বাজারে সাধারণ সাদা লবণের পাশাপাশি পিঙ্ক সল্ট, সৈন্ধব লবণ, বিট লবণ, কেল্টিক লবণ, রং-স্বাদ-দাম সবই আলাদা। কোনটি রোজকার রান্নায় ভালো, এ প্রশ্নে ভারতের হায়দরাবাদের ক্যানসার সার্জন ডা. অর্জুন শঙ্করন ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে বলেছেন, লবণের রং নয়, তাতে আয়োডিন আছে কি না সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর পরামর্শ নিয়ে প্রতিবেদন করেছে সমকাল।
ডা. শঙ্করনের মতে, প্রতিদিনের রান্নায় আয়োডিনযুক্ত সাদা লবণই ভালো। সাদা লবণ রাসায়নিকে ব্লিচ করা, এই ধারণাও ঠিক নয় বলে জানান তিনি; বিশুদ্ধ লবণ প্রাকৃতিকভাবেই সাদা, সংগ্রহ ও পরিষ্কারের পর তাতে আয়োডিন যোগ করা হয়। আয়োডিন থাইরয়েড হরমোন তৈরিতে লাগে; ঘাটতিতে গলগণ্ড ও থাইরয়েডের সমস্যা হতে পারে, আর গর্ভাবস্থায় ঘাটতি শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশে প্রভাব ফেলতে পারে।
পিঙ্ক সল্ট ও সৈন্ধব লবণে খনিজ বেশি বলে যে ধারণা, সে বিষয়ে চিকিৎসক বলছেন, এসব লবণে খনিজের পরিমাণ খুবই সামান্য, তাই বাড়তি পুষ্টির আশায় এগুলো খাওয়ার বিশেষ কারণ নেই। পিঙ্ক সল্ট, সৈন্ধব, বিট ও কেল্টিক লবণে আয়োডিনও খুব কম, ফলে রোজ এগুলো দিয়ে রাঁধলে আয়োডিনের চাহিদা পূরণ না-ও হতে পারে। স্বাদ বদলাতে মাঝেমধ্যে ব্যবহার করা যায়।
সামুদ্রিক লবণ মানেই পর্যাপ্ত আয়োডিন নয়; প্যাকেটের গায়ে আয়োডিনযুক্ত লেখা দেখে কেনার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে কম সোডিয়ামের লবণ ব্যবহার করা যায়, যেখানে সাধারণ লবণের একাংশের বদলে পটাশিয়াম ক্লোরাইড থাকে। তবে কিডনির সমস্যা আছে বা পটাশিয়ামযুক্ত ওষুধ খান, এমন কারও চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এ লবণ খাওয়া উচিত নয়।
কোন লবণ, তার সঙ্গে কতটা, সেটিও সমান জরুরি। অতিরিক্ত লবণ উচ্চ রক্তচাপসহ নানা ঝুঁকি বাড়ায়। ডা. শঙ্করনের পরামর্শ, আচার, পাপড়সহ সব খাবার মিলিয়ে দিনে এক চা চামচের কম লবণ খাওয়া উচিত।
সংক্ষেপে, দামি বা রঙিন লবণ মানেই স্বাস্থ্যকর নয়; রান্নাঘরের জন্য আয়োডিনযুক্ত লবণ বেছে নেওয়া আর পরিমাণে সংযম রাখাই চিকিৎসকের মূল কথা।
ছবি: Drtony999 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: সমকাল





মন্তব্য
(০)