শীত পড়ার আগেই পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার জলাশয়গুলোতে পরিযায়ী পাখি আসতে শুরু করেছে। কাঁসাই নদীর ধারে আর সামাট ও দলপতিপুরের মতো জলাশয়ে দেখা মিলছে নানা প্রজাতির পাখির, খবর দিয়েছে কলকাতার দৈনিক এই সময়।
পাখি গবেষকেরা এবার দুটি বিষয় বিশেষভাবে লক্ষ করেছেন। প্রথমটি গ্লসি আইবিস বা খয়রা কাস্তেচেরার উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি। গবেষক ওস্পিতা পাত্র জানান, ঘাটালের গড়প্রতাপনগরে প্রায় ২০ থেকে ২২টি, সামাটে ছয়টি আর দলপতিপুরে দুটি দেখা গেছে। এই জেলায় পাখিটির প্রথম উপস্থিতি নথিভুক্ত করেছিলেন আইরিশ পক্ষীপ্রেমী ভ্যালেন্টাইন বেল, ১৮৭৮ সালে।
দ্বিতীয়টি একই সঙ্গে তিন প্রজাতির হট্টিটির দেখা: গ্রে হেডেড ল্যাপউইং বা সালাং, ইয়েলো ওয়াটলড ল্যাপউইং বা হলুদ হট্টিটি এবং রেড ওয়াটলড ল্যাপউইং বা লাল লতিকা হট্টিটি। মেদিনীপুর সদর ব্লকের কঙ্কাবতীর কাছে কাঁসাই নদীর বাঁকে এক ফ্রেমে তিনটিকেই পাওয়া গেছে।
এ ছাড়া জলাশয়ে সরাল, স্বর্ণ জিরিয়া, কাদাখোঁচা, সাদা খঞ্জনা, সবুজ বালুবাটান, সাধারণ বালুবাটান, বনবাটান আর বাঁশবনে কমলা দামার দেখা মিলছে। পক্ষীপ্রেমীদের মতে, এতে বোঝা যায় জেলার কয়েকটি জলাশয়ের পরিবেশ এখনো ভালো আছে।
কেশপুর কলেজের অধ্যাপক ও পশ্চিমবঙ্গ জীববৈচিত্র্য পর্ষদের পাখিগণনার সঙ্গে যুক্ত সুমন প্রতিহার অবশ্য সতর্ক করেছেন, অনেক জলাশয় নষ্ট হয়ে যাওয়ায় পরিযায়ী পাখি আর সব জায়গায় আসে না; অনেক দল পুরোনো জায়গা ছেড়ে নতুন জলাশয় খুঁজে নিচ্ছে। শীত বাড়লে পাখির সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশা পাখিপ্রেমীদের।
প্রতিবেদনটি এই সময়ের দেবার্ঘ্য ভট্টাচার্য্যের খবরের ভিত্তিতে লেখা।
ছবি: লাল লতিকা হট্টিটি (প্রতীকী), Challiyan / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.5)
সূত্র: এই সময়





মন্তব্য
(০)