সরকারি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিতে বিতরণ করা ফর্টিফায়েড বা পুষ্টিসমৃদ্ধ চাল মানুষের পুষ্টিতে আসলে কতটা কাজ করছে, তা যাচাইয়ে গবেষণার জন্য জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) কাছে আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা চেয়েছে সরকার। গবেষণায় প্রায় চার থেকে সাড়ে চার লাখ মার্কিন ডলার লাগতে পারে। কর্মসূচিটি এখন দেশের প্রায় ৩০০ উপজেলায় চলছে, জানিয়েছে বাংলা নিউজ ২৪।
সোমবার (২ নভেম্বর) সচিবালয়ে ডব্লিউএফপি বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর কোকো উশিয়ামার নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম এ সহায়তা চান। তাঁর যুক্তি, কর্মসূচি আরও বাড়ানোর আগে এর প্রকৃত পুষ্টিগত সুফলের শক্ত প্রমাণ দরকার; নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পেলে পরিধি বাড়ানো ও নীতিসিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হবে।
মন্ত্রী জানান, চালসহ অন্য খাদ্যপণ্যে পুষ্টি উপাদান যোগ করার কাজ বাড়াতে নীতিমালা ও আইন প্রণয়নের বিষয়টি বিবেচনায় আছে। এতে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ, পণ্যের মান নিশ্চিত করা আর আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে ডব্লিউএফপির সহযোগিতা চান তিনি।
সরকারি খাদ্যগুদামে দীর্ঘদিন চালের মান ধরে রাখাকে বড় চ্যালেঞ্জ বলেও উল্লেখ করেন মন্ত্রী। খাদ্যশস্য সংরক্ষণ ও দীর্ঘমেয়াদি মজুত ব্যবস্থাপনার জন্য সমন্বিত নীতিমালা ও স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) তৈরিতে ডব্লিউএফপির কারিগরি সহায়তা চাওয়া হয়েছে। বন্যা, খরা, তাপপ্রবাহ ও ভূমিকম্পের মতো দুর্যোগ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি ও সারের দাম বাড়ার মতো অভিঘাত সামলাতে মজুত আর সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সমন্বয় বাড়ানোর কথাও বলেন তিনি।
কোকো উশিয়ামা বলেন, আগামী পাঁচ বছরের পরিকল্পনায় কৌশলগত খাদ্যশস্যের মজুত, সামাজিক নিরাপত্তা, খাদ্যশস্যের পুষ্টিমান উন্নয়ন আর স্কুল ফিডিং কর্মসূচিকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। ফর্টিফায়েড চালের নিরপেক্ষ ও বৈজ্ঞানিক মূল্যায়নের ওপর জোর দিয়ে তিনি অন্য উন্নয়ন সহযোগীদেরও যুক্ত করার এবং একটি বিস্তারিত ধারণাপত্র তৈরির পরামর্শ দেন; পাকিস্তানসহ অন্য দেশের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের আশ্বাসও দেন।
বৈঠকে স্থানীয় কৃষকের উৎপাদিত খাদ্য দিয়ে স্কুল ফিডিং বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়। ধান-চালের বাজারে এর মানে, সরকারি কেনাকাটা আর পুষ্টি কর্মসূচির সঙ্গে কৃষকের সরাসরি যোগ বাড়তে পারে, যদি প্রস্তাবটি পরিকল্পনা থেকে বাস্তবে আসে।
ছবি: Press Information Department / উইকিমিডিয়া কমন্স (Public domain)
সূত্র: বাংলা নিউজ ২৪




মন্তব্য
(০)