গরু ও এশীয় গৃহপালিত মহিষ মিলিয়ে ভারতের গবাদিপশুর সংখ্যা ২০২৭ সালের শুরুতে দাঁড়াবে ৩০ কোটি ৭০ লাখে, যা গত বছরের চেয়ে সামান্য কম। এই পূর্বাভাস দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের বৈদেশিক কৃষি সেবা (এফএএস)।
এফএএস জানিয়েছে, দেশে ও বিদেশে গোমাংসের জোরালো চাহিদার কারণে ২০২৬ সালে জবাই আগের ধারণার চেয়ে বেশি হয়েছে। চাহিদা মেটাতে জবাই আরও বাড়বে বলে ২০২৭ সালের শেষে সংখ্যা আরও কমে ৩০ কোটি ৬৫ লাখে নামবে। ভারত বিশ্বের সবচেয়ে বেশি গবাদিপশুর দেশগুলোর একটি, আর এসব পশু মূলত দুধের জন্য পালন করা হয়।
পূর্বাভাসে উদ্ধৃত শিল্পসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর ধারণা, সংকর জাতের গরু ও বেশি দুধের মহিষ ধীরে ধীরে বাড়বে। কিন্তু কম উৎপাদনশীল দেশি গরু ও মহিষ, আর বুড়ো গাভি, মহিষ, এঁড়ে বাছুর ও ষাঁড়ের মতো অনুৎপাদনশীল বেওয়ারিশ পশুর সংখ্যা কমায় মোট সংখ্যা কমবে।
দুগ্ধ খামারের কাঠামোও বদলাচ্ছে। বেশির ভাগ রাজ্যে এখনো ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক খামারিদেরই প্রাধান্য, বাড়ির উঠানে দুই থেকে পাঁচটি পশু। তবে প্রধান দুধ উৎপাদনকারী রাজ্যগুলোতে ২০ থেকে ৫০টি পশুর বিশেষায়িত খামারের প্রবণতা বাড়ছে, আর উঠানের খামারগুলো দুধেল পশু রাখছে কেবল পরিবারের প্রয়োজনে। জমি ছোট হয়ে আসা ও যন্ত্রের ব্যবহার বাড়ায় খামারিরা কম দুধের গাভি ও মহিষের বদলে বেশি দুধের পশু রাখছেন।
যন্ত্র ও ভালো গ্রামীণ সড়কের কারণে হালচাষে বলদ ও মহিষের ব্যবহারও কমেছে। এফএএস বলছে, মহিষের মাংসের (ক্যারাবিফ) রপ্তানি চাহিদা জোরালোভাবে ফিরে আসা, আধুনিক কসাইখানা ও মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানার বিস্তার এবং দেশের ভেতরে স্থির চাহিদা অনুৎপাদনশীল পশুর দাম বাড়িয়েছে। এতে খামারির আয় বাড়ছে, আর পশুগুলোকে রাস্তায় ছেড়ে দেওয়ার ঘটনাও কমছে।
দক্ষিণ এশিয়ার পশুপালকদের কাছে এই চিত্র পরিচিত: প্রতিটি খামারে পশু কম, কিন্তু প্রতিটির দুধ বেশি, আর যে পশু আর লাভ দেয় না তার জন্য একটি কার্যকর বাজার।
দ্য ক্যাটল সাইটের পক্ষে পূর্বাভাসটি নিয়ে লিখেছেন মেলানি এপ।
ছবি: Shivam nova / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: The Cattle Site





মন্তব্য
(০)