জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার কড়ইচড়া ইউনিয়নের বিনোদটঙ্গী এলাকায় মরিচগাছে অজানা রোগ দেখা দিয়েছে। গাছে মরিচ ধরতে শুরু করার পরই ডালপালা শুকিয়ে যাচ্ছে, কিছু গাছ পুরোপুরি মরে গেছে। সার ও কীটনাশক দিয়েও সুফল মিলছে না বলে জানিয়েছেন কৃষকেরা।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ওই এলাকার সাতজন কৃষক প্রায় পাঁচ একর জমিতে বগি, পিউর ও প্রিমিয়াম জাতের মরিচ চাষ করেছেন। ফলন পাওয়ার আগেই বড় লোকসানের আশঙ্কা করছেন তাঁরা।
কৃষক আব্দুস সামাদ ৪৬ শতাংশ জমিতে মরিচ চাষে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা খরচ করেছেন। তিনি বলেন, গত সপ্তাহ থেকে গাছে রোগের লক্ষণ দেখা দিচ্ছে, নানা ওষুধ দিয়েও গাছ বাঁচানো যাচ্ছে না, আর কৃষি অফিস থেকে কেউ খোঁজ নেননি। কৃষক শহীদুল ইসলাম ও নুর ইসলামও জানান, কী রোগ হয়েছে তাঁরা বুঝতে পারছেন না।
আরেক কৃষক ইউনুছ মণ্ডলের অভিযোগ, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার সঙ্গে ফোনে কথা হলেও তিনি সরেজমিনে আসেননি; উল্টো কৃষকদেরই নানা প্রশ্ন করা হয়েছে।
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রাজিব মিয়া বলেন, তাঁর মূল দায়িত্ব গুনারীতলা ইউনিয়নে, বিনোদটঙ্গীতে তিনি অতিরিক্ত দায়িত্বে আছেন। সিধুলী ইউনিয়নে কৃষি কার্ডের কাজে ব্যস্ত থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত খেত পরিদর্শনে যেতে পারেননি। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান জানান, কৃষকদের অফিসে এসে পরামর্শ নিতে বলা হয়েছে; তবে গাছ কেন শুকাচ্ছে বা কবে খেত পরিদর্শন হবে, সে বিষয়ে তিনি নির্দিষ্ট কিছু বলেননি।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যে, চলতি মৌসুমে মাদারগঞ্জে ৭৫০ হেক্টর জমিতে মরিচ চাষের লক্ষ্য থাকলেও আবাদ হয়েছে ১ হাজার ৫০ হেক্টরে, লক্ষ্যের চেয়ে ৩০০ হেক্টর বেশি। রোগ দ্রুত শনাক্ত না হলে উপজেলার বড় এই আবাদে ক্ষতি ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা কৃষকদের।
প্রতিবেদনটি জাগো নিউজ ২৪-এর জামালপুর জেলা প্রতিনিধির।
ছবি: বগুড়ার একটি মরিচখেত, Afifa Afrin / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: জাগো নিউজ ২৪





মন্তব্য
(০)