কেনিয়া-ইথিওপিয়া সীমান্তের দুই পারের পশুপালক সম্প্রদায় ২০২৬ সালের আগস্টে তিন দিন ধরে মোয়ালেতে (Moyale) প্রথমবারের মতো আন্তঃসীমান্ত উটের কাফেলা করেছে। একসঙ্গে ১২ কিলোমিটার পথ হেঁটেছেন তাঁরা, আর ফিরিয়ে এনেছেন চল্লিশ বছর ধরে বন্ধ থাকা এক শান্তি অনুষ্ঠান। খবরটি জানিয়েছে আন্তর্জাতিক প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইএলআরআই)।
বোরানা, গাব্রা, গারে, বুরজি, সাকুয়া ও সোমালি সম্প্রদায় একই চারণভূমি, ভাষা ও ব্যবসা ভাগ করে নেয়, খাদ্য ও আয়ের প্রধান ভরসা পশুপালন। তবু অঞ্চলটিতে বারবার সংঘাত আর সম্পদ নিয়ে টানাপোড়েন লেগে থাকে। কাফেলার আগে বোরানা ও গাব্রারা কুম্বি নামের আন্তঃসম্প্রদায় শান্তি অনুষ্ঠান করেন, যাতে প্রথাগত ধূপ বিনিময় হয়। কেনিয়ার মোয়ালে সাব-কাউন্টির ডেপুটি কাউন্টি কমিশনার বেনেডিক্ট মুনিওকি এবং ইথিওপিয়ার মোয়ালে শহরের মেয়র গালমা কোরোপিচা কাফেলার যাত্রা শুরু করেন। পথে স্কুল ও হাসপাতালে ফলের গাছ লাগানো হয়।
পশুপালক পরিবারের কাছে উটের মূল্য কতখানি, তা বলেছেন খামারিরা। মোয়ালে সাব-কাউন্টির বুটির উটমালিক আসলি আলি দিদো জানান, অন্য খাবার না থাকলেও উট দুধ দেয়; সেই দুধ বিক্রি করে চিকিৎসা বা স্কুলের বেতনের টাকা জোগাড় হয়। চারণভূমি ও পানির খোঁজে সরে যাওয়ার সময় শিশু, অসুস্থ, বয়স্ক মানুষ আর ঘরের জিনিস বয়ে নেয় উট। উটের দুধ দেওয়ার সময়কাল লম্বা, দিনে ১০ লিটার পর্যন্ত দুধ দিতে পারে, তাই নারীদের জন্য এটি নিয়মিত আয়। বাকালচা নারী দলের সম্পাদক হাওয়ো কোনতোমা বলেন, বড় একটি উটের কুঁজ থেকে ২০ লিটার পর্যন্ত তেল পাওয়া যায়, যা রান্নায় লাগে, বাড়তিটা বিক্রি হয়।
নারী ও তরুণেরা উটের দুধ ও মাংস থেকে তৈরি নতুন পণ্যও দেখিয়েছেন: দই, গাঁজানো দুধ, প্রক্রিয়াজাত তাজা দুধ, শুকনো মাংস আর বিস্কুট। মোয়ালে সেসি উটের দুধ সমবায়ের সদস্য আশা দিবা নুরা জানান, তরুণেরা মোটরসাইকেলে চারণভূমির পশুপালকদের কাছ থেকে দুধ সংগ্রহ করে সমবায়ের কেন্দ্রে আনেন; সেখানে পরীক্ষা ও প্যাকেট করে তাজা বা গাঁজানো দুধ ও দই হিসেবে বিক্রি হয়।
কাফেলার পর আইএলআরআই ও ইক্রিস্যাট কেনিয়া ও ইথিওপিয়ার ৫৫ জন তরুণকে উটের মূল্য শৃঙ্খলে ব্যবসার সুযোগ নিয়ে প্রশিক্ষণ দিয়েছে। আইএলআরআইয়ের আঞ্চলিক অংশীদারত্ব প্রধান তাহিরা মোহাম্মদ বলেন, লক্ষ্য হলো দেখানো যে পশুপালন শুধু উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া জীবনযাপন নয়, জ্ঞান, উদ্ভাবন ও বাজার মিললে এটি নতুন সুযোগ তৈরির অর্থনীতি।
সিজিআইএআরের ফুড ফ্রন্টিয়ার্স অ্যান্ড সিকিউরিটি সায়েন্স প্রোগ্রাম, ইগাডের সেওয়ার্ন আগাম সতর্কতা কর্মসূচি এবং স্থানীয় সহযোগী সিআইএফএ ও এসএনডির সহায়তায় আইএলআরআই কাফেলাটির আয়োজন করে, আন্তর্জাতিক চারণভূমি ও পশুপালক বর্ষ ২০২৬ উপলক্ষে। প্রতিবেদনটি লিখেছেন আইএলআরআইয়ের পলিকার্প ওতিয়েনো ওনিয়াঙ্গো।
ছবি: Tish Madesh / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC0)
সূত্র: সিজিআইএআর (CGIAR)





মন্তব্য
(০)