পূর্বাভাস পাওয়া জলবায়ু দুর্যোগের সবচেয়ে বড় ক্ষতি আসার আগেই যাতে ঝুঁকিপূর্ণ মানুষ প্রস্তুতি নিতে পারেন, সে জন্য দক্ষিণ সুদানে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) ও বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচিকে (ডব্লিউএফপি) ২১ লাখ পাউন্ড (২৮ লাখ ডলার) দিয়েছে যুক্তরাজ্য। ডব্লিউএফপি ৩০ অক্টোবর এ কথা জানিয়েছে।
এল নিনোর কারণে দক্ষিণ সুদানে খরা ও বন্যা দুটিরই ঝুঁকি আছে। দুই সংস্থা জঙ্গলেই, ইউনিটি ও আপার নাইল রাজ্যে বন্যার আগাম কাজ করবে: আগাম সতর্কতায় সহায়তা, বন্যার আগে নগদ অর্থ, জীবিকা সুরক্ষা, শ্রমঘন জনকাজ এবং ত্রাণসামগ্রী আগে থেকে মজুত।
কর্মসূচি চলবে ২০২৭ সালের মার্চ পর্যন্ত, তিন ভাগে। নির্ধারিত সংকেত মিললে বন্যার আগেই ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলোর কাছে সহায়তা যাবে; সমাজভিত্তিক আগাম সতর্কব্যবস্থা পরিবারগুলোকে সময়মতো তথ্য দেবে, যাতে তারা আগে থেকে ব্যবস্থা নিতে পারে; আর যেখানে আগে থেকে ঠিক করা বন্যার সংকেত নেই, সেখানে নদীর পানির পর্যবেক্ষণ, বিশেষজ্ঞ বিশ্লেষণ ও ঝুঁকি মূল্যায়ন দেখে আগাম পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এতে সরকারের সঙ্গে সমন্বয় মুখ্য।
দক্ষিণ সুদানে এফএওর ভারপ্রাপ্ত প্রতিনিধি Felix Dzvurumi (ফেলিক্স জভুরুমি) বলেন, "লাখ লাখ দক্ষিণ সুদানির খাদ্য ও আয়ের প্রধান উৎস কৃষি, আর জলবায়ুর আঘাত দুটিকেই হুমকিতে ফেলছে।" তিনি জানান, আগাম সতর্কতাকে কাজে রূপ দিয়ে এফএও কৃষক, পশুপালক ও জেলেদের জীবিকা রক্ষায় সাহায্য করছে। ডব্লিউএফপির দেশীয় পরিচালক Mutinta Chimuka (মুতিন্তা চিমুকা) বলেন, "সব খরা বা বন্যা আমরা ঠেকাতে পারি না, কিন্তু আগে থেকে জানা দুর্যোগকে মানবিক বিপর্যয়ে পরিণত হওয়া থেকে থামাতে পারি।" যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র, কমনওয়েলথ ও উন্নয়ন দপ্তরের দক্ষিণ সুদানের উন্নয়ন পরিচালক Sebastian Fouquet (সেবাস্টিয়ান ফুকে) বলেন, লক্ষ্য হলো সংকট চরমে ওঠার আগেই পরিবারগুলোর কাছে পৌঁছে তাদের গবাদিপশু, খাদ্য ও সম্পদ রক্ষায় সাহায্য করা।
আগাম পদক্ষেপে জলবায়ুর তথ্য, পূর্বাভাস ও সতর্কব্যবস্থা কাজে লাগিয়ে জনগোষ্ঠী ও সহায়তা সংস্থাগুলো অনুমেয় বিপদ জরুরি অবস্থায় পৌঁছানোর আগেই ব্যবস্থা নেয়। এই অনুদান যুক্তরাজ্যের মানবিক সংকট তহবিলের আগাম পদক্ষেপ সহায়তার অংশ। এ নিয়ে দক্ষিণ সুদানে এল নিনো প্রস্তুতিতে যুক্তরাজ্যের মোট অর্থ দাঁড়াল সাড়ে ২৮ লাখ পাউন্ডের বেশি, যার প্রায় সাড়ে সাত লাখ পাউন্ড পেয়েছে থ্রাইভ কনসোর্টিয়াম।
ছবি: Oxfam East Africa / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
সূত্র: ডব্লিউএফপি





মন্তব্য
(০)