দেরিতে ঘুমানো, সকালে উঠেও ক্লান্তি, কর্মদিবস আর ছুটির দিনে ঘুমের সময়ে বড় ফারাক: বিষণ্নতায় ভোগা কিছু মানুষের ক্ষেত্রে এগুলো শুধু উপসর্গ নয়, শরীরের জৈবিক ঘড়ির গোলমালই হয়তো বিষণ্নতার পেছনে ভূমিকা রাখে। অস্ট্রেলিয়ার সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা এর নাম দিয়েছেন সারকাডিয়ান ডিপ্রেশন। ব্রিটিশ জার্নাল অব সাইকিয়াট্রিতে প্রকাশিত গবেষণাটি নিয়ে প্রতিবেদন করেছে প্রথম আলো।
গবেষকেরা বিষণ্নতায় ভোগা ১১ হাজারের বেশি মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করে ঘুম ও দৈনন্দিন ছন্দের ছয়টি বৈশিষ্ট্য চিহ্নিত করেন, যার মধ্যে আছে নির্দিষ্ট ঋতুতে লক্ষণ বাড়া-কমা, দেরিতে ঘুমানো, রাতজাগায় স্বাচ্ছন্দ্য, সকালের ক্লান্তি এবং ছুটির দিনে ঘুমের সময় বদলে যাওয়া, যাকে বলা হয় সোশ্যাল জেট ল্যাগ। ছয়টির অন্তত তিনটি যাঁদের মধ্যে মিলেছে, এমন ২ হাজার ৬০৪ জনকে, অর্থাৎ প্রায় ২৩ শতাংশকে সম্ভাব্য সারকাডিয়ান ডিপ্রেশন দলে রাখা হয়।
এই দলের বিষণ্নতা অপেক্ষাকৃত কম বয়সে শুরু হয়েছে এবং লক্ষণও বেশি গুরুতর ছিল। জিনগত বিশ্লেষণে তাঁদের মধ্যে এডিএইচডি, বাইপোলার ডিজঅর্ডার ও ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের সঙ্গে যুক্ত জিনগত ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি পাওয়া গেছে, যদিও এর মানে এই নয় যে তাঁদের এসব রোগ আছে বা হবেই। অংশগ্রহণকারীরা জানিয়েছেন, এসএসআরআই ও এসএনআরআই শ্রেণির ওষুধে তাঁরা কম উপকার এবং বেশি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া পেয়েছেন।
গবেষণার অন্যতম লেখক সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যাকব ক্রাউস বলেন, বিষণ্নতা সবার ক্ষেত্রে এক রকম নয়; কারণ, লক্ষণ ও চিকিৎসায় সাড়া ভিন্ন হতে পারে। তবে ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের মনোরোগবিশেষজ্ঞ ডেভিড কার্টিসের মতে, এই বৈশিষ্ট্যগুলো হয়তো আগে থেকেই বেশি গুরুতর বিষণ্নতার মানুষদের আলাদা করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের পিটসবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের কলিন ম্যাকক্লাং সতর্ক করেছেন, অংশগ্রহণকারীদের কারও বাইপোলার ডিজঅর্ডার থাকতে পারে।
গবেষণার সীমাবদ্ধতাও স্পষ্ট। ঘুমের তথ্য ও ওষুধের কার্যকারিতা এসেছে অংশগ্রহণকারীদের নিজেদের বর্ণনা থেকে; পরিধেয় যন্ত্র বা মেলাটোনিনের মাত্রা মেপে জৈবিক ঘড়ির সমস্যা নিশ্চিত করা হয়নি। ঘুমের গোলমাল বিষণ্নতা ঘটাচ্ছে, নাকি বিষণ্নতা ঘুম এলোমেলো করছে, তা-ও এ গবেষণা থেকে বলা যায় না। সাধারণ মানুষের বিষণ্নতার ঝুঁকিও এতে মাপা হয়নি।
লাইট থেরাপি নিয়ে ২০২৫ সালের এক পর্যালোচনায় অ-ঋতুভিত্তিক বিষণ্নতার আট শতাধিক রোগীর মধ্যে আলো পাওয়া ৪০ শতাংশের বেশি রোগমুক্তির মানদণ্ডে পৌঁছেছিলেন, নিয়ন্ত্রণ দলে প্রায় ২৫ শতাংশ; তবে সেসব পরীক্ষায় সারকাডিয়ান বৈশিষ্ট্যের রোগী আলাদা করে বাছা হয়নি। প্রতিবেদনের পরামর্শ, ঘুমের সমস্যার সঙ্গে দীর্ঘদিন মন খারাপ বা কাজে আগ্রহ হারানো থাকলে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া, আর নিজে থেকে ওষুধ বন্ধ বা মেলাটোনিন, লাইট থেরাপি শুরু না করা।
সূত্র: প্রথম আলো




মন্তব্য
(০)