খরার কারণে বাড়তি খাদ্যখরচ, গরুর মাংস প্রক্রিয়াকরণ সক্ষমতার ওঠানামা এবং আমদানি বৃদ্ধির চাপ নিয়ে ২০২৬ সালের শেষ প্রান্তিকে ঢুকছে যুক্তরাষ্ট্রের গরুর বাজার। টেরেইন অ্যাগের (Terrain Ag) বিশ্লেষক ডেভ উইবার (Dave Weaber)-এর বরাতে এ খবর দিয়েছে নর্দার্ন এজি নেটওয়ার্ক। গ্রীষ্মের শুরুতে রেকর্ড উচ্চতায় ওঠার পর গরুর দাম কমেছে, সামনের পথও অনিশ্চিত।
গ্রীষ্মের শেষে দেশের মোট গরুর ৮০ শতাংশের বেশি ছিল অস্বাভাবিক শুষ্ক বা তার চেয়ে খারাপ খরাপীড়িত এলাকায়। মধ্য ও উত্তর প্লেইনসে প্রায় ৬০ দিনে খড়ের দাম টনপ্রতি আনুমানিক ১৫০ থেকে ২০০ ডলার বেড়েছে, যা গাভি-বাছুর খামারের খরচ বাড়িয়েছে এবং পাল বড় করা কঠিন করেছে।
কসাইখানার সক্ষমতা আংশিক ফিরেছে। আগস্টে টাইসন ফুডস ইলিনয়ের জসলিনের কারখানা বন্ধ করে, টেক্সাসের অ্যামারিলোতে দ্বিতীয় শিফট ফেরায় এবং ওয়াশিংটনের প্যাসকো কারখানা বিক্রির পরিকল্পনা জানায়; সেপ্টেম্বরে শ্রমিক চুক্তির পর কারগিল কলোরাডোর ফোর্ট মর্গান কারখানা আবার চালু করে। মোটাতাজা গরু জবাইয়ের সক্ষমতা গ্রীষ্মের সর্বনিম্ন অবস্থান থেকে দিনে প্রায় ৪,০০০টি বেড়েছে, তবে গত বছরের চেয়ে এখনো দিনে প্রায় ৭,৮০০টি কম। নিউ ওয়ার্ল্ড স্ক্রুওয়ার্মের নিষেধাজ্ঞার পর মেক্সিকো থেকে বাছুর আমদানিও আবার শুরু হচ্ছে: অ্যারিজোনার ডগলাস বন্দর দিয়ে সপ্তাহে প্রায় ৪,০০০টি এবং ২৪ সেপ্টেম্বর খোলা নিউ মেক্সিকোর সান্তা তেরেসা দিয়ে শুরুতে সপ্তাহে প্রায় ৩,৭৫০টি গরু ঢুকবে, যা পরে ৭,৫০০ থেকে ৮,০০০টিতে উঠতে পারে।
বাণিজ্যনীতিও চাপ বাড়াচ্ছে। আগস্টের এক নির্বাহী আদেশে কোটার বেশি কিছু গরুর মাংস আমদানিতে বাড়তি ২৬.৪ শতাংশ শুল্ক ৯০ দিনের জন্য স্থগিত হয়েছে, ফলে মূলত ব্রাজিল থেকে ৩ লাখ মেট্রিক টন পর্যন্ত মাংসের টুকরা ঢুকতে পারবে। উইবারের ধারণা, বাস্তবে আসবে প্রায় দেড় লাখ টন, যার এক লাখ টন আগেই যুক্তরাষ্ট্রমুখী ছিল; এতে কিমার সরবরাহ ২ থেকে ৩ শতাংশ বাড়বে। তাঁর হিসাবে তৃতীয় ও চতুর্থ প্রান্তিকে বক্সড বিফের দাম গত বছরের চেয়ে হান্ড্রেডওয়েটপ্রতি ১৫ থেকে ২০ ডলার এবং মোটাতাজা গরুর দাম ৯ থেকে ১২ ডলার কম থাকবে।
উইবারের নতুন পূর্বাভাস অনুযায়ী তৃতীয় প্রান্তিকে পাঁচ অঞ্চলের মোটাতাজা ষাঁড়ের গড় দাম হবে হান্ড্রেডওয়েটপ্রতি ২৩০ থেকে ২৩৫ ডলার, যা আগের পূর্বাভাসের চেয়ে প্রায় ৩০ ডলার কম; চতুর্থ প্রান্তিকেও কাছাকাছি থাকবে। এতে হেজ না করা খামারিদের তৃতীয় প্রান্তিকে বিক্রি করা গরুতে মাথাপিছু ২০০ থেকে ২৫০ ডলার লোকসান হতে পারে। বাছুর-গরুর দাম তৃতীয় প্রান্তিকে ৩৪০ থেকে ৩৫০ এবং চতুর্থ প্রান্তিকে ৩৫০ থেকে ৩৭০ ডলার থাকবে বলে তাঁর ধারণা। চয়েস বক্সড বিফের দাম হান্ড্রেডওয়েটপ্রতি ৩৭৫ থেকে ৩৮০ ডলারে স্থিতি পেয়েছে বলে মনে হচ্ছে।
ছবি: Billy Hathorn / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: নর্দার্ন এজি নেটওয়ার্ক





মন্তব্য
(০)