পূর্বাভাস বলছে, ২০২৬-২৭ গ্রীষ্মে এল নিনো জোরালো হয়ে সুপার এল নিনোতে রূপ নিতে পারে। তাই দক্ষিণ আফ্রিকার ফ্রি স্টেট, নর্থ ওয়েস্ট, এমপুমালাঙ্গা ও লিম্পোপোর শস্য ও তেলবীজ চাষিরা এবার সর্বোচ্চ উৎপাদনের চেয়ে খরার ঝুঁকি সামলানোকে গুরুত্ব দিচ্ছেন বলে ফার্মার্স উইকলি সাউথ আফ্রিকায় ৩১ অক্টোবর লিখেছেন মাগদা ডু টয়েট। ঝুঁকি ছড়াতে কেউ কেউ আগেভাগেই সূর্যমুখী, ভুট্টা ও সয়াবিন বোনা শুরু করেছেন।
দক্ষিণ আফ্রিকার আবহাওয়া দপ্তর ও কৃষি বিভাগ তাপের চাপ, আর্দ্রতার ঘাটতি ও অসম বৃষ্টির ঝুঁকি বাড়ার সতর্কতা দিয়েছে। ফ্রি স্টেটে প্যানার সিডের এলাকা বিক্রয় ব্যবস্থাপক Jaco Naudé (ইয়াকো নোদে) বলেন, চাষিরা বপনের কৌশল বদলাতে, প্রান্তিক জমিতে ভুট্টার আবাদ কমাতে, সূর্যমুখী লাগাতে, ধাপে ধাপে বপন করতে এবং সার ও বীজের হার নতুন করে ভাবতে পারেন; গরমের সময় দিনের ঠান্ডা অংশে সেচ দিলে চাপ কিছুটা কমে।
সিনজেন্টা সিডস সাউথ আফ্রিকার Charles Basson (চার্লস বাসন) বলেন, বপনের সময় ও তার পরের কয়েক দিন মাটির তাপমাত্রায় নজর রাখতে হবে, কারণ দিনের গরম আর রাতের ঠান্ডার ওঠানামা ফসলকে চাপে ফেলে এবং মাটিতে লুকিয়ে থাকা স্ক্লেরোটিনিয়া ছত্রাককে সক্রিয় করে, যা সূর্যমুখীর ক্ষতি করে। ভুট্টায় শুরুর কয়েক সপ্তাহের আগাছা দমন জরুরি বলেও জানান তিনি। সিনজেন্টা সিডকেয়ারের Yolandi Furniss (ইয়োলান্ডি ফার্নিস) বলেন, খরায় কৃমির ক্ষতি প্রায়ই বাড়ে, আর বীজ শোধন চারার কচি শিকড় রক্ষা করে।
গ্রেইন এসএর ফলিত অর্থনীতির প্রধান Corné Louw (কর্নে লাউ) বলেন, উপকরণের বাড়তি দাম, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় জ্বালানিনির্ভর উপকরণ, শস্যের কম দাম আর মৌসুমের শেষে খরার ঝুঁকি মিলিয়ে ২০২৬-২৭ অপরীক্ষিত পণ্য বা পদ্ধতি নিয়ে পরীক্ষার বছর না-ও হতে পারে। তিনি সঠিক উপকরণ, সঠিক পরিমাণে, প্রতিযোগিতামূলক দামে কেনা, মাটি বিশ্লেষণ ও বাস্তব ফলনের লক্ষ্য ধরে সার পরিকল্পনা এবং প্রতিটি ফসল ও জমির উৎপাদন খরচ জানার পরামর্শ দেন।
হুপস্টাড এলাকার ক্রমভ্লেই বোয়েরডেরির কৃষক Petrus Roux (পেট্রাস রু) অর্ধেক জমিতে ভুট্টা আর বাকি অর্ধেকে চিনাবাদাম, সয়াবিন ও সূর্যমুখী চাষ করেন, সঙ্গে গবাদিপশু ও বন্যপ্রাণী পালেন। তিনি জানান, প্রতিটি ফসল তোলার পরই আবহাওয়ার পূর্বাভাসসহ পরের মৌসুমের পরিকল্পনা শুরু করেন।
ছবি: Lotus Head / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: ফার্মার্স উইকলি সাউথ আফ্রিকা





মন্তব্য
(০)