পেরুর কৃষি স্বাস্থ্য সংস্থা সেনাসা (SENASA) দেশি বাজারের জন্য উৎপাদিত খাদ্যফসলে পাঁচটি সক্রিয় উপাদানযুক্ত কীটনাশকের বিক্রি, বিতরণ ও ব্যবহার সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে: ক্লোরপাইরিফস, মিথোমিল, গ্লাইফোসেট, ইমিডাক্লোপ্রিড ও ক্লোথিয়ানিডিন। কৃষি সংবাদমাধ্যম আগ্রারিয়া.পের (Agraria.pe) প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈদেশিক বাণিজ্য সংগঠন কমেক্সপেরু (ComexPerú) ৭ অক্টোবর বলেছে, এই পদক্ষেপ আদালতের নির্দেশ আংশিক মেনেছে মাত্র।
স্থগিতাদেশের পেছনে আছে পেরুর সাংবিধানিক আদালতের দ্বিতীয় বেঞ্চের ২৪ জুলাই ২০২৬ ঘোষিত রায়। আপুরিমাক অঞ্চলের একটি ভোক্তা সংগঠনসহ কয়েকটি গোষ্ঠীর মামলায় আদালত বলে, দেশে বিক্রি হওয়া খাদ্যে কীটনাশকের অবশেষ নিয়ে রাষ্ট্রের তদারকি দুর্বল হওয়ায় স্বাস্থ্য, সুস্থ পরিবেশ ও ভোক্তা সুরক্ষার অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে। আদালত স্থগিতাদেশের পাশাপাশি পাঁচটি উপাদানের কারিগরি ও বৈজ্ঞানিক পুনর্মূল্যায়নের নির্দেশ দেয়।
সেনাসা ৯ সেপ্টেম্বর সই করা এক নির্দেশনায় আদেশটি কার্যকর করে, যা ৩০ সেপ্টেম্বর সরকারি গেজেট এল পেরুয়ানোতে প্রকাশিত হয়। নির্দেশনায় পদক্ষেপটিকে সতর্কতামূলক, সাময়িক ও পর্যালোচনাযোগ্য বলা হয়েছে; বিদ্যমান পণ্য নিবন্ধন বাতিল হয়নি। পাঁচ উপাদানযুক্ত নিবন্ধিত পণ্যের তালিকা প্রকাশ এবং গুদাম, খামার, দোকান ও পরিবহনে পরিদর্শন বাড়িয়ে নিয়ম না মানা পণ্য বিশেষায়িত প্রসিকিউটরদের সঙ্গে জব্দ করার নির্দেশও আছে।
কমেক্সপেরুর অভিযোগ, পুনর্মূল্যায়নের দায়িত্ব সেনাসার কোন বিভাগ নেবে, আদালতের ৯০ ও ১৮০ কার্যদিবসের সময়সীমা কীভাবে মানা হবে, তা নির্দেশনায় নেই, আর এর মধ্যে কৃষকদের কোনো বিকল্প পণ্যও দেওয়া হয়নি। সংগঠনটির নিজস্ব হিসাবে, যা সরকারি গণনা নয়, এই পাঁচ উপাদান ধান, ভুট্টা, আলু ও টমেটোসহ ৫২টি ফসলে প্রায় ৮০ ধরনের বালাই দমনে ব্যবহৃত হয়।
সংগঠনটি আরও বলেছে, তাদের হিসাবে প্রতিবেশী বলিভিয়া পাঁচটির কোনোটি সীমিত করেনি, আর ইকুয়েডর, চিলি ও কলম্বিয়া গ্লাইফোসেট, ইমিডাক্লোপ্রিড বা ক্লোথিয়ানিডিন নিষিদ্ধ করেনি। প্রত্যাশিত এল নিনো এ মৌসুমে আক্রান্ত ফসলে বালাইয়ের চাপ বাড়াতে পারে বলেও সতর্ক করেছে তারা।
ছবি: Crops for the Future / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: Global Agriculture





মন্তব্য
(০)