ভারতের মহারাষ্ট্র ও কর্ণাটকের খরাপ্রবণ ও আধা-শুষ্ক এলাকায় ক্ষুদ্র কৃষকের জলবায়ু সহনশীলতা, আয় ও বাজারের সুযোগ বাড়াতে ওয়ালমার্ট ফাউন্ডেশনের সহায়তায় প্রোরাইজ প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্ব শুরু করেছে Watershed Organisation Trust (ওয়াটারশেড অর্গানাইজেশন ট্রাস্ট, ডব্লিউওটিআর)। কৃষি জাগরণ ৩১ অক্টোবর এ খবর দিয়েছে।
প্রোরাইজ-২ পাঁচটি জেলার ৪০টি কৃষক উৎপাদক সংগঠনের (এফপিও) মাধ্যমে ৩৫ হাজার কৃষক পরিবারের সঙ্গে কাজ করবে। এতে থাকবে জলবায়ু সহনশীল চাষ, মাটি ও পানি ব্যবস্থাপনা, ক্ষুদ্র সেচ, জৈব উপকরণের প্রাপ্যতা, এফপিওর নেতৃত্ব, পরিচালনা ও ব্যবসার দক্ষতা, একত্রে বিক্রি, মূল্য সংযোজন, বাজারে প্রবেশ ও ডিজিটাল সরঞ্জাম। নারীবান্ধব পরিচালনা ও কৃষি-বাস্তুতান্ত্রিক চর্চা নিয়ে তথ্যপ্রমাণও সংগ্রহ করা হবে।
প্রথম পর্বে মহারাষ্ট্রের সোলাপুর, ধারাশিব ও জালনা জেলার ১১টি এফপিওর ১১,৮০০-র বেশি কৃষক সহায়তা পেয়েছেন। এফপিওগুলোর মোট ব্যবসা দাঁড়ায় ৪৪.৮৬ কোটি রুপি, আর ১২টি দল অবশেষমুক্ত চাষের জন্য অংশগ্রহণমূলক নিশ্চয়তা ব্যবস্থার (পিজিএস) সনদের পথে এগিয়েছে। তিন বছরে অংশ নেওয়া কৃষকের ফসল বিক্রির গড় নিট আয় ১,৫৭,০৪৬ থেকে বেড়ে ২,৩৭,১৮৪ রুপি হয়েছে, তুলনামূলক পরিবারগুলোতে যা বেড়েছে ১,৩৭,৩৯২ থেকে ১,৯০,০৭৮ রুপি। নমুনা কৃষকদের ৭৬ শতাংশ উন্নত জাত বা জলবায়ু সহনশীল চর্চা গ্রহণ করেছেন, ৫৫ শতাংশ বালাইনাশক ও রাসায়নিক স্প্রে কমিয়েছেন। এফপিওগুলো এখন ৩২ জন ক্রেতার সঙ্গে কাজ করছে, নিজস্ব ব্র্যান্ডে আছে ৫২টি পণ্য।
ওয়ালমার্ট ফাউন্ডেশনের সামাজিক ও পরিবেশ দলের Nishant Gupta (নিশান্ত গুপ্তা) বলেন, "ক্ষুদ্র কৃষকেরা ক্রমেই অনিশ্চিত হয়ে ওঠা জলবায়ুর মধ্যে আরও নিরাপদ ও টেকসই জীবিকা গড়ার চেষ্টা করছেন।" ডব্লিউওটিআর বলেছে, ভালো বাজার, টেকসই ব্যবসা ও প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষার পাশাপাশি এফপিওর নেতৃত্ব ও সিদ্ধান্তে নারীর অর্থবহ ভূমিকা থাকা জরুরি।
প্রকল্প শেষে দুই রাজ্যের ৩০টি এফপিওকে জলবায়ু সহনশীল, বাজারমুখী ও পেশাদারভাবে পরিচালিত কৃষক মালিকানার প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার লক্ষ্য ডব্লিউওটিআরের, আর এ থেকে পাওয়া শিক্ষা ভারতের অন্য জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার জন্য মডেল হিসেবে কাজে লাগাতে চায় তারা।
ছবি: लोकपर्याय (Lokparyay), Vaijapur / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: কৃষি জাগরণ





মন্তব্য
(০)