প্রেসক্রিপশনে যতটা লেখা, তার বদলে পুরো পাতা ওষুধ কিনতে ক্রেতাদের বাধ্য করার অভিযোগে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান শহরের বিভিন্ন ওষুধের দোকানে বৃহস্পতিবার অভিযান চালিয়েছেন পূর্ব বর্ধমান ড্রাগ কন্ট্রোল বিভাগের কর্মকর্তারা। তাঁরা বেচাকেনার রসিদ ও স্টক রেজিস্টার খতিয়ে দেখেন, প্রেসক্রিপশন ছাড়া নির্দিষ্ট কিছু ওষুধ বিক্রি হচ্ছে কি না তাও পরীক্ষা করেন।
কর্মকর্তারা জানিয়ে দেন, প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী যতটা দরকার, পাতা কেটে ততটাই বিক্রি করতে হবে। এক কর্মকর্তা উদাহরণ দেন, চিকিৎসক তিন দিনের ওষুধ লিখলে ছয়টি কিনলেই চলে, অথচ পাতা না কেটে দশটি কিনতে বাধ্য করা হচ্ছিল। জেলা ড্রাগ কন্ট্রোলার আব্দুল ওদুত বলেন, জোর করে পুরো পাতা দেওয়া চলবে না, ধরা পড়লে দোকানের ড্রাগ লাইসেন্স বাতিলও হতে পারে; কোথাও এমন দেখলে প্রমাণসহ জানাতে বলেছেন তিনি।
বিক্রেতারা অবশ্য লোকসানের যুক্তি দিচ্ছেন। খোসবাগানের ব্যবসায়ী অশোক সাহা বলেন, কাটা পাতা পরে কোম্পানি ফেরত নিতে চায় না, আর প্রতিযোগিতার বাজারে ওষুধে ১৪ থেকে ১৫ শতাংশ, কোথাও ২০ থেকে ২২ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দিতে হয়; তবে এবার তাঁরা সজাগ থাকবেন।
সূত্রের খবর, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান মিলিয়ে প্রায় ৩,৫০০ ওষুধের দোকান আছে, যার অন্তত ৩,১০০টিতে স্থায়ী ফার্মাসিস্ট বসেন না। অভিযোগ আছে, অনেক ফার্মাসিস্ট টাকার বিনিময়ে নিজেদের লাইসেন্স দোকান মালিকদের ভাড়া দেন। বিষয়টি তদন্তের আওতায় আছে কি না, তা কর্মকর্তারা জানাননি।
এদিকে রূপনারায়ণপুরে চিত্তরঞ্জন ও রূপনারায়ণপুরের প্রায় ৩০টি দোকানের মালিকদের নিয়ে বৈঠকে বেঙ্গল কেমিস্টস অ্যান্ড ড্রাগিস্টস অ্যাসোসিয়েশনের আসানসোল শাখার সম্পাদক কুন্তল রায় জানান, প্রেসক্রিপশন ছাড়া ঘুমের বা নারকোটিক্স জাতীয় ওষুধ বিক্রি করা যাবে না, প্রেসক্রিপশনের ফটোকপি দোকানে রাখতে হবে, আর তিন মাসের পুরোনো প্রেসক্রিপশনে অ্যান্টিবায়োটিক দিতে চিকিৎসকের নতুন পরামর্শ লাগবে। শিশুখাদ্য বিক্রেতাদের ফুড রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট নিতে এবং মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ আলাদা চিহ্নিত বাক্সে রাখতে বলা হয়েছে।
প্রতিবেদনটি এই সময়ের বর্ধমান ও আসানসোল প্রতিনিধিদের প্রতিবেদন অবলম্বনে।
ছবি: Yu TANAKA / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: এই সময়





মন্তব্য
(০)