দক্ষিণ আফ্রিকার ইস্টার্ন কেপ প্রদেশের তরুণ কৃষক পালেসা সোতশোঙ্গায়ে (Palesa Sotshongaye) ছাত্রভাতার টাকা জমিয়ে পরিবারের আধা হেক্টরের বাড়ির বাগানকে বাণিজ্যিক খামারে পরিণত করেছেন, জানিয়েছে ফুড ফর মজানসি।
মাউন্ট ফ্লেচারের আপার নাক্সাক্সা গ্রামে বড় হওয়া পালেসা ২০২০ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ইঙ্গওয়ে টিভিইটি কলেজে ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা পড়েন। ২০২১ সালে স্কুলের সাবেক শিক্ষক সেশোবার সঙ্গে আলাপে তাঁর ভাবনা বদলায়: 'তিনি সব সময় শিখিয়েছেন, কৃষি শুধু মাঠের কাজ নয়, এটি এমন ব্যবসা যা কর্মসংস্থান তৈরি করে আর সমাজের মুখে খাবার তোলে।' সহপাঠীরা যখন জাতীয় ছাত্র আর্থিক সহায়তা প্রকল্পের (এনএসএফএএস) ভাতা খরচ করতেন, তিনি তিন বছর তা জমিয়েছেন। 'সবচেয়ে কঠিন ছিল নিজেকে না বলা,' বলেন তিনি।
২০২২ সালে তিনি কুম্বুর গোদিনি গ্রামে চলে যান, যেখানে পরিবার তাঁকে আধা হেক্টরের বাগান ব্যবহার করতে দেয়। জমানো টাকায় প্রথম বীজ ও মুরগি কেনেন, পালং শাক ও বাঁধাকপি লাগান এবং বাড়ির একটি ঘরকে মুরগির ঘর বানান। ২০২৪ সালে ব্যবসাটি 'ইফিকো-লোখোজি মাল্টি পারপাস' নামে নিবন্ধন করেন; এখন আলুও চাষ করেন এবং খণ্ডকালীন স্থানীয় শ্রমিক রাখেন।
পানির সংকট, অনিশ্চিত আবহাওয়া ও পোকামাকড় নিত্যসঙ্গী। তিনি বৃষ্টির পানি ধরে রাখেন, জৈব কম্পোস্ট বানান এবং স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তার পরামর্শ নেন। বারবার সরকারি দপ্তরে আবেদন করেও কোনো বাইরের অর্থ পাননি; খামার চলছে লাভের টাকা আবার বিনিয়োগ করে।
তাঁর সবজি ও মুরগি এখন যায় স্থানীয় পরিবার, আশপাশের স্কুল এবং কুম্বুর বক্সার ও স্পার সুপারমার্কেটে। বরাদ্দ পাওয়া পাঁচ হেক্টর জমি ঘেরা দেওয়া, ট্রাক্টর কেনা, আলাদা মুরগির ঘর, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ আর কৃষি বিষয়ে পড়াশোনা তাঁর পরিকল্পনায়। নতুনদের প্রতি তাঁর পরামর্শ: 'ছোট করে শুরু করুন, ধৈর্য রাখুন, মাটি আর মুরগিকে চিনুন, স্থানীয় কৃষি অফিসে যান, হাল ছাড়বেন না।'
প্রতিবেদনটি লিখেছেন ফুড ফর মজানসির লিসাকানিয়া ভেন্না।
সূত্র: ফুড ফর মজানসি



মন্তব্য
(০)