চলতি সপ্তাহের মঙ্গলবার বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে অ্যাকসেলার (অ্যাকসেলারেটিং স্কেলিং অব লো-এমিশনস রাইস ইন সাউথইস্ট এশিয়া) উদ্যোগে যুক্ত হয়েছে, যার লক্ষ্য ধানখেত থেকে মিথেন নিঃসরণ কমানো। বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কলামে ঢাকা ট্রিবিউনের সম্পাদক রিয়াজ আহমেদ এই পদক্ষেপকে গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ বলেছেন, বিশেষ করে ৯ থেকে ২০ নভেম্বরের কপ-৩১ জলবায়ু সম্মেলনের আগে।
লেখকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, ফিলিপাইন ও ইন্দোনেশিয়া আগে থেকেই এ কর্মসূচির সুবিধা পাচ্ছে। দেশের আবাদি জমির প্রায় তিন-চতুর্থাংশে ধান চাষ হয়, আর ধান থেকে বছরে আনুমানিক ৩২.৪ মিলিয়ন টন কার্বন ডাই-অক্সাইড সমতুল্য মিথেন নির্গত হয়। তাঁর তুলনায়, এটি প্রায় ৭৭ লাখ পেট্রলচালিত গাড়ির এক বছরের নিঃসরণের সমান।
মিথেন ২০ বছরের হিসাবে কার্বন ডাই-অক্সাইডের চেয়ে ৮৬ গুণ বেশি উষ্ণতা বাড়ায়। কলামে বলা হয়েছে, এর মূল উৎস সেচনির্ভর বোরো ধান, যেখান থেকে দেশের মোট ধানের প্রায় ৫৫ শতাংশ আসে। জমিতে দীর্ঘ সময় পানি জমিয়ে রাখলে অক্সিজেনশূন্য মাটিতে মিথেন উৎপাদনকারী ব্যাকটেরিয়া সক্রিয় হয়; পাশাপাশি ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নামছে, সেচ ও জ্বালানির খরচ বাড়ছে।
সমাধান হিসেবে লেখক পর্যায়ক্রমে জমি ভেজানো ও শুকানো (এডব্লিউডি), সার গভীরে প্রয়োগ, সরাসরি বীজ বপন (ডিএসআর) আর স্বল্পমেয়াদি জাতের কথা বলেছেন। এডব্লিউডিতে নির্দিষ্ট সময় পরপর জমি শুকিয়ে মাটিতে বাতাস ঢুকতে দেওয়া হয়, এতে মিথেন কমে, ভূগর্ভস্থ পানিও বাঁচে।
পরিমাপের সমস্যাও এখন স্যাটেলাইট প্রযুক্তিতে সহজ হচ্ছে। কলামে উল্লেখ আছে, আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইআরআরআই) সম্প্রতি ঢাকায় নিঃসরণ পরিমাপ, প্রতিবেদন ও যাচাইয়ের (এমআরভি) সক্ষমতা নিয়ে সভা করেছে। বাংলাদেশে আইআরআরআইয়ের প্রধান ড. হুমনাথ ভান্ডারি ডিজিটাল এমআরভিকে সাশ্রয়ী ও নির্ভুল পদ্ধতি বলেছেন। থাইল্যান্ডে আইআরআরআইয়ের দায়িত্বে থাকা ড. বিয়র্ন ওলে স্যান্ডার জানান, সেখানে ছয় প্রদেশের এক লাখ হেক্টরে কম নিঃসরণের ধান চাষে কৃষকদের যুক্ত করা হয়েছে।
লেখকের মতে, সফল বাস্তবায়নে জাতীয় মিথেন হ্রাস রূপরেখায় অগ্রগতি, পানির দক্ষ ব্যবহার আর জলবায়ু তহবিলের সুযোগ আসবে, যা কৃষকদের কার্বন বাজারে অংশ নিতে সাহায্য করতে পারে। তবে মূল চ্যালেঞ্জ হিসেবে তিনি দেখছেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাঠকর্মীদের সক্ষমতা ও সদিচ্ছা, যাতে প্রযুক্তি গবেষণাগার পেরিয়ে কৃষকের মাঠে পৌঁছায়।
মতামতগুলো লেখকের নিজস্ব।
ছবি: নিয়ন্ত্রিত পানিতে ধানখেত (প্রতীকী), Prathvi Acharya / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 4.0)
সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন





মন্তব্য
(০)