ফসল সুরক্ষা পণ্যের তথ্য-সুরক্ষা নিয়মে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রস্তাবিত পরিবর্তনের ফলে ৮৬টি সক্রিয় উপাদান বাজারে টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়তে পারে। শিল্প সংগঠন ক্রপলাইফ ইউরোপের (CropLife Europe) পক্ষে অ্যাকিউমেন রেগুলেটরি কনসালট্যান্টসের করা এক গবেষণায় এ কথা বলা হয়েছে।
২০৩০ সাল ও পরে নবায়নের মুখে থাকা ১৮০টি সক্রিয় উপাদান বিশ্লেষণ করা হয়েছে। চিহ্নিত ৮৬টির অনেকগুলো বিশেষায়িত বাজার ও ছোট ফসলে ব্যবহৃত হয়, যেমন ফল ও সবজি; সেখানে নবায়নের খরচ বেশি, অথচ বাণিজ্যিক আয় প্রায়ই সীমিত। এসব বাজারের চাষির জন্য অল্প কয়েকটি পণ্য হারানোও পোকামাকড় ও রোগ দমনের বিকল্প কমিয়ে দিতে পারে।
গবেষণা অনুযায়ী, একটি সক্রিয় উপাদান নবায়নে বৈজ্ঞানিক গবেষণায় ৫০ লাখ থেকে ২ কোটি ইউরো লাগতে পারে, সংশ্লিষ্ট পণ্যগুলোর নবায়নে লাগে আরও ১০-২০ লাখ ইউরো। অন্যরা লাভবান হলেও এই খরচ প্রায়ই বহন করে মাত্র এক বা দুটি কোম্পানি।
বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে ইউরোপীয় কমিশনের ফুড অ্যান্ড ফিড সেফটি অমনিবাস প্রস্তাব। এতে প্রতিটি সদস্য দেশে আলাদা সময় গণনার বদলে সব পরীক্ষা ও গবেষণা প্রতিবেদনের সুরক্ষার জন্য ইইউজুড়ে একটি একক সময়সীমা চালুর কথা বলা হয়েছে। গবেষণার যুক্তি, কাগজে সহজ মনে হলেও কিছু বাজারে কার্যকর সুরক্ষার মেয়াদ এতে কমে যেতে পারে; ফলে যারা নবায়নের গবেষণায় অর্থ দেয়, তাদের বিনিয়োগ তুলে আনার সুযোগ কমবে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে একেবারেই থাকবে না।
ক্রপলাইফ ইউরোপের মহাপরিচালক অলিভিয়ে দে মাতোস বলেন, বিজ্ঞান ছাড়া কোনো উপাদান নবায়ন করা যায় না, আর সেই বিজ্ঞানের খরচ কাউকে না কাউকে দিতে হয়। তাঁর প্রশ্ন, নিয়মের কারণে বিনিয়োগ তুলে আনা কঠিন হলে পরের নবায়নের অর্থ কে দেবে, আর এসব সমাধানের ওপর নির্ভরশীল কৃষকের জন্য শেষ পর্যন্ত এর মানে কী দাঁড়াবে।
ক্রপলাইফ ইউরোপ জানিয়েছে, নিয়ম সহজ করা ও প্রশাসনিক বোঝা কমানোর কমিশনের লক্ষ্যকে তারা সমর্থন করে, তবে চূড়ান্ত আইনে নবায়ন গবেষণার অর্থায়নের প্রণোদনা রক্ষা করা চায়। ফলাফলগুলো শিল্পখাতের করানো গবেষণার, এবং অমনিবাস প্রস্তাব ইইউর আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় এগোনোর মধ্যে খাতটির অবস্থানই তুলে ধরে।
ছবি: Keith Evans / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.0)
সূত্র: Global Agriculture



মন্তব্য
(০)