ভারত সরকার শুল্কমুক্ত তুলা আমদানির মেয়াদ ৩১ অক্টোবর থেকে বাড়িয়ে ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের শেষ পর্যন্ত করতে পারে বলে জানিয়েছে রুরাল ভয়েস। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে আলোচনা চলছে, শিগগির আদেশ আসতে পারে। বস্ত্রশিল্পের প্রয়োজনের কথা বলে কেন্দ্র ১ জুন থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত তুলা আমদানিতে ১১ শতাংশ শুল্ক তুলে নিয়েছিল।
কলমালিকদের যুক্তি, শুল্কমুক্ত আমদানিতে কাঁচামাল সহজে মেলে, উৎপাদন খরচ কমে। চাষিদের ভয় উল্টো দিকে: অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরে নতুন তুলা যখন মান্ডিতে আসে, ঠিক তখনই বাড়তি আমদানি দাম নামিয়ে দিতে পারে।
বড় বাজারগুলোতে এখন তুলার দাম কুইন্টালপ্রতি প্রায় ৯,০০০ রুপি, যা এ মৌসুমের ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের (মাঝারি আঁশে ৮,২৬৭ রুপি, লম্বা আঁশে ৮,৬৬৭ রুপি) চেয়ে বেশি। রাজস্থানের শ্রীগঙ্গানগরের কৃষক ও গ্রামীণ কিষান মজদুর সমিতির সভাপতি রণজিৎ সিং রাজু (Ranjeet Singh Raju) রুরাল ভয়েসকে বলেন, এ বছর আবহাওয়া আর সারের ঘাটতিতে ফলন কমেছে। দাম গত বছরের চেয়ে ভালো হলেও তিন বছর আগে তা ১২,০০০ রুপিতে উঠেছিল। তাঁর অভিযোগ, কৃষক একটু ভালো দাম পেতে শুরু করলেই সরকার আমদানির পথ সহজ করে।
ভারতে তুলার উৎপাদন ২০১৩-১৪ সালে ১৭০ কেজির ৩৯৮ লাখ বেলে উঠেছিল, ২০২৪-২৫ সালে তা নামে ২৯৭ লাখ বেলে, ২০২৫-২৬ সালে প্রায় ২৯০ লাখ বেলে। এ মৌসুমে আবাদ প্রায় ১১১ লাখ হেক্টর, আগের দুই বছরে যা ছিল ১১৫ লাখ হেক্টরের কাছাকাছি; মহারাষ্ট্র, রাজস্থান ও গুজরাটে খরা আর অন্য জায়গায় অসময়ের বৃষ্টিও আছে। বস্ত্রশিল্পের হিসাবে দেশে চাহিদা প্রায় ৩৫০ লাখ বেল।
ঘাটতির সঙ্গে আমদানিও বেড়েছে: ২০২৩-২৪ সালে প্রায় ৫৭ কোটি ৯২ লাখ ডলার, ২০২৪-২৫ সালে ১২০ কোটি ডলার, ২০২৫-২৬ সালে ১৮৬ কোটি ডলার। ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বরে আমদানি আগের বছরের চেয়ে ৬৩ শতাংশ বেড়ে প্রায় ১১০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে।
শেতকরী সংগঠনের সাবেক সভাপতি অনিল ঘানওয়াত (Anil Ghanwat) বলেন, এল নিনো ও খরা উৎপাদনে আঘাত করেছে, আর কলগুলোর আঁশের চাহিদার কারণে সরকার আরও এক বছর ছাড় রাখতে পারে, যদিও তাতে কৃষকের ক্ষতি হতে পারে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এখন দাম পড়লে আগামী মৌসুমে চাষিরা তুলা কম বুনতে পারেন, তাতে আমদানিনির্ভরতা আরও বাড়বে।
ছবি: Abhisek Sarda (গুজরাটে তুলা তোলার মৌসুমে ট্রাক্টর) / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
সূত্র: Rural Voice




মন্তব্য
(০)