিয়ে সংসার চালান এলাকার অনেক কৃষক ও দিনমজুর। কৃষকদের ভাষ্য, গোয়ালাপাড়ার বাসিন্দা মো. সাদ্দাম হোসেন নিজের জমির সঙ্গে অন্যের জমি ইজারা নিয়ে ঘের তৈরির উদ্যোগ নিয়েছেন। জমি থেকে মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রি হচ্ছে এবং ঘেরের চারপাশে দীর্ঘ মাটির বাঁধ তৈরির প্রস্তুতি চলছে।
মেঘনা বিল শুধু চাষের জমি নয়, আশপাশের এলাকার পানি নামারও প্রধান পথ। দাসপট্টিল, ছাইহাই, মাগুরয়া ও দারিচুরা বিলের পানি এই বিল হয়ে নিষ্কাশিত হয়। তাই এখানে বাঁধ দিয়ে পানির প্রবাহ আটকালে পাঁচ বিলের বিস্তীর্ণ জমিতে জলাবদ্ধতা দেখা দিতে পারে এবং আমন-বোরোসহ বিভিন্ন ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা আছে বলে কৃষকেরা বলছেন।
স্থানীয় কৃষক মোহাম্মদ রাসেল বলেন, কিছুদিন আগে বৃষ্টির পানি জমে গেলে এলাকাবাসী নিজেরাই কোদাল দিয়ে বাঁধ কেটে পানি নামিয়ে কোনোমতে ফসল রক্ষা করেছিলেন। নতুন করে বাঁধ হলে ফসল ফলানোর সুযোগ আরও কমবে, বাড়িঘর তলিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিও থাকবে। আরেক কৃষক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম জানান, গত বছরও বৃষ্টির পানিতে অনেক জমির ধান নষ্ট হয়েছিল।
কৃষিজমি ও বসতবাড়ি রক্ষায় কৃষক ও এলাকাবাসী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তাঁদের দাবি, আগে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে জমির শ্রেণি বদলের কাজ কিছুদিন বন্ধ ছিল, এখন আবার মাটি কাটা শুরু হয়েছে। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসান মারুফ বলেছেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উর্বর উপরিভাগের মাটি একবার চলে গেলে সেই জমির উৎপাদনক্ষমতা ফিরতে দীর্ঘ সময় লাগে। বিলভিত্তিক এলাকায় একটি ঘেরের বাঁধ অনেক কৃষকের জমির পানি নিষ্কাশনকে প্রভাবিত করে, তাই এ ধরনের পরিবর্তনে স্থানীয় প্রশাসনের অনুমতি ও নজরদারি জরুরি। প্রতিবেদনটি কৃষি সময়ের কিশোরগঞ্জ সংবাদদাতার।
ছবি: Dolon Prova / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: কৃষি সময়





মন্তব্য
(০)