দেশে উচ্চমূল্যের ফল ও অসময়ের সবজিতে সম্ভাবনা তৈরি হলেও অতিরিক্ত রাসায়নিক, রোগবালাই আর প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তার অভাবে সংকটে পড়েছেন চাষিরা। দিনাজপুর টিভির কৃষি ডেস্কের প্রতিবেদনে এ কথা তুলে ধরেছেন প্রবীণ চাষি ও সংগঠক হারুনুর রশিদ মুসা।
সরকারি সহায়তায় ৩৩ শতাংশ জমিতে তৈরি পলিহাউসে তিনি গ্রীষ্মকালীন টমেটো, আগাম জাতের ক্যাপসিকাম ও গাজরের মতো অসময়ের দামি সবজি চাষ করছেন। বর্ষায় খোলা মাঠে ভারী বৃষ্টিতে সবজি নষ্ট হয়, কিন্তু নিয়ন্ত্রিত আচ্ছাদনের ভেতরে ফসল স্বাভাবিকভাবে বাড়ে; অসময়ে বাজারে তুলে মৌসুমের চেয়ে অনেক বেশি দাম মেলে। মাঠে বাণিজ্যিকভাবে আনারকলি, অ্যাভোকাডো ও ড্রাগন হচ্ছে, পরীক্ষামূলকভাবে বারোমাসি কাঁঠাল, আবিয়ু, রামবুটান ও লংগান। দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ লাগে বলে এসব ফল তিনি লিজের বদলে নিজের জমিতে চাষ করেন। পাকা ড্রাগন পাখির হাত থেকে বাঁচাতে বাগানে বিশেষ জাল ব্যবহার হচ্ছে।
তবে ড্রাগন চাষে এখন দীর্ঘ মন্দা। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশকে গাছের আয়ু কমেছে, কাণ্ডে জটিল রোগ বাসা বেঁধেছে; ফলে মাত্রাতিরিক্ত কৃত্রিম হরমোন দেওয়ায় ভোক্তারা মুখ ফিরিয়েছেন। আগে যেখানে কেজি ৫০০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি হতো, এখন ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বেচেও খরচ ওঠে না; অনেক বড় উদ্যোক্তা বাগান গুটিয়ে নিচ্ছেন। ক্ষতিকর হরমোন বন্ধে সরকারি নজরদারি আর রোগ নিরাময়ে বিজ্ঞানীদের মাঠপর্যায়ের গবেষণার দাবি এসেছে।
মুসা নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় দেশের ৬৪ জেলা ঘুরেছেন, পরে বিশ্বের ১১টি দেশে আধুনিক কৃষির কলাকৌশল দেখেছেন। প্রান্তিক চাষির অধিকার রক্ষায় ২০২২ সালে গড়েছেন বাংলাদেশ ফার্মার্স অ্যাসোসিয়েশন, আর সরকারের কাছে ২৮টি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দিয়েছেন।
তাঁর একটি প্রস্তাব 'কৃষক ব্যাংক', কারণ শর্তের জটিলতায় প্রান্তিক চাষি ও কৃষি স্নাতকেরা বিদ্যমান কৃষি ব্যাংক থেকে ঋণ পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ; সেখানে কৃষি আইডি কার্ডধারী প্রকৃত কৃষক ছাড়া কোনো ব্যবসায়ী বা সংস্থা ঋণ পাবে না। কৃষক পর্যায়ে জৈব সার উৎপাদনের প্রদর্শনী খামারের ওপরও জোর দেন তিনি: রাসায়নিক সার আমদানিতে সরকারের বড় ভর্তুকি লাগে, অথচ নিজের খামারের জৈব সারে মাটির উর্বরতা রক্ষা পায় এবং বিষমুক্ত খাদ্য উৎপাদন হয়।
প্রতিবেদন: কৃষি ডেস্ক, দিনাজপুর টিভি
সূত্র: দিনাজপুর টিভি




মন্তব্য
(০)