ইউরোপের দুই খাদ্যপ্রযুক্তি স্টার্টআপ, জার্মানির ফরমো (Formo) ও নেদারল্যান্ডসের দোজ ভিগান কাউবয়েজ (Those Vegan Cowboys), গরু ছাড়া তৈরি দুধের প্রোটিন কেসিনের জন্য মার্কিন খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের (এফডিএ) কাছ থেকে "কোনো প্রশ্ন নেই" চিঠি পেয়েছে। প্রিসিশন ফারমেন্টেশনে তৈরি কেসিনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে এমন চিঠি এটিই প্রথম, জানিয়েছে গ্রিন কুইন।
প্রিসিশন ফারমেন্টেশনে অণুজীবের ভেতরে নির্দিষ্ট ডিএনএ বসানো হয়, ফলে গাঁজনের সময় অণুজীবটি কাঙ্ক্ষিত অণু তৈরি করে, এখানে কেসিন। দুধের প্রোটিনের প্রায় ৮০ শতাংশই কেসিন, শক্ত পনির গরমে গলে লম্বা হয় এর কারণেই। দুই প্রতিষ্ঠানের প্রোটিন গরুর দুধের আলফা-এস১ কেসিনের হুবহু অনুরূপ, যা দুধের মোট কেসিনের প্রায় ৪০ শতাংশ।
২০২৫ সালের ডিসেম্বরে দুই প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে প্রোটিনটিকে সাধারণভাবে নিরাপদ (জিআরএএস) হিসেবে ঘোষণা করে নোটিশ দেয়। এফডিএ এর গঠন, উৎপাদন প্রক্রিয়া, অ্যালার্জির ঝুঁকি, বিষাক্ততা ও খাদ্যে গ্রহণের মাত্রা পর্যালোচনা করেছে। চিঠিতে পনিরের বিকল্পে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত এই কেসিন ব্যবহারের কথা আছে। এফডিএ নিজে নিজে জিআরএএস ঘোষণার পথ বন্ধের প্রস্তাব দেওয়ায় এই স্বীকৃতির গুরুত্ব বেশি।
দুই বছর একসঙ্গে গবেষণার পর প্রতিষ্ঠান দুটি এখন আলাদা পথে। ১৩ কোটি ৫০ লাখ ইউরোর বেশি পুঁজি তোলা ফরমো উচ্চ প্রোটিনের পানীয়র জন্য যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে তাদের কেসিন বিক্রি করছে। যুক্তরাষ্ট্রে হুই প্রোটিন আইসোলেটের দাম এখন পাউন্ডপ্রতি ১৩ ডলারের বেশি, ২০২৩ সালের শুরুর তিন গুণের বেশি। সম্প্রতি ১ কোটি ২২ লাখ ৫০ হাজার ইউরো তোলা দোজ ভিগান কাউবয়েজ মূলত পনির নিয়ে কাজ করছে, ওয়েস্টল্যান্ড কাস ও হকল্যান্ডসহ ১০টির বেশি খাদ্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে।
দোজ ভিগান কাউবয়েজের হিল্লে ফান ডার কা জানান, তাঁদের কেসিন দিয়ে তৈরি প্রথম পণ্য ২০২৭ সালে অংশীদারদের ব্র্যান্ডে মার্কিন বাজারে আসবে বলে তাঁরা আশা করছেন। ইউরোপে নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে আবেদন জমা দেওয়ার পরিকল্পনাও ২০২৭ সালে। আরও নানা খাদ্যে ব্যবহারের জন্য তারা নতুন জিআরএএস নোটিশ দেবে। প্রতিবেদনটি লিখেছেন আনায় মৃদুল।
ছবি: Jon Sullivan / উইকিমিডিয়া কমন্স (Public domain)
সূত্র: Green Queen





মন্তব্য
(০)