কানাডার মানুষ আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে মাথাপিছু বেশি মুরগির মাংস খাবেন বলে পূর্বাভাস দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের বৈদেশিক কৃষি সেবা (এফএএস)। কানাডার পোলট্রি নিয়ে তাদের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাথাপিছু ভোগ ২০২৬ সালে হবে ৩৯.৫ কেজি এবং ২০২৭ সালে ৩৯.৮ কেজি, দুটিই রেকর্ড।
অথচ জনসংখ্যা বৃদ্ধির গতি অনেক কমে গেছে। অভিবাসননির্ভর কানাডার জনসংখ্যা ২০২৩ ও ২০২৪ সালে ৩ শতাংশ হারে বেড়েছিল। কেন্দ্রীয় সরকার আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও অস্থায়ী কর্মীর মতো অস্থায়ী বাসিন্দার সংখ্যা কমানোর লক্ষ্য কড়া করায় ২০২৫ সালে বৃদ্ধির হার আবার দীর্ঘমেয়াদি গড় ১ শতাংশে নেমে আসে। অস্থায়ী বাসিন্দারা বেশি হারে চলে যাওয়ায় এফএএস ধারণা করছে, ২০২৬ সালে জনসংখ্যা ২০২৫ সালের চেয়ে কমবে, আর ২০২৭ সালে সামান্য বাড়বে।
গত ৩৫ বছরে কানাডায় মোট মুরগির মাংস ভোগ প্রায় তিন গুণ হয়েছে, যার পেছনে ছিল জনসংখ্যার স্থির বৃদ্ধি। ১৯৯০ সালে প্রায় ২ কোটি ৮০ লাখ থেকে ২০২৫ সালে জনসংখ্যা সর্বোচ্চ ৪ কোটি ১৬ লাখে পৌঁছায়। এফএএস বলছে, অভিবাসীদের বড় অংশই এমন জনগোষ্ঠী থেকে আসা, যাঁরা মুরগির মাংস বেশি পছন্দ করেন।
প্রতিবেদনে এই প্রবণতার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, মুরগির মাংস বহুমুখী ও সাশ্রয়ী আমিষ। দাম প্রতিযোগিতামূলক, সব সময় পাওয়া যায়; তাই লাল মাংসের ভালো বিকল্প, যার দাম সাধারণত বেশি এবং মাঝে মাঝে সরবরাহেও টান পড়ে। স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়া এবং মুরগির মাংস অন্য মাংসের চেয়ে কম চর্বিযুক্ত, এই ধারণাও সহায়তা করেছে। মুরগিভিত্তিক ফাস্টফুড দোকানের বিস্তারও চাহিদা বাড়িয়েছে।
এফএএসের তথ্যে, কানাডার প্রায় প্রতি চারজনের একজন অন্য দেশে জন্মেছেন, আর অভিবাসীরা ক্রমেই এমন দেশ থেকে আসছেন যেখানে গরু বা শূকরের মাংসের চেয়ে মুরগির মাংসের কদর বেশি। বৈচিত্র্য বাড়ায় মুরগির পদ পরিবেশন করা খাবারের দোকানের ধরনও বেড়েছে। প্রতিবেদনের ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্রের মতো কানাডাতেও রেস্তোরাঁ ও খুচরা বাজারে মুরগির মাংসের জনপ্রিয়তা প্রশ্নাতীত।
পোলট্রি খামারিদের জন্য এই পূর্বাভাসের অর্থ, ভোক্তার সংখ্যা না বাড়লেও চাহিদা টিকে থাকছে, কারণ প্রত্যেকে আগের চেয়ে বেশি খাচ্ছেন।
দ্য পোলট্রি সাইটের পক্ষে প্রতিবেদনটি নিয়ে লিখেছেন মেলানি এপ।
ছবি: USDAgov / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: The Poultry Site





মন্তব্য
(০)