অক্টোবর ২০২৬ থেকে মার্চ ২০২৭ পর্যন্ত চলা রবি মৌসুমের জন্য ভারত এখনো পুষ্টিভিত্তিক ভর্তুকি (এনবিএস) হার ঘোষণা করেনি, অথচ ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট বা ডিএপি সারের সবচেয়ে বেশি ব্যবহারের সময় দরজায়। সার শিল্পের সূত্রগুলোর দাবি, প্রতি মৌসুমে আলাদা করে হার ঠিক করার এই চর্চাই বিশ্ববাজারে ডিএপির দাম চড়া রাখতে ভূমিকা রাখছে।
ডিএপির বেশির ভাগ ব্যবহার হয় ১৫ নভেম্বরের মধ্যে, আর গম, আলু ও সরিষার মতো প্রধান রবি ফসলের বপন নভেম্বরের শেষ নাগাদ মূলত শেষ হয়ে যায়। ভর্তুকির হার না জানায় আমদানিকারকেরা বুঝতে পারছেন না সরকার তাঁদের খরচের কতটা দেবে, তাই কেনাকাটার সিদ্ধান্ত আটকে আছে। কয়েক মাস ধরে বিশ্ববাজারে ডিএপির দাম টনপ্রতি প্রায় ৯০০ ডলারে স্থির।
চার বছর ধরে সরকার ৫০ কেজির এক বস্তা ডিএপির সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ১,৩৫০ রুপিতে বেঁধে রেখেছে, তাই আমদানিকারকেরা পুরো খরচ সরকার পুষিয়ে দেবে, এই ভরসায় থাকেন। শিল্প সূত্র জানায়, সহায়তার পরিমাণ নিয়ে অনিশ্চয়তায় কোম্পানিগুলোকে কখনো কখনো লোকসান গুনতে হয়েছে। বছরে একবার হার ঘোষণা হলে তারা আগেভাগে কেনার পরিকল্পনা করতে পারত, বিশ্ববাজারে ভারতের দর-কষাকষির অবস্থানও শক্ত হতে পারত।
ভারত বছরে প্রায় এক কোটি টন ডিএপি ব্যবহার করে। এর প্রায় ৪০ শতাংশ দেশে তৈরি হয়, তবে দেশি কারখানাও আমদানি করা কাঁচামালের ওপর নির্ভরশীল; বাকিটা আসে তৈরি ডিএপি হিসেবে। রবি মৌসুমেই লাগে প্রায় ৫৫ লাখ টন। হার ঘোষণায় দেরিতে বেসরকারি আমদানিকারকেরা পিছিয়ে আছেন, এখন পর্যন্ত বেশির ভাগ আমদানি করেছে ন্যাশনাল ফার্টিলাইজার্স লিমিটেড ও হিন্দুস্তান উর্বরক অ্যান্ড রসায়ন লিমিটেডের মতো রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান এবং সার সমবায়গুলো।
ডিএপি ও মিশ্র সার তৈরির মূল কাঁচামাল সালফারের ঘাটতিও উৎপাদন সীমিত করছে। সালফারের দাম সামান্য কমে টনপ্রতি ৯০০ ডলারের নিচে নামলেও সরবরাহের টান কাটেনি; কয়েকটি কারখানা স্থাপিত ক্ষমতার প্রায় ৬০ শতাংশে চলছে বলে জানা গেছে। শিল্প সূত্র এই ঘাটতির জন্য উপসাগরীয় অঞ্চল ও রাশিয়ার শোধনাগারের ক্ষতিকে দায়ী করছে, যেগুলো ঐতিহ্যগতভাবে বিশ্বের সালফারের বড় অংশ জোগায়।
দুর্বল বর্ষা আর দীর্ঘ শুষ্ক সময়ে এ বছর ডিএপি, ইউরিয়া ও মিশ্র সার মিলিয়ে ব্যবহার প্রায় ১৫ শতাংশ কমেছে, তাই আপাতত ডিএপির সরবরাহ স্বাভাবিক আছে। উত্তর প্রদেশ ও পাঞ্জাবে জোগান বাড়াতে পূর্ব উপকূলের কাকিনাড়া বন্দর থেকে রেলে ডিএপি পাঠানো হচ্ছে। শিল্প সূত্রের মতে, সার বিক্রি নিয়ন্ত্রণে রাজ্যগুলোর অনলাইন ব্যবস্থায় কৃষকেরা সময়মতো সার পেতে ভুগছেন। আর এনপিকে মিশ্র সারের বস্তা এখন ২,৪০০ থেকে ২,৪৫০ রুপি, ডিএপির ১,৩৫০ রুপি; দামের এই ফারাক সার ব্যবহারে ভারসাম্য নষ্ট করছে।
রুরাল ভয়েসের পক্ষে প্রতিবেদনটি লিখেছেন অজিত সিং।
ছবি: Suyash Dwivedi / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: Rural Voice





মন্তব্য
(০)