প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্য ও পূর্ব অংশে সমুদ্রপৃষ্ঠের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি উষ্ণ হওয়ার ঘটনা এল নিনো গত কয়েক মাসে আরও শক্তিশালী হয়েছে। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা বলছে, এবারের এল নিনো আরও শক্তি সঞ্চয় করবে এবং অন্তত ২০২৭ সাল পর্যন্ত থাকবে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওশানিক অ্যান্ড অ্যাটমোসফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এনওএএ) ২০২৬ সালের বাকি সময়ে পরিস্থিতি আরও জোরালো হওয়ার আশঙ্কা করছে।
অনেক পূর্বাভাস বলছে, এটি রেকর্ডকৃত ইতিহাসের অন্যতম শক্তিশালী এল নিনো হতে পারে। কয়েক দশকের মানবসৃষ্ট উষ্ণায়নের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ২০২৭ সাল রেকর্ডের সবচেয়ে উষ্ণ বছর হতে পারে, যা আবহাওয়া, খাদ্য সরবরাহ ও অর্থনীতিতে বড় বিঘ্ন ঘটাতে পারে।
প্রথম প্রভাব ইন্দোনেশিয়ায়: ২০১৫ সালের পর সবচেয়ে ভয়াবহ দাবানলের মৌসুম চলছে। জানুয়ারি থেকে অন্তত আট লাখ ৯৫ হাজার ৬৫৭ হেক্টর জমি পুড়েছে, যা গত বছরের দ্বিগুণের বেশি। সুমাত্রা ও কালিমানতানে ধোঁয়াশায় প্রায় এক লাখ ৭৫ হাজার মানুষ শ্বাসতন্ত্রের অসুখে ভুগেছেন, তাঁদের ৪০ হাজারের বেশি শিশু।
দ্বিতীয়ত, পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে এ পর্যন্ত ২২টি নামকরণ করা ঝড় ও ১২টি হারিকেন হয়েছে, যার ১০টি বড় ধরনের; মৌসুম শেষ হতে দুই মাস বাকি থাকতেই সংখ্যাটি গড় মৌসুমকে ছাড়িয়ে গেছে। তৃতীয়ত, উল্টো চিত্র আটলান্টিকে: বাতাসের উইন্ড শিয়ার বেড়ে যাওয়ায় এ পর্যন্ত মাত্র একটি হারিকেন, ইসাইয়াস, হয়েছে; স্যাটেলাইট যুগে এটিই সবচেয়ে দেরিতে গঠিত প্রথম হারিকেন।
চতুর্থ প্রভাব কৃষির জন্য সবচেয়ে উদ্বেগের: ভারতে মৌসুমি বৃষ্টি গড়ের চেয়ে ১৩ শতাংশ কম হয়েছে। পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ঘাটতি প্রায় ২৬ শতাংশ, দক্ষিণের রাজ্যগুলোতে ২৪ শতাংশ। যেখানে মোট বৃষ্টি গড়ের কাছাকাছি, সেখানেও দীর্ঘ শুষ্ক সময়ের পর হঠাৎ অতিবৃষ্টি হয়েছে, এতে কৃষি উৎপাদনের ঝুঁকি বেড়েছে। বিজ্ঞানীরা অবশ্য মনে করছেন, এল নিনোই এর একমাত্র কারণ নাও হতে পারে।
পঞ্চমত, পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে জাপান আবহাওয়া সংস্থার হিসাবে ১০টি ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড় হয়েছে, ১৯৬৬ সালের পর কোনো মৌসুমে যা সর্বোচ্চ। এল নিনোর সময় ঝড়গুলো জাপান ও পূর্ব চীন থেকে আরও পূর্বে তৈরি হয়ে উষ্ণ সাগর পেরোতে বেশি সময় পায়, ফলে আরও শক্তিশালী টাইফুনে পরিণত হতে পারে।
ছবি: ২০১৫ সালের নভেম্বরে এল নিনোর সময় সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রার অসংগতি, NOAA / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: বাংলা নিউজ ২৪





মন্তব্য
(০)