ভাইরাস সংক্রমণ সেরে যাওয়ার পরও মস্তিষ্কের কোষে তার কোনো আণবিক ছাপ থেকে যায় কি না, আর পারকিনসন্সের সঙ্গে তার যোগ আছে কি না, সে প্রশ্নে নতুন একটি সূত্র দিয়েছেন ভারতের বিজ্ঞানীরা। ইনফ্লুয়েঞ্জা ও করোনার মতো আরএনএ ভাইরাসের একটি বিশেষ গঠন আলফা-সিনিউক্লিন প্রোটিনের অস্বাভাবিক জমাট বাঁধা ত্বরান্বিত করতে পারে বলে তাঁরা দেখিয়েছেন। কলকাতার এই সময় পত্রিকায় খবরটি লিখেছেন অনির্বাণ ঘোষ ও ঐশ্বর্য্য মিত্র।
গবেষণাটি করেছে কাউন্সিল অব সায়েন্টিফিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চের (সিএসআইআর) অধীন হায়দরাবাদের সেন্টার ফর সেলুলার অ্যান্ড মলিকিউলার বায়োলজি (সিসিএমবি), নেতৃত্বে বিজ্ঞানী স্বস্তি রায়চৌধুরী, মূল লেখক আঁচল জৈন; আইআইটি খড়্গপুরের গবেষকেরাও যুক্ত ছিলেন। গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে এলসেভিয়ারের সেল রিপোর্টস সাময়িকীতে।
পারকিনসন্সের অন্যতম বৈশিষ্ট্য মস্তিষ্কের কোষে আলফা-সিনিউক্লিনের জমাট, যাকে অ্যামাইলয়েড বলে। গবেষকেরা নজর দিয়েছেন ভাইরাসের আরএনএ-র আরএনএ জি-কোয়াড্রুপ্লেক্স (আরজি-ফোর) গঠনে। এইচ১এন১ ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের আরএনএ নিয়ে পরীক্ষায় দেখা গেছে, এই গঠন আলফা-সিনিউক্লিনের সঙ্গে মিশে অ্যামাইলয়েড তৈরির গতি বাড়ায়। সার্স-কোভ-২ (করোনা) ও জাপানি এনকেফালাইটিস ভাইরাসের আরজি-ফোরও একইভাবে কাজ করতে পারে।
কোষের নিজস্ব প্রতিরক্ষাও আছে। ডিডিএক্স৩৯এ নামের একটি আরএনএ হেলিকেজ প্রোটিন সংক্রমণের সময় নিউক্লিয়াস থেকে সাইটোপ্লাজমে এসে ভাইরাসের আরজি-ফোর খুলে দিতে পারে, তাতে ভাইরাসের বংশবিস্তার আর অ্যামাইলয়েড তৈরি দুটিই ধীর হয়। কোভিড-সংক্রমিত নিউরনে ডিডিএক্স৩৯এ বাড়ালে অ্যামাইলয়েড কমেছে। তবে সংক্রমণে আরজি-ফোর বেড়ে গেলে ভারসাম্য বদলে অ্যামাইলয়েডের পথ খুলে যেতে পারে।
গবেষকেরা নিজেরাই স্পষ্ট করেছেন, প্রতিটি ভাইরাস সংক্রমণ থেকে পারকিনসন্স হবে, এমন নয়; ভাইরাস ও পারকিনসন্সের মধ্যে সরাসরি কার্যকারণ সম্পর্ক এ গবেষণা প্রতিষ্ঠা করেনি। এটি সংক্রমণের সময় কোষের ভেতরে আরএনএ, আলফা-সিনিউক্লিন ও ডিডিএক্স৩৯এ-র সম্পর্ক বদলের একটি সম্ভাব্য পথ দেখিয়েছে।
স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ অনিমেষ কর বলেন, ভাইরাস সংক্রমণের পরে পারকিনসন্সের ঝুঁকি বাড়ার ইঙ্গিত আগে বিভিন্ন গবেষণায় মিলেছিল, কিন্তু প্রক্রিয়াটি স্পষ্ট ছিল না; এ গবেষণা তার একটি সম্ভাব্য জৈবিক ব্যাখ্যা দিল। গবেষকদের আশা, এই পথ ভবিষ্যতে পারকিনসন্স প্রতিরোধ ও চিকিৎসায় নতুন দিশা দেখাতে পারে।
ছবি: Werner CJ, Heyny-von Haussen R, Mall G, Wolf S / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
সূত্র: এই সময়





মন্তব্য
(০)