সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮+০.০%আদা - আমদানিকৃত১৬৭+০.০%আদা - দেশী১৫৪+০.০%আমন চাল - মাঝারি৫৬+০.০%আমন চাল - মোটা৪৮+০.০%আমন চাল - সরু৭২+০.০%আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২+০.০%কাঁচা মরিচ২১৮+০.০%খামারের মুরগী১৬২+০.০%খাসী৯০০+০.০%চিনি (দেশী)১৩২+০.০%ছোলা - গোটা৮৫+০.০%ডিম ফার্ম - লাল৪৭+০.০%পেঁয়াজ - দেশী৬০+০.০%বোরো চাল - মাঝারি৫৫+০.০%বোরো চাল - মোটা৪৭+০.০%বোরো চাল - সরু৬৬+০.০%মাংসঃ– গরু৭২৯+০.০%মুগ ডাল১২২+০.০%রসুন - আমদানিকৃত১৯২+০.০%রসুন - দেশী১৭৩+০.০%সয়াবিন তেল১৬৩+০.০%
হালনাগাদ ১ নভেম্বর ২০২৬
ঢাকা৩২°মূলত পরিষ্কারআর্দ্রতা ৫৫%বাতাস ৫ কিমি/ঘ

ঢাকার বাজারে কাঁচা মরিচের কেজি ৪০০ টাকা, বেড়েছে পেঁয়াজ-ডিম-সবজির দাম

২০২৬ সালের ৩১ জুলাই রাজধানীর শান্তিনগর ও সেগুনবাগিচা বাজারে কাঁচা মরিচ বিক্রি হয়েছে কেজিপ্রতি ৪০০ টাকায়, এক সপ্তাহে বেড়েছে ১০০ টাকা; টানা বৃষ্টি ও বন্যার পর পেঁয়াজ ও ফার্মের ডিমের দামও বেড়েছে, বেশির ভাগ সবজি ছিল কেজিপ্রতি ১০০ টাকার আশপাশে।

ঢাকার বাজারে কাঁচা মরিচের কেজি ৪০০ টাকা, বেড়েছে পেঁয়াজ-ডিম-সবজির দাম
বাজার ব্যবস্থাপনা

টানা কয়েক সপ্তাহের বৃষ্টি ও দেশের কিছু এলাকায় বন্যার পর থেকেই অস্থিরতা চলছিল নিত্যপণ্যের বাজারে। ২০২৬ সালের ৩১ জুলাই, শুক্রবার, রাজধানীর দুটি কাঁচাবাজারে কাঁচা মরিচ বিক্রি হয়েছে কেজিপ্রতি ৪০০ টাকায়। বাজারের সব পণ্যের মধ্যে সাধারণ মানুষকে সবচেয়ে বেশি ভোগাচ্ছিল কাঁচা মরিচের দাম: কিছুদিন পরপরই তা পেরিয়ে যাচ্ছিল শতকের একেকটি ধাপ।

এর পাশাপাশি নতুন করে বাড়ছিল পেঁয়াজ ও ডিমের দাম। সবজির দাম চড়া হয়ে আটকে ছিল দুই সপ্তাহ ধরে; অধিকাংশ সবজি বিক্রি হচ্ছিল কেজিপ্রতি একশো টাকার আশপাশে। সেদিন রাজধানীর শান্তিনগর ও সেগুনবাগিচা বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখার কথা জানায় জাগো নিউজ ২৪, যাদের প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় সকাল সাড়ে ১০টায়।

সরকারি বাজারদরের তালিকাও একই দিকে ইঙ্গিত দিচ্ছিল। ঢাকার ছয়টি বাজার থেকে দাম সংগ্রহকারী ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) ৩০ জুলাই বৃহস্পতিবারের খুচরা বাজারদরে কাঁচা মরিচের দাম ছিল কেজিপ্রতি ৩২০ থেকে ৪০০ টাকা, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ১৫০ থেকে ২২০ টাকা এবং এক মাস আগে ৮০ থেকে ১২০ টাকা। একই তালিকায় সপ্তাহের ব্যবধানে দেশি পেঁয়াজ, বেগুন ও শসার দামও বেড়েছিল।

এক সপ্তাহে মরিচের কেজিতে ১০০ টাকা বেশি


দুই বাজারের খুচরা ও পাইকারি অংশের বিক্রেতা ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছিল ৪০০ টাকায়। অল্প পরিমাণে কিনলে প্রতি একশো গ্রাম ৪০ টাকা ও আড়াইশো গ্রাম ১০০ টাকা দরে দাম দিতে হচ্ছিল। তবে আধা কেজি বা এক কেজি মরিচ নিলে ২০ থেকে ৩০ টাকা কমে পাওয়া যাচ্ছিল।

সেগুনবাগিচা বাজারের বিক্রেতা বুলু মিয়া জানান, এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচের দাম ১০০ টাকা বেড়েছে। তাঁর কথায়, আগের সপ্তাহে মরিচ বিক্রি হয়েছে ২৮০ থেকে ৩০০ টাকায়, আর তার আগের সপ্তাহে দাম ছিল ১৮০ থেকে ২০০ টাকা।

টিসিবির ৩০ জুলাইয়ের তালিকায় কাঁচা মরিচের সর্বশেষ মূল্যবৃদ্ধি লিপিবদ্ধ হয় ২৯ জুলাই। সংস্থাটির নিজস্ব হিসাবে, এক সপ্তাহ আগের তুলনায় দাম বেড়েছিল প্রায় ৯৪.৬ শতাংশ এবং এক মাস আগের তুলনায় ২৬০ শতাংশ।

দাম বাড়ছিল জুলাইয়ের বেশির ভাগ সময় ধরেই। ২১ জুলাই দৈনিক ইত্তেফাক ঢাকার অনেক বাজারে কাঁচা মরিচ কেজিপ্রতি ২০০ টাকার বেশি দামে এবং কোথাও কোথাও ২৮০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হতে দেখে, যেখানে এক মাস আগে দাম ছিল ১০০ থেকে ১২০ টাকা। সেদিন বাজারভেদে দামে পার্থক্য ছিল: মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটে ২০০ থেকে ২২০ টাকা, টাউন হল বাজারে ২৫০ থেকে ২৮০ টাকা, আর কারওয়ান বাজারে ভালো মানের মরিচ ২০০ টাকা ও সাধারণ মানের মরিচ ১৬০ টাকার আশপাশে। আশকোনা হজক্যাম্প বাজারের একজন ক্রেতা পত্রিকাটিকে জানান, তিনি আড়াইশো গ্রাম মরিচ কিনেছেন ৬০ টাকায়, অথচ এক সপ্তাহ আগে একই পরিমাণ মরিচে খরচ হয়েছিল ৪০ টাকা।

ইত্তেফাকের সঙ্গে কথা বলা ব্যবসায়ীরা এর জন্য বৃষ্টিকে দায়ী করেন। তাঁদের ভাষ্য, সপ্তাহ দেড়েক আগে টানা বৃষ্টি ও বন্যায় কাঁচা মরিচসহ সবজির সরবরাহ কমে যায়, আর দেশের বিভিন্ন এলাকায় খেতে পানি জমে অনেক ফসল নষ্ট হওয়ায় সরবরাহ আর আগের অবস্থায় ফেরেনি। ততদিনে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর দেশজুড়ে আরও টানা পাঁচ দিনের বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছিল। মোহাম্মদপুর টাউন হল বাজারের এক সবজি বিক্রেতা বলেন, বৃষ্টির কারণে পাইকারি বাজারে মরিচের সরবরাহ কমেছে, কিন্তু ক্রেতার চাহিদা একই থাকায় দাম দ্রুত বেড়েছে।

জাগো নিউজের প্রতিবেদনের আগে, ৩১ জুলাই সকালে দেশ রূপান্তরও বৃহস্পতিবারের বাজারের একই চিত্র তুলে ধরে: মাঝে কিছুদিন কমার পর কাঁচা মরিচের দাম আবার বেড়ে কেজিপ্রতি ৩৪০ থেকে ৪০০ টাকায় উঠেছিল।

বাংলাদেশে একটি মরিচগাছ, কাঁচা সবুজ মরিচের পাশে লাল হয়ে আসা মরিচ। ছবি: Mamun Srizon / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC0)
বাংলাদেশে একটি মরিচগাছ, কাঁচা সবুজ মরিচের পাশে লাল হয়ে আসা মরিচ। ছবি: Mamun Srizon / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC0)

বৃষ্টিতে নষ্ট মরিচখেত: ফরিদপুরের উদাহরণ


ঘাটতির পেছনের কারণ উঠে আসে উৎপাদন এলাকার খবরে। দৈনিক ইনকিলাবের ফরিদপুর সংবাদদাতা ৩০ জুলাই জানান, এক সপ্তাহেরও বেশি সময়ের টানা ভারী বৃষ্টিতে জেলার কৃষিপ্রধান উপজেলা মধুখালী, সদরপুর ও চরভদ্রাসনের মরিচখেত পানিতে ডুবে আছে এবং অধিকাংশ মরিচগাছ পচে ও মরে গেছে।

মধুখালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা পত্রিকাটিকে বলেন, চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ২ হাজার ৭২০ হেক্টর জমিতে গ্রীষ্মকালীন মরিচের আবাদ হয়েছিল, কিন্তু বৃষ্টিতে অধিকাংশ জমিতে পানি উঠেছে। তিন উপজেলার কৃষি কর্মকর্তারাই জানান, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি হচ্ছে, কিছু কৃষককে ইতিমধ্যে সরকারি সহায়তা দেওয়া হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে আরও কৃষককে ক্ষতিপূরণের আওতায় আনা হবে। তিন উপজেলার কৃষকদের দাবি, প্রায় তিন-চতুর্থাংশ মরিচখেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে; সবচেয়ে বেশি ক্ষতি রায়পুর, জাহাপুর ও মেগচামী ইউনিয়নে।

ফরিদপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) তথ্যে, চলতি মৌসুমে জেলায় ৩ হাজার ১১২ হেক্টর জমিতে মরিচের আবাদ হয়েছিল, উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫ হাজার ৭০৬ টন; পত্রিকাটির ভাষায়, টানা বৃষ্টিতে সেই লক্ষ্য অর্জন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে। শহরের হাজি শরিয়তুল্লাহ বাজার, চকবাজার, টেপাখোলা বাজার ও হেলিপ্যাড বাজারে প্রকারভেদে মরিচের কেজি বিক্রি হচ্ছিল ২৮০ থেকে ৩২০ টাকায়, আর খুচরা ব্যবসায়ীরা জানান, সরবরাহ একেবারে কমে গেছে। ফরিদপুর কৃষক সমিতির সভাপতি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দ্রুত ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের দাবি জানিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেন, সহায়তা না মিললে পরের মৌসুমে মরিচ চাষে কৃষকের আগ্রহ কমে যেতে পারে।

জাতীয় জ্ঞানকোষ বাংলাপিডিয়ার তথ্যমতে, মরিচ সোলানেসি পরিবারের উদ্ভিদ, এর আদি নিবাস মেক্সিকো। বাংলাদেশে গ্রীষ্ম ও শীত দুই মৌসুমেই মরিচের চাষ হয়। শীতকালীন ফসল হিসেবে এর চাষ বেশি হয় কুমিল্লা, নোয়াখালী, ফরিদপুর, বরিশাল, পটুয়াখালী ও বগুড়ায়। স্থানীয় জাতের মধ্যে আছে বালিজুড়ি, বোনা, বাইন, সাইটা, সূর্যমুখী ও শিকারপুরী। কাঁচা ও শুকনা দুই ধরনের মরিচই নানা তরকারির মসলা হিসেবে ব্যবহৃত হয়; শুকনা মরিচ যায় কারি পাউডার, সস ও আচারেও।

২০২৩ সালের জুলাইয়ে দ্য ডেইলি স্টারের উদ্ধৃত ডিএইর তথ্যে, ২০২১-২২ অর্থবছরে দেশে মরিচের উৎপাদন ছিল ২ দশমিক ৯৮ লাখ টন, যেখানে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ দশমিক ২৪ লাখ টন।

কেজি ৪০০ টাকা দামও নতুন ছিল না। দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালের জুনের শেষ ও জুলাইয়ের শুরুতে খারাপ আবহাওয়ায় ফসলের ক্ষতির পর ঈদুল আজহার ছুটিতে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে কাঁচা মরিচের দাম রেকর্ড কেজিপ্রতি ৭০০ টাকায় ওঠে। কৃষি মন্ত্রণালয় সেবার ২৬ জুন তিন মাসের জন্য আমদানির অনুমতির ঘোষণা দেয়; প্রায় এক সপ্তাহের মধ্যে ৩৬ হাজার ৮৩০ টন আমদানির অনুমতি দেওয়া হলেও তখন পর্যন্ত দেশে এসেছিল প্রায় ৯৩ টন। ২০২৩ সালের ৬ জুলাই প্রথম আলো জানায়, ২০০ টাকায় নামার পর দাম আবার কেজিপ্রতি ৪০০ টাকায় উঠেছে। পত্রিকাটি ব্যাখ্যা করে, সাধারণত দেশের কৃষকের উৎপাদিত কাঁচা মরিচেই চাহিদা মেটে; অতিবৃষ্টি বা অনাবৃষ্টিতে উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যাহত হলে ভারত থেকে মরিচ আমদানি করা হয়।

৪৩ জেলায় বন্যা ও অতিবৃষ্টির ক্ষতি


২০২৬ সালের জুলাইয়ের বৃষ্টি দেশের বিস্তীর্ণ এলাকার ফসলি জমিতে আঘাত হানে। ১৩ জুলাই দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড ডিএইর প্রাথমিক তথ্য তুলে ধরে জানায়, ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল, বন্যা ও জলাবদ্ধতায় অন্তত ১২ জেলার ২৮ হাজার ৬১০ হেক্টর ফসলি জমি আক্রান্ত হয়েছে; ওই জেলাগুলোতে মোট আবাদি জমি ছিল ৫ লাখ ৩৪ হাজার ৫৭০ হেক্টর। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয় আউশ ধান, আমনের বীজতলা ও গ্রীষ্মকালীন সবজির। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র তখন সতর্ক করে, পরবর্তী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে; খোয়াই, মনু, কুশিয়ারা ও সুরমা নদীর পানি তখন বাড়ছিল।

১৬ জুলাই ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশন জানায়, ডিএইর হিসাবে ৪৩ জেলায় প্রায় ১ লাখ ১৫ হাজার হেক্টর জমির ফসলের ক্ষতি হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় সাড়ে ৬২ হাজার হেক্টর আউশ ও আমনের বীজতলা প্লাবিত হয়; ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক পাঁচ লাখের বেশি। মৎস্য অধিদপ্তর জানায়, বন্যায় মাছ ও চিংড়ির পোনা ভেসে গেছে, এ খাতে লোকসান ৪০০ কোটি টাকারও বেশি।

জুলাইয়ের শুরু থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের প্রভাব নিয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত মূল্যায়নের খবর দেয় দ্য ডেইলি স্টার (২৭ জুলাই) ও দেশ রূপান্তর (২৮ জুলাই)। এতে ফসলের ক্ষতি ধরা হয় ৪৭৭ কোটি ৯৭ লাখ টাকা, যার ৪৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ সবজিতে, প্রায় ২৩১ কোটি টাকা। ক্ষতির খবর আসে ৪৩ জেলা থেকে, যেখানে আবাদি জমি ৮ লাখ ১৭ হাজার হেক্টর; এর মধ্যে ২৪ হাজার ১৩৮ হেক্টর জমির ফসল পুরোপুরি নষ্ট হয়। ক্ষতিগ্রস্ত জমিতে উৎপাদিত হতো ১ লাখ ৩৩ হাজার ৯৭২ টন ফসল, এর মধ্যে ৮৭ হাজার ৯৬৭ টন শাকসবজি; ফসল হারান ২ লাখ ৪৩ হাজার ৬৬০ জন কৃষক।

সবজি ছাড়াও ক্ষতির তালিকায় ছিল ১২ হাজার ৭৮৩ হেক্টরের আউশ ধান ও ১ হাজার ৭৪৬ হেক্টরের আমন বীজতলা, এই দুইয়ে মোট ক্ষতি ১৮৮ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। এ ছাড়া ৪ কোটি ৭৯ লাখ টাকার মরিচ, ২৩ কোটি টাকার আদা ও প্রায় সাড়ে ৯ কোটি টাকার হলুদ নষ্ট হয়। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত জেলা ছিল ব্রাহ্মণবাড়িয়া, হবিগঞ্জ, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি; ডিএইর সরেজমিন উইংয়ের একজন পরিচালক জানান, এসব জেলার প্রায় ৬৩ হাজার কৃষককে নাবি জাতের আমন বীজ দেওয়া হয়েছে।

২৮ জুলাই দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড জানায়, শুধু চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারেই ডিএইর হিসাবে আবাদ হওয়া ২০ হাজার ৫৪৮ হেক্টরের মধ্যে ৬ হাজার ৫৯১ হেক্টরে ১৪০ কোটি ৮২ লাখ টাকার গ্রীষ্মকালীন সবজি নষ্ট হয়, সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হন ৬৩ হাজার ৮৭৫ জন সবজিচাষি; চট্টগ্রামের খুচরা বাজারে সবজির দাম কেজিতে ২০ থেকে ৫০ টাকা বাড়ে। কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) একজন সহসভাপতি পত্রিকাটিকে বলেন, চট্টগ্রামের বাজারে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সবজি আসে এবং উত্তরাঞ্চল বন্যাকবলিত হয়নি; তাঁর অভিযোগ, দুর্বল বাজার তদারকির সুযোগে কিছু ব্যবসায়ী বন্যাকে অজুহাত বানিয়ে দাম বাড়াচ্ছেন। ২৭ জুলাই দ্য ডেইলি স্টারে একজন কৃষি অর্থনীতিবিদ বলেন, এই ক্ষয়ক্ষতি খাদ্য নিরাপত্তার জন্য হুমকি বা সরবরাহ ব্যাহত করার মতো বড় নয়, প্রধান উদ্বেগ বাজারের কারসাজি; অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে তিনি কার্যকর বাজার ব্যবস্থাপনার ওপর জোর দেন।

ভালো ফলনের বছরেও বাড়ল পেঁয়াজের দাম


দেড় থেকে দুই সপ্তাহ আগেও মানভেদে দেশি পেঁয়াজের দাম ছিল কেজিপ্রতি ৪০ থেকে ৪৫ টাকা। ৩১ জুলাই দুই বাজারে তা বিক্রি হচ্ছিল ৫৫ থেকে ৬৫ টাকায়। চার দিন আগেও দাম ছিল ৫০ থেকে ৬০ টাকা।

শান্তিনগর বাজারের বিক্রেতা এনামুল হক বলেন, পাইকারি বাজারে হঠাৎ করেই পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। সে কারণে এক সপ্তাহ আগেও যে পেঁয়াজ তিনি ৪০ টাকায় বিক্রি করেছেন, তা এখন ৬০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে; পাবনার ভালো মানের বাছাই করা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬৫ টাকাতেও।

টিসিবির ৩০ জুলাইয়ের তালিকায় দেশি পেঁয়াজের দাম ছিল কেজিপ্রতি ৫৫ থেকে ৬০ টাকা, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৪৫ থেকে ৫৫ টাকা এবং এক মাস আগে ৩৫ থেকে ৪৫ টাকা; সংস্থাটির হিসাবে এক মাসে দাম বেড়েছে ৪৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ। তালিকায় মূল্যবৃদ্ধির তারিখ দেখানো হয় ২৮ জুলাই। এক বছর আগে, ২০২৫ সালের ৩০ জুলাই দেশি পেঁয়াজের দাম ছিল ৬০ থেকে ৬৫ টাকা। তালিকায় আমদানি করা পেঁয়াজের কোনো দাম ছিল না। এর আগে ২১ জুলাই ইত্তেফাক পেঁয়াজ বিক্রি হতে দেখে ৪৫ থেকে ৫০ টাকায়, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৩৫ থেকে ৪০ টাকা।

দেশ রূপান্তর ৩১ জুলাই জানায়, কৃষি বিভাগ বলছে এবার পেঁয়াজের ভালো ফলন হয়েছে এবং বিদেশ থেকে আমদানির প্রয়োজন পড়বে না; বিভাগটির মতে এ অবস্থায় হঠাৎ দাম বাড়ার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই।

বছরের শুরুর দিকে, ২০২৬ সালের ২৫ এপ্রিল রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসস জানায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ২ লাখ ৮৬ হাজার ৩০০ হেক্টর জমি থেকে ৪২ লাখ ৬৪ হাজার ১০০ টন পেঁয়াজ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছিল ডিএই। কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বাসসকে বলেন, দেশ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পথে, বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ আছে, দামও স্থিতিশীল; দুটি প্রকল্পের মাধ্যমে সারা দেশে ৯০০টি পেঁয়াজ সংরক্ষণ ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। বাসসের তথ্যে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তখন পর্যন্ত পেঁয়াজ আমদানি হয়েছিল ৮৬ হাজার ৩৯৮ দশমিক ৮৪ টন, যেখানে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আমদানি ছিল ৪ লাখ ৭৩ হাজার ৮১১ দশমিক ২৭ টন; দেশে পেঁয়াজের বার্ষিক চাহিদা সাধারণত ৩৫ থেকে ৩৬ লাখ টন। ৮ জুন বাসস আরও জানায়, ডিএইর রংপুর অঞ্চলে ১২ হাজার ১০৫ হেক্টর জমি থেকে রেকর্ড ১ লাখ ৪৩ হাজার ৬৬৬ টন পেঁয়াজ উৎপাদিত হয়েছে।

২৭ জুলাই দৈনিক ইনকিলাব জানায়, পেঁয়াজের ভান্ডারখ্যাত পাবনায় দেশের মোট চাহিদার এক-চতুর্থাংশ পেঁয়াজ উৎপাদিত হয়। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যে, চলতি মৌসুমে সেখানে ৫৩ হাজার ৭৫০ হেক্টর লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আবাদ হয় ৫৪ হাজার ৩৩৫ হেক্টরে, আর ৮ লাখ ৪৫ হাজার ৪৭৩ টন লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে উৎপাদন হয় ৯ লাখ ৯৫ হাজার ৩৬৭ টন। তবে বেশি দামের আশায় সুজানগর, সদর ও সাঁথিয়া উপজেলার যেসব কৃষক ঘরের বাঁশের মাচায় পেঁয়াজ রেখে দিয়েছিলেন, অতিরিক্ত তাপমাত্রা ও আর্দ্রতায় তাঁদের পেঁয়াজে পচন ও অঙ্কুরোদ্গম দেখা দেয়। পাবনা সদরের দুবলিয়া পেঁয়াজের পাইকারি হাটে প্রতি মণ পেঁয়াজ বিক্রি হয় ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকায়, যেখানে আগের বছরের একই সময়ে দাম ছিল ২ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকা; চাষিদের দাবি, এক মণ পেঁয়াজ উৎপাদনে খরচ হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৬০০ টাকা। পাবনা ডিএইর একজন অতিরিক্ত উপপরিচালক জানান, জেলায় লক্ষাধিক পেঁয়াজচাষি থাকলেও উন্নত সংরক্ষণ পদ্ধতির আওতায় আনা গেছে মাত্র আড়াই হাজার কৃষককে।

ঢাকার মগবাজারের চারুলতা মার্কেট কাঁচাবাজারে বিক্রির জন্য রাখা পেঁয়াজ, ছবিটি ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে তোলা। ছবি: Salim Khandoker / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
ঢাকার মগবাজারের চারুলতা মার্কেট কাঁচাবাজারে বিক্রির জন্য রাখা পেঁয়াজ, ছবিটি ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে তোলা। ছবি: Salim Khandoker / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)

পেঁপে-ঢ্যাঁড়স-পটল ছাড়া অন্যান্য সবজি ১০০


জুলাই মাসের শুরুর কয়েক দিন পর থেকেই টানা বৃষ্টি ও কিছু এলাকায় বন্যার কারণে সবজি বিক্রি হচ্ছিল ব্যাপক চড়া দামে। দু-একটি সবজির দাম খানিকটা কমলেও ৩১ জুলাই বেশির ভাগ সবজির দামই ছিল বেশি।

লম্বা বেগুন বিক্রি হচ্ছিল কেজিপ্রতি ১২০ থেকে ১৫০ টাকায়। গোলাকৃতির কালো বেগুনের দাম উঠেছিল ১৮০ টাকায়, আর সাদা বেগুন বিক্রি হচ্ছিল ১৪০ টাকা কেজি দরে; কোথাও কোথাও মানভেদে বেগুনের দামে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত কমবেশি দেখা যায়। তবে ধুন্দল ও পটলের দাম একটু কমে ১০০ টাকা থেকে বাজারভেদে ৬০ থেকে ৮০ টাকায় নেমেছিল। এ ছাড়া করলা ১২০ থেকে ১৪০ টাকা, কচুরমুখী ৮০ থেকে ১০০ টাকা, বরবটি ১১০ থেকে ১৩০ টাকা এবং চিচিঙ্গা ৯০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছিল।

সেগুনবাগিচা কাঁচাবাজারের সবজি বিক্রেতা রফিকুল ইসলাম বলেন, দুই-তিনটি সবজির দাম অল্প কমেছে, আবার সপ্তাহের ব্যবধানে বেগুনসহ কয়েকটি পণ্যের দাম আরও বেড়েছে।

টিসিবি অল্প কয়েকটি সবজির দামই তালিকাভুক্ত করে। ৩০ জুলাইয়ের তালিকায় বেগুনের দাম ছিল কেজিপ্রতি ১০০ থেকে ১৪০ টাকা, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৮০ থেকে ১২০ টাকা এবং এক মাস আগে ৮০ থেকে ৯০ টাকা; শসা ছিল ৮০ থেকে ১৫০ টাকা, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৮০ থেকে ১২০ টাকা এবং এক মাস আগে ৫০ থেকে ৮০ টাকা। অন্যদিকে আলুর দাম ২২ থেকে ৩০ টাকায় নেমে এক সপ্তাহ আগের চেয়ে সামান্য কম ছিল।

এই তালিকার সবজির বেশির ভাগই গ্রীষ্মকালীন ফসল। বাংলাপিডিয়া বাংলাদেশের প্রধান গ্রীষ্মকালীন সবজি হিসেবে মিষ্টিকুমড়া, করলা, কাঁকরোল, ঝিঙা, চালকুমড়া, ঢ্যাঁড়স, বরবটি ও পুঁইশাকের নাম উল্লেখ করেছে, আর বলেছে বেগুন, মিষ্টিকুমড়া, ঢ্যাঁড়স ও লালশাক দুই মৌসুমেই জন্মে। বাংলাপিডিয়ার তথ্যে, প্রতিকূল আবহাওয়া ও পোকামাকড়ের আক্রমণে গ্রীষ্মকালীন সবজি চাষ বাধাগ্রস্ত হয়, আর কিছু সবজি আসে মূলত নির্দিষ্ট কিছু এলাকা থেকে, যেমন বগুড়ার পটল।

মরিচের মতো বেগুনও (Solanum melongena) সোলানেসি পরিবারের উদ্ভিদ এবং দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় সবজিগুলোর একটি; বাংলাপিডিয়া এর পরিচিত স্থানীয় জাত হিসেবে ইসলামপুরী, খটখটিয়া, দোহাজারী, ভোলানাথ ও শিংনাথের নাম উল্লেখ করেছে।

ঢাকার মগবাজারের চারুলতা মার্কেট কাঁচাবাজারে বিক্রির জন্য রাখা বেগুন, ছবিটি ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে তোলা। ছবি: Salim Khandoker / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
ঢাকার মগবাজারের চারুলতা মার্কেট কাঁচাবাজারে বিক্রির জন্য রাখা বেগুন, ছবিটি ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে তোলা। ছবি: Salim Khandoker / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)

ডিমের দাম বেড়েছে, স্থিতিশীল মুরগি


ডিম-মুরগির বাজারে দেখা যায়, আগের সপ্তাহের তুলনায় ফার্মের ডিমের দাম আরও কিছুটা বেড়েছে। ৩১ জুলাই ফার্মের ডিম বিক্রি হচ্ছিল ডজনপ্রতি ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকায়, যা আগের সপ্তাহে ছিল ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকা এবং এক মাস আগে ১২০ থেকে ১৩০ টাকা। অন্যদিকে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছিল ১৮০ থেকে ১৯০ টাকায় এবং সোনালি জাতের মুরগি ৩৩০ থেকে ৩৪০ টাকায়।

অন্য বাজার থেকে সংগৃহীত টিসিবির হিসাবে ডিমের এই মূল্যবৃদ্ধি তখনো ধরা পড়েনি। ৩০ জুলাইয়ের তালিকায় ফার্মের ডিমের দাম ছিল হালিপ্রতি (চারটি ডিম) ৪৫ থেকে ৫০ টাকা, যা এক সপ্তাহ ও এক মাস আগেও একই ছিল; এক বছর আগে দাম ছিল ৩৮ থেকে ৪৫ টাকা। ব্রয়লার মুরগির দাম ছিল কেজিপ্রতি ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, এক সপ্তাহ আগের সমান, তবে এক মাস আগে ছিল ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা এবং এক বছর আগে ১৪৫ থেকে ১৭০ টাকা; দেশি মুরগি ছিল ৬০০ থেকে ৭৫০ টাকা। বৃহস্পতিবারের বাজারের বর্ণনায় দেশ রূপান্তরও ব্রয়লার মুরগি ও ডিমের বাজারকে স্থিতিশীল বলেছিল: ব্রয়লার কেজিপ্রতি ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, ফার্মের ডিম ডজনপ্রতি ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা।

চাহিদার হিসাবের চেয়ে দেশে ডিম উৎপাদন অনেক বেশি। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য প্রকাশকারী প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের (ডিএলএস) হিসাবে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে দেশে ডিম উৎপাদন হয়েছে ২ হাজার ৩৭৪ দশমিক ৯৭ কোটি, যা ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ছিল ১ হাজার ৯৯ দশমিক ৫২ কোটি। জনপ্রতি বছরে ১০৪টি ডিম ধরে ডিএলএস চাহিদা হিসাব করেছে ১ হাজার ৮০৯ দশমিক ৬০ কোটি, আর জনপ্রতি প্রাপ্যতা ১৩৫ দশমিক ০৯টি। ২০২৩-২৪ সালে দেশে মুরগির সংখ্যা ছিল আনুমানিক ৩ হাজার ২৭৭ দশমিক ৭৭ লাখ এবং হাঁস ৬৮২ দশমিক ৬১ লাখ।

ব্রয়লারের পাশাপাশি যে সোনালি মুরগির দাম ক্রেতারা যাচাই করেন, সেটি রোড আইল্যান্ড রেড মোরগ ও ফাউমি মুরগির সংকর জাত। ২০০৪ সালে লাইভস্টক রিসার্চ ফর রুরাল ডেভেলপমেন্ট সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণাপত্রে বলা হয়, ১৯৯৯ সালের একটি গবেষণায় এই সংকরের নাম দেওয়া হয় "সোনালি"; প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ও ব্র্যাকের তৈরি গ্রামীণ ক্ষুদ্র খামারিদের আধা-মুক্তচারণ মুরগি পালন মডেলের ভিত্তি ছিল এই জাত, যেখানে প্রথম আট সপ্তাহ বাচ্চাগুলোকে আবদ্ধ অবস্থায় লালন করে তারপর খামারির উঠানে চরে খাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়; আর ডিএলএস নিজেদের খামারে দুই মূল জাত রেখে ক্ষুদ্র খামারিদের জন্য সোনালির বাচ্চা উৎপাদন করে।

টিসিবির দৈনিক বাজারদর ও অন্যান্য নিত্যপণ্য


বাংলাপিডিয়ার তথ্যমতে, টিসিবি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, ১৯৭২ সালে রাষ্ট্রপতির আদেশ নম্বর ৬৮ বলে প্রতিষ্ঠিত; এর প্রধান কার্যালয় ঢাকার কারওয়ান বাজারে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ও দামের ওপর নজর রাখা এর অন্যতম কাজ; জরুরি পরিস্থিতিতে সংস্থাটি পেঁয়াজ, ডাল, লবণ, শুকনা মরিচ, খেজুর ও আদা আমদানি করে, আর ডিলারদের মাধ্যমে নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে চিনি, সয়াবিন তেল, ডাল ও ছোলা বিক্রি করে।

ঢাকার জন্য টিসিবির দৈনিক খুচরা বাজারদরে চাল-ডাল থেকে শুরু করে সবজি, ডিম ও রড পর্যন্ত কয়েক ডজন নিত্যপণ্যের সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ দাম লিপিবদ্ধ করে এক সপ্তাহ, এক মাস ও এক বছর আগের দামের সঙ্গে তুলনা করা হয়। ৩০ জুলাইয়ের তালিকা তৈরি হয় সিপাহীবাগ, মিরপুর-৬, মোহাম্মদপুর টাউন হল, নিউমার্কেট, রামপুরা ও মহাখালী বাজারের তথ্য থেকে। তাই জাগো নিউজের প্রতিবেদকের ঘুরে দেখা পাড়ার বাজারের দামের সঙ্গে টিসিবির দামে পার্থক্য থাকতে পারে।

৩০ জুলাইয়ের তালিকার অন্যান্য পণ্যের মধ্যে প্যাকেট আটার দাম এক সপ্তাহ আগের ৫৫ থেকে ৬০ টাকা থেকে বেড়ে কেজিপ্রতি ৬০ থেকে ৬৫ টাকা হয়, আর খোলা আটা বিক্রি হচ্ছিল ৪৫ থেকে ৫০ টাকায়। টিসিবির বিশ্লেষণ উদ্ধৃত করে দেশ রূপান্তর জানায়, এক মাসের ব্যবধানে খোলা আটার দাম ৪ দশমিক ৪০ শতাংশ, প্যাকেট আটার ৮ দশমিক ৭০ শতাংশ এবং খোলা ময়দার ৪ দশমিক ৩৫ শতাংশ বেড়েছে। মোটা চালের দাম কিছুটা কমে কেজিপ্রতি ৫০ থেকে ৫৫ টাকা হয়; দেশি রসুন বিক্রি হচ্ছিল ১০০ থেকে ১২০ টাকায়, আমদানি করা আদা ১৬০ থেকে ২০০ টাকায় এবং দেশি শুকনা মরিচ ৩২০ থেকে ৩৮০ টাকায়।

ছবি: NahidSultan / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)। ঢাকার একটি বাজারে বিক্রির জন্য রাখা সবজি।

সূত্র: জাগো নিউজ ২৪ (৩১ জুলাই ২০২৬), ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (ঢাকা মহানগরীর দৈনিক খুচরা বাজারদর, ৩০ জুলাই ২০২৬), দেশ রূপান্তর (২৮ ও ৩১ জুলাই ২০২৬), দৈনিক ইত্তেফাক (২১ জুলাই ২০২৬), দৈনিক ইনকিলাব (২৭ ও ৩০ জুলাই ২০২৬), দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড (১৩ ও ২৮ জুলাই ২০২৬), দ্য ডেইলি স্টার (জুলাই ২০২৩ ও ২৭ জুলাই ২০২৬), ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশন (১৬ জুলাই ২০২৬), বাসস (২৫ এপ্রিল ও ৮ জুন ২০২৬), প্রথম আলো (৬ জুলাই ২০২৩), প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর (লাইভস্টক ইকোনমি অ্যাট আ গ্ল্যান্স ২০২৩-২৪), লাইভস্টক রিসার্চ ফর রুরাল ডেভেলপমেন্ট (২০০৪), বাংলাপিডিয়া।

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

বাজার ব্যবস্থাপনা

সম্পর্কিত খবর

ফসল

কানাডার নন-জিএমও সয়াবিনের চাহিদা বাড়ছে, প্রক্রিয়াজাত সক্ষমতা দ্বিগুণের বেশি করছে সেরেসকো

সেরেসকো জানিয়েছে, তাদের কেনা সয়াবিন ২০২৫ সালে ১৫ ও ২০২৬ সালে ২০ শতাংশ বেড়েছে; অন্টারিওর সেন্ট অ্যালবার্টে ৬০ লাখ ডলারের সংস্কারে পরিষ্কারের সক্ষমতা ঘণ্টায় ৯ থেকে ২০ টন হচ্ছে।

Farms.com৩১ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
বাজার ব্যবস্থাপনা

যুক্তরাষ্ট্রে ভুট্টার শস্যবিমার নিশ্চয়তা দাম ৪.৭৫ ডলার, সয়াবিনের ১২.৬৩ ডলার

অক্টোবরের ফিউচার্স দামের গড় দুই ফসলেই বসন্তের দামের চেয়ে বেশি হওয়ায় রাজস্ব সুরক্ষা পলিসিতে উঁচু ফসল তোলার দাম ধরা হবে; ফলে এবার ক্ষতিপূরণ পেতে হলে ফলন কমতে হবে।

DTN / Progressive Farmer৩১ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
এগ্রোবিজ

রবি মৌসুমের ভর্তুকি হার ঘোষণায় দেরি, বিশ্ববাজারে ডিএপির দাম টনপ্রতি ৯০০ ডলারের কাছে

ডিএপি সারের সবচেয়ে বেশি চাহিদার সময় ঘনিয়ে এলেও ভারত এখনো রবি মৌসুমের পুষ্টিভিত্তিক ভর্তুকি হার ঘোষণা করেনি। শিল্প সূত্র বলছে, এতে আমদানি থমকে আছে, আর সালফার সংকটে কারখানাগুলো পুরো ক্ষমতায় চলছে না।

Rural Voice২৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)