ক্যানসারের চিকিৎসায় ওষুধ, অস্ত্রোপচার, কেমোথেরাপি বা রেডিওথেরাপির পাশাপাশি পুষ্টিও জরুরি, আর রোগীর পাতে ভাত থাকবে কি না, তা নিয়ে রয়েছে নানা ভুল ধারণা। কলকাতার পিয়ারলেস হসপিটাল আয়োজিত ‘ইন্টারন্যাশনাল ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশন আপডেট ২০২৬’-এ এসব বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংবাদ প্রতিদিন।
হাসপাতালের কনসালট্যান্ট অঙ্কোলজিস্ট ডা. রাজীব ভট্টাচার্য বলেন, সার্জারি, রেডিওথেরাপি বা কেমোথেরাপির ধকল সামলাতে শরীরের যথেষ্ট সক্ষমতা লাগে; পুষ্টির ঘাটতিতে রোগী দুর্বল হলে চিকিৎসায় বারবার বাধা আসে। তাঁর কথায়, ‘ওষুধ আর পথ্য দুটোই একসঙ্গে ঠিক না থাকলে রোগীর চিকিৎসা সম্পূর্ণ হতে পারবে না।’
ভাত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ক্যানসার রোগীকে ভাতের বদলে রুটি বা রুটির বদলে ভাত খেতেই হবে, এমন নির্দিষ্ট নিয়ম নেই; রোগী যা খেতে অভ্যস্ত ও সহজে হজম করতে পারেন, তা-ই রাখা যায়, কারণ খিদে কমে গেলেও শরীরের পর্যাপ্ত ক্যালরি দরকার। রুটিতে হজমের সমস্যা হলে ভাত, সাদা চালের বদলে ব্রাউন রাইসও চলতে পারে, তবে কোনো নির্দিষ্ট চালকে ক্যানসারের জন্য বিশেষ উপকারী ভাবার কারণ নেই, ব্ল্যাক রাইসের ক্ষেত্রেও একই কথা।
অঙ্কোলজির ক্লিনিক্যাল ডিরেক্টর ডা. মধুছন্দা কর বলেন, ভাত নিয়ে অনেক মিথ আছে; আসল কথা ক্যালরি মেপে পরিমিত ও সুষম খাদ্যাভ্যাস। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেন, ওজন কমানোর জন্য যে ১২ বা ১৮ ঘণ্টা না খেয়ে থাকা কিংবা দিনে একবেলা খাওয়ার ডায়েট সামাজিক মাধ্যমে দেখা যায়, ক্যানসার রোগীর জন্য তা বিপজ্জনক হতে পারে; বয়স, শারীরিক অবস্থা, ক্যানসারের ধরন ও চিকিৎসা বিবেচনা করে ডায়েটিশিয়ানের পরামর্শে খাদ্যতালিকা করা উচিত।
চিকিৎসাধীন রোগীর সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে বাইরের খাবার বাদ দিয়ে কম তেল-মশলার বাড়ির সহজপাচ্য খাবারের পরামর্শ দেন ডা. ভট্টাচার্য। সম্মেলনে টাটা মেমোরিয়াল হসপিটালের প্রধান ডায়েটিশিয়ান শিবশংকর তিম্মানপতি ও কোয়েম্বাটোরের পারিমালা দেবী কুমারস্বামীসহ অন্যরা ক্যানসার চিকিৎসায় খাদ্য ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সামলানোর বিষয়ে বক্তব্য দেন। সম্মেলনের প্ল্যাটিনাম পার্টনার ছিল একটি চাল ব্র্যান্ড।
ছবি: সংবাদ প্রতিদিন
সূত্র: সংবাদ প্রতিদিন




মন্তব্য
(০)