এল নিনোর প্রভাব মোকাবিলায় দ্রুত সম্পদ ও জনবল কাজে লাগাতে সারা দেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ বলিভিয়া। শনিবার প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো পাজ এ-সংক্রান্ত ডিক্রিতে সই করেন। বন্যা ও খরায় মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধারকারী দলের তৎপরতা বাড়ানোরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইত্তেফাক খবরটি দিয়েছে আল জাজিরার বরাতে।
প্রেসিডেন্ট পাজ বলেন, এল নিনোর কারণে খরা ও বন্যায় 'অত্যন্ত ভয়াবহ প্রভাব' দেখা দিতে পারে, আর তা সামলাতে দেশের সব প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা দরকার।
সরকারি এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বলিভিয়ার নয়টি প্রশাসনিক বিভাগের ছয়টিতে খরায় এরই মধ্যে ৭৮ হাজার পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, আর খরায় মারা গেছে ৭৫ হাজারের বেশি গবাদিপশু। দেশটিতে বন্যার ঝুঁকিও আছে; ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে সান্তা ক্রুজ অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যায় কয়েক ডজন মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।
প্রতিবেশী দেশগুলোতেও আবহাওয়ার চরম রূপ দেখা যাচ্ছে। চিলির রাজধানী সান্তিয়াগোতে চলতি বছরের অক্টোবরে রেকর্ড বৃষ্টি হয়েছে, আর পেরুতে গত মাসে দাবানলে অন্তত ১২ জন মারা গেছেন।
এল নিনো একটি প্রাকৃতিক জলবায়ু ঘটনা, যা সাধারণত দুই থেকে সাত বছর পরপর দেখা দেয়। প্রশান্ত মহাসাগরের পানির তাপমাত্রা অস্বাভাবিক বেড়ে গেলে বিশ্বজুড়ে বায়ুপ্রবাহ, বায়ুচাপ ও বৃষ্টির ধরন বদলে যায়, ফলে নানা অঞ্চলে খরা, বন্যা ও চরম আবহাওয়া হয়। এর তীব্রতা ও প্রভাব অঞ্চলভেদে আলাদা।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলমান চক্রটি ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী এল নিনো হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা আছে। ২০২৬ সালের শেষ দিকে এর প্রভাব সর্বোচ্চে পৌঁছানোর কথা, তবে তা ২০২৭ সাল পর্যন্ত থাকতে পারে। খরায় গবাদিপশুর এত বড় ক্ষতি দেখাচ্ছে, এল নিনো কৃষক ও পশুপালকের জন্য কতটা ঝুঁকি বয়ে আনে।
ছবি: Neil Palmer (CIAT) / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.0)
সূত্র: ইত্তেফাক





মন্তব্য
(০)