হেমন্তের এক সপ্তাহ পেরোলেও তিস্তাপাড়ে ভাঙন থামেনি। লালমনিরহাটের হাতিবান্ধার ডাউয়াবাড়ি এবং রংপুরের গঙ্গাচড়ার লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের জয়রামওঝা চল্লিশসাল এলাকায় এক সপ্তাহে ২৭টি পরিবারের ঘরবাড়ি নদীতে বিলীন হয়েছে। স্থানীয়দের হিসাবে উঠতি আমন ধানসহ অন্তত ৫০ একর ফসলি জমি নদীগর্ভে চলে গেছে।
জমি হারানোর আগে বাধ্য হয়ে কাঁচা আমন ধান কেটে গবাদিপশুকে খাওয়াচ্ছেন কৃষকেরা। লালমনিরহাট জেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইখুল আরেফিন বলেন, তিস্তার দুই তীরে ভাঙন তীব্র হওয়ায় এ পর্যন্ত সাড়ে ১৭ বিঘা জমির আমন কাঁচা অবস্থায় কেটেছেন কৃষকেরা।
ভুক্তভোগীরা জানান, সম্প্রতি তিস্তার পানি বাড়ার পর স্রোত তীব্র হয়; পানি কমতে শুরু করলে স্রোতের গতিপথ চরের দিকে ঘুরে যায়। কেউ ঘর সরিয়ে নিচ্ছেন, কেউ শেষ মুহূর্তে ঘর রক্ষার চেষ্টা করছেন। চরের বাসিন্দা জাহেদুল ইসলাম বলেন, কয়েক বছর ধরে তাঁরা এই চরে চাষাবাদ করে জীবিকা চালাচ্ছেন।
লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীল রায় বলেন, পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে ভাঙন তীব্র হয়েছে, কিন্তু এখন কোনো বরাদ্দ না থাকায় ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না। রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী হাফিজুল হক জানান, এলাকা পরিদর্শন করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
লক্ষ্মীটারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদী বলেন, প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড এলাকা পরিদর্শন করলেও এখনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। গঙ্গাচড়ার উপজেলা নির্বাহী অফিসার জেসমিন আক্তার জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সহায়তা দেওয়া হবে।
বাংলা ট্রিবিউন খবরটি বাসসের বরাতে প্রকাশ করেছে।
ছবি: সুন্দরগঞ্জে তিস্তার ভাঙন, Ibrahim Husain Meraj / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন





মন্তব্য
(০)