ভূগর্ভস্থ পানিকে মহান আল্লাহর বিস্ময়কর ব্যবস্থা ও আমানত হিসেবে তুলে ধরে তা যথেচ্ছ উত্তোলন ও অপচয় না করার আহ্বান জানিয়েছেন মুফতি মুহাম্মদ আনিসুর রহমান রিজভী। দৈনিক দেশ রূপান্তরে প্রকাশিত লেখায় তিনি সুরা মুমিনুনের ১৮ নম্বর আয়াত উদ্ধৃত করেছেন, যেখানে আল্লাহ বলেন, তিনি আকাশ থেকে পরিমিত পানি বর্ষণ করে জমিনে সংরক্ষণ করেন এবং তা অপসারণ করতেও সক্ষম।
লেখক মনে করিয়ে দিয়েছেন, সুরা আম্বিয়ার ৩০ নম্বর আয়াতে প্রাণবান সবকিছু পানি থেকে সৃষ্টির কথা আছে। শুষ্ক মৌসুমে বোরো ধানসহ নানা ফসলের সেচ এই পানির ওপর অনেকটা নির্ভরশীল, তাই পানির সংকটে কৃষি উৎপাদন, খাদ্যের বাজার ও মানুষের জীবনযাত্রা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাঁর পরামর্শ, প্রয়োজনের বেশি পানি না তুলে আধুনিক ও সাশ্রয়ী সেচপ্রযুক্তি ব্যবহার করা।
বৃষ্টির পানি এবং নদী-খাল-জলাশয় থেকে চুইয়ে পড়া পানি মাটির নিচের জলাধার পূরণ করে, তবে মাটির ধরন, বৃষ্টি ও ভূমির ব্যবহারভেদে তা সব জায়গায় সমান নয়; উত্তোলনের চেয়ে পুনর্ভরণ কম হলে স্তর নেমে যায়। সুরা মুলকের ৩০ নম্বর আয়াতের প্রশ্ন, পানি ভূগর্ভে চলে গেলে কে প্রবহমান পানি এনে দেবে, তুলে ধরে লেখক অপরিকল্পিত নগরায়ণ, অতিরিক্ত সেচ ও নির্বিচারে উত্তোলনে স্তর নামার ঝুঁকির কথা বলেছেন: অগভীর নলকূপে পানি মেলে না, পাম্পের খরচ বাড়ে।
ভূগর্ভস্থ পানি মানেই নিরাপদ নয়, লেখক সতর্ক করেছেন: নানা অঞ্চলে আর্সেনিক আর উপকূলে কোথাও কোথাও অতিরিক্ত লবণ জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি, তাই পানির মান পরীক্ষা, নিরাপদ উৎস বাছাই ও দরকারমতো পরিশোধন জরুরি। পুকুর, খাল, বিল ভরাট ও দখলে পুনর্ভরণের পথ সংকুচিত হয়। এখানে তিনি সহিহ বুখারির (২৩২০) হাদিস উদ্ধৃত করেছেন, কোনো মুসলিম গাছ লাগালে বা ফসল ফলালে মানুষ, পাখি বা প্রাণী যা খায় তা তার জন্য সদকা।
সুরা আরাফের ৩১ নম্বর আয়াতে খাওয়া ও পানে অপচয় না করার নির্দেশ এবং সুরা ইসরার ২৭ নম্বর আয়াতে অপচয়কারীদের শয়তানের ভাই বলার কথা মনে করিয়ে লেখক অজু, গোসল, রান্না ও পরিচ্ছন্নতায় অপ্রয়োজনে পানি নষ্ট না করা, কল খোলা রেখে না দেওয়া, ট্যাংক উপচে পড়তে না দেওয়া এবং পানির লাইনের ছিদ্র দ্রুত সারানোর পরামর্শ দিয়েছেন।
তাঁর মতে, ভূগর্ভস্থ পানি রক্ষায় ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ, স্থানীয় প্রশাসন ও রাষ্ট্রের সমন্বিত উদ্যোগ লাগবে: বৃষ্টির পানি ধরে রাখা, পানিসাশ্রয়ী সেচ, শিল্পবর্জ্য নিয়ন্ত্রণ, জলাশয় রক্ষা এবং পানির স্তর ও মানের নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, সঙ্গে দরিদ্র মানুষের নিরাপদ পানির অধিকার। সহিহ মুসলিমের (২৬৯৯) হাদিস উদ্ধৃত করে তিনি লিখেছেন, মুমিনের কষ্ট দূর করলে আল্লাহ কেয়ামতের দিন তার কষ্ট দূর করবেন, আর মানুষের পানির সংকট দূর করাও সেই জনকল্যাণের অংশ।
ছবি: Francisco Anzola / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
সূত্র: দেশ রূপান্তর





মন্তব্য
(০)