বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের প্রতীক সুন্দরী গাছ আগামরা রোগে অস্তিত্বসংকটে পড়েছে। মিষ্টি পানির প্রবাহ অনেক কমে যাওয়া ও লবণাক্ততা অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়াকে এর কারণ বলা হচ্ছে। কৃষি সময়ের খুলনা সংবাদদাতার প্রতিবেদনে একটি নতুন গবেষণার বরাতে বলা হয়েছে, এতে বনের সামগ্রিক কার্বন শোষণের সক্ষমতা ইতিমধ্যে ১৫ শতাংশ কমে গেছে।
অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল কাদির জানান, মিষ্টি পানি কমে লবণ বাড়ায় সুন্দরীর বেড়ে ওঠা ও টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। গাছের ওপরের দিকের অংশ (আগা) ধীরে ধীরে শুকিয়ে মরে যাওয়ার প্রক্রিয়াকেই আগামরা রোগ বলা হয়। দুর্বল গাছে সহজেই রোগজীবাণু, ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ হয়। এর বিপরীতে লবণসহিষ্ণু গেওয়া, বাইন ও কেওড়ার বিস্তার বাড়ছে, ফলে বনের উদ্ভিদবৈচিত্র্য বদলে যাচ্ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গবেষণায় কোথাও কোথাও সুন্দরীর জায়গায় অন্য প্রজাতির গাছের প্রাকৃতিক পুনর্জন্ম বাড়ার প্রবণতা দেখা গেছে। সুন্দরীর সংখ্যা, স্বাস্থ্য ও বিস্তারে দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন হলে বনের বৃক্ষবিন্যাস, বন্যপ্রাণীর আবাস, খাদ্যশৃঙ্খল ও অন্য উদ্ভিদের বিকাশেও প্রভাব পড়তে পারে।
সুন্দরবন উপকূলের প্রাকৃতিক সুরক্ষাকবচ, আর গাছ বাতাস থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড শুষে কার্বন জমিয়ে রাখে। পরিবেশবিদ ও বন গবেষকদের মতে, কার্বন শোষণ কমে যাওয়া তাই শুধু একটি গাছের সংকট নয়, উপকূল ও জলবায়ু ভারসাম্যের জন্যও সতর্কসংকেত। সুন্দরীর ক্ষয়, বৃদ্ধি ও পুনর্জন্মের পরিবর্তন কার্বন সঞ্চয়ে কী প্রভাব ফেলছে, তা আরও বিশদ বিশ্লেষণ দরকার বলে তাঁরা মনে করেন।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, প্রথমে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, রোগাক্রান্ত গাছের অবস্থা নিরূপণ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করা দরকার। সঙ্গে মাটির লবণাক্ততা, মিষ্টি পানির প্রবাহ, নদী-খালের নাব্যতা, পলি জমার ধরন ও প্রাকৃতিক পুনর্জন্ম নিয়ে ধারাবাহিক গবেষণা জোরদার করতে হবে। পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখা, বন ব্যবস্থাপনায় বৈজ্ঞানিক তথ্যের ব্যবহার এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোও জরুরি।
রোগাক্রান্ত গাছ ও নতুন চারার অবস্থা নিয়মিত মূল্যায়ন করা গেলে ভবিষ্যতের ঝুঁকি নিরূপণ ও সংরক্ষণ পরিকল্পনা সহজ হবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। সময়মতো উদ্যোগ না নিলে সুন্দরীর ক্ষয় দীর্ঘমেয়াদে বনের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা আরও কঠিন করে তুলতে পারে।
ছবি: Sarangib / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC0)
সূত্র: কৃষি সময়





মন্তব্য
(০)