গুগল ডিপমাইন্ড (Google DeepMind) তাদের আলফাফোল্ডের পেছনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এখন ফসলের রোগ, উদ্ভিদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা আর বৈজ্ঞানিক গবেষণার গতি বাড়ানোর কাজে লাগাচ্ছে। সিঙ্গাপুরে এশিয়া-প্যাসিফিক অ্যাগ্রি-ফুড ইনোভেশন সামিট ২০২৬-এ এ কথা বলেন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক রামাইন তিনাতি (Ramine Tinati)। খবরটি দিয়েছেন ফুডনেভিগেটরের জেস স্পিরিং।
আলফাফোল্ড কম্পিউটারে প্রোটিনের ত্রিমাত্রিক গঠন অনুমান করে। আগে একেকটি প্রোটিনের গঠন বের করতে বিজ্ঞানীদের মাস বা বছর লেগে যেত। এর তথ্যভান্ডারে এখন কোটি কোটি প্রোটিন গঠনের অনুমান আছে। তিনাতি বলেন, "আমরা এটি দিয়ে আরও রোগ প্রতিরোধী ফসল তৈরি করছি।" তিনি যুক্তরাজ্যের সেইন্সবারি ল্যাবরেটরির গবেষকদের কাজের কথা বলছিলেন, যাঁরা আরও শক্ত রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উদ্ভিদ নিয়ে কাজ করছেন।
ডিএনএর পরিবর্তন জীবের কাজে কী প্রভাব ফেলে, তা বোঝার প্রযুক্তি আলফাজিনোমও ব্যবহার হচ্ছে জোয়ারে। খাদ্য ও পশুখাদ্যের বড় এই ফসলের কোন জাত বাইরের প্রতিকূলতা বেশি সইতে পারে, তা চিহ্নিত করা হচ্ছে। এই তথ্যের মানচিত্র গবেষকদের জন্য উন্মুক্ত। তিনাতি বলেন, "আমরা এটি জনকল্যাণে উন্মুক্ত করছি।"
মাঠপর্যায়ে ভারতে খুদে কৃষক ও মৃত্তিকাবিজ্ঞানীদের সঙ্গে কাজ করেছে ডিপমাইন্ড। খামারের সীমিত তথ্যের সঙ্গে মাটি, আবহাওয়া ও জলবায়ুর তথ্য মিলিয়ে কৃষক ঠিক করতে পারবেন কোন বীজ বুনবেন, কখন ফসল তুলবেন আর কখন জমি বিশ্রামে রাখবেন। তিনাতি জানান, ভারতে শুরু হওয়া এই কর্মসূচি এখন ১১টি দেশে ছড়ানো হচ্ছে।
দীর্ঘমেয়াদে ডিপমাইন্ড কাজ করছে একটি এআই "কো-সায়েন্টিস্ট" নিয়ে, যা গবেষণাগারে যাওয়ার আগে হাজারো পরীক্ষার বিকল্প যাচাইয়ে সাহায্য করবে, আর একটি "ভার্চুয়াল সেল" নিয়ে, যাতে জীববিজ্ঞানের আরও পরীক্ষা কম্পিউটারেই চালানো যায়। তিনাতি বলেন, "এটা বিজ্ঞানীকে সাহায্য করার জন্য, তাঁর জায়গা নেওয়ার জন্য নয়।"
তিনাতির কথায়, জলবায়ু বদলাচ্ছে, আবহাওয়া আরও চরম হচ্ছে, তাই ফসলকে আরও সহনশীল হতে হবে। দ্রুত প্রোটিন ও জিনোম বিশ্লেষণ রোগ প্রতিরোধী ও সহনশীল জাত উদ্ভাবনের পথ ছোট করতে পারে।
ছবি: Ezeu / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: FoodNavigator





মন্তব্য
(০)