ডেনমার্কের জোট সরকার এমন সংস্কারের প্রস্তাব দিয়েছে, যা দেশটির শূকর শিল্পকে জীবিত শূকর রপ্তানি থেকে সরিয়ে উন্নত প্রাণিকল্যাণ ও বেশি দামের মাংসের দিকে নিয়ে যাবে, জানিয়েছে পিগ ওয়ার্ল্ড। একই সময়ে ডেনমার্কের খামারিরা বড় উৎপাদক দেশগুলোর মধ্যে নেদারল্যান্ডস ছাড়া সবচেয়ে কম দাম পাচ্ছেন: আগস্টের শুরু থেকে রেফারেন্স দাম কেজিপ্রতি প্রায় ১ পাউন্ডে আটকে, জুনের তুলনায় ৩৩ পেনি কম।
খাতটির গুরুত্ব বিশাল। ২০২৫ সালে ডেনমার্কে শূকর ছিল ১ কোটি ২০ লাখ, দেশের জনসংখ্যার দ্বিগুণ; উৎপাদন হয়েছে ৩ কোটি ১৮ লাখ শূকর, যার ৮৫ শতাংশ ১৪০টির বেশি দেশে রপ্তানি হয়। প্রায় ৩০ কেজি ওজনের বাচ্চা শূকরসহ ৮ লাখ ৭৬ হাজার টন জীবিত শূকর গেছে জার্মানি ও পোল্যান্ডে। দেশের কৃষি উৎপাদনমূল্যের প্রায় ৩০ শতাংশ আসে শূকর থেকে। এক বছরে শূকর খামার ১,৯৪৯ থেকে কমে ১,৭০৬টি হয়েছে, ২০১০ সালে ছিল ৫,০০০।
'শূকর নির্বাচন' নামে পরিচিত ভোটে এপ্রিলে তৃতীয়বার জয়ী প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন ১৩০ বছরের পুরনো খাদ্য, কৃষি ও মৎস্য মন্ত্রণালয় বিলুপ্ত করেছেন। প্রস্তাবের মধ্যে আছে ২০৩০ সালের মধ্যে শূকরের লেজ কাটা বন্ধ, দুধ ছাড়ানোর ন্যূনতম বয়স তিন থেকে চার সপ্তাহ, ২০৩৫ সালের মধ্যে মা শূকরকে খাঁচায় স্থায়ীভাবে আটকে রাখা বন্ধ, দীর্ঘ দূরত্বে পরিবহন কমানো, জৈব খামারে দ্রুত রূপান্তর এবং ২০৩০ সালের মধ্যে পশুপালনে কার্বন কর। সেপ্টেম্বর থেকে নতুন খামার বা খামার সম্প্রসারণের অনুমতি ১২ মাসের জন্য বন্ধ।
পানীয় জলে নাইট্রেটের আইনি সীমা ইইউ-র লিটারপ্রতি ৫০ মিলিগ্রাম থেকে ৬ মিলিগ্রামে নামানোর প্রস্তাবও আছে, যাতে জমিতে গোবর-মূত্রের তরল সার ছড়ানো অনেক সীমিত হতে পারে। সরকার, কৃষি, পরিবেশ ও প্রাণিকল্যাণ সংগঠনের প্রতিনিধিদের একটি দলকে ছয় মাসে পরিকল্পনা চূড়ান্ত করতে বলা হয়েছে; সমঝোতা না হলে সরকার নিজেই তা কার্যকর করতে পারে বলে খবর।
জুনে শিল্পের প্রায় ৭৫০ জন এক সংকট সভায় মিলিত হন। ডানস্কে স্ভিনেপ্রোডুসেন্টার (Danske Svineproducenter)-এর চেয়ারম্যান ইয়েপে ব্লক নিলসেন পরিকল্পনাকে 'পাগলামি' বলেছেন; সংগঠনটি ইইউ আইনের আলোকে কিছু অংশ চ্যালেঞ্জ করবে। উত্তর ইউটল্যান্ডে ৫৫০টি মা শূকর খোলা মাঠে জৈব পদ্ধতিতে পালন করা এমিল মাডসেন বলেন, নাইট্রোজেনের সীমা কমানোই 'সব খামারির জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি', আর যে ভোটাররা পরিবর্তন চেয়েছেন তাঁরা বেশি দামের মাংস কিনছেন না।
যুক্তরাজ্যের এএইচডিবির বিশ্লেষক অ্যাডাম চৌধুরী (Adam Chowdry) বলেন, ডেনমার্কে উৎপাদন কমলে ইউরোপে শূকরের মাংসের সরবরাহ টান পড়তে পারে, যুক্তরাজ্যও তার আমদানির এক-পঞ্চমাংশের বেশি ডেনমার্ক থেকে আনে।
প্রতিবেদনটি লিখেছেন পিগ ওয়ার্ল্ডের অ্যালিস্টেয়ার ড্রাইভার।
ছবি: Sten Porse / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: Pig World




মন্তব্য
(০)