চিরুনি চালালেই গোছা গোছা চুল উঠে আসা অনেকের কাছেই উদ্বেগের। শুধু প্রসাধনী বা ঘরোয়া পরিচর্যায় সব ধরনের চুল পড়া থামে না, কারণ এর পেছনে হরমোনের পরিবর্তন, নির্দিষ্ট ধরনের চুল পড়ার রোগ কিংবা পুষ্টির ঘাটতির মতো নানা কারণ থাকতে পারে।
হার্ভার্ডে প্রশিক্ষিত চর্মরোগ চিকিৎসক নীরা নাথন জানিয়েছেন, কয়েক বছর আগে দীর্ঘস্থায়ী অতিরিক্ত চুল ঝরা এবং বংশগতভাবে চুল পাতলা হওয়ার সমস্যায় তাঁর মাথার প্রায় অর্ধেক চুল পড়ে গিয়েছিল। ধৈর্য ধরে পরিচর্যা ও চিকিৎসায় তিনি পরিস্থিতি সামলানোর চেষ্টা করেন।
তিনি মাথার ত্বক পরিষ্কার রাখাকে গুরুত্ব দেন। খুশকি থাকায় সপ্তাহে দুই দিন খুশকি নিয়ন্ত্রণের শ্যাম্পু এবং চুলের শুষ্কতা ও আগা ফাটা কমাতে সপ্তাহে এক দিন হেয়ার মাস্ক ব্যবহার করতেন। রাতে মাথার ত্বকে পাঁচ শতাংশ মিনোক্সিডিল ফোম ব্যবহার করতেন বলেও জানান, তবে নিজে নিজে এ ধরনের ওষুধ শুরু না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন।
এ ছাড়া সপ্তাহে কয়েকবার কম মাত্রার আলো বা লেজারভিত্তিক চিরুনি কিংবা মাথায় পরার যন্ত্র ব্যবহার করেছেন তিনি, আর পেপটাইড বা ক্যাফেইনযুক্ত পণ্য এবং মাইক্রোনিডলিংয়ের কথাও উল্লেখ করেছেন। এসব পদ্ধতির আগেও বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
খাবারের দিক থেকে পর্যাপ্ত প্রোটিন ও সুষম খাদ্যের পাশাপাশি পুষ্টির ঘাটতি আছে কি না দেখার কথা বলেছেন তিনি। ভিটামিন ডি বা আয়রনের ঘাটতিতে চুল পড়তে পারে, তাই প্রয়োজনে রক্ত পরীক্ষা করে চিকিৎসকের পরামর্শমতো তা পূরণ করতে বলেছেন। চুল ভেঙে যাওয়াও চুল পাতলা দেখানোর কারণ হতে পারে, তাই বৈদ্যুতিক কেশসজ্জার যন্ত্রের আগে তাপ থেকে সুরক্ষা দেয় এমন পণ্য ব্যবহারের পরামর্শ তাঁর।
চুল পড়ার কারণ সবার এক নয়। তাই কারও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাকে নিজের চিকিৎসার বিকল্প না ভেবে দীর্ঘদিন অস্বাভাবিক হারে চুল পড়লে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ; সঠিক কারণ জানা গেলে চিকিৎসার পথও ঠিক করা সহজ হয়।
প্রতিবেদনটি বাংলা ট্রিবিউনের জীবনযাপন ডেস্কের প্রতিবেদন অবলম্বনে।
ছবি: Musical Linguist / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন





মন্তব্য
(০)